বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

কেন বিএনপিতে যোগ্য নেতা নেই?

কাজী জহিরুল ইসলাম :   |   বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

কেন বিএনপিতে যোগ্য নেতা নেই?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন দায়িত্বশীল সরকার প্রধানের মত ঈদের আগের দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু অপপ্রচার নাকচ করে দিয়ে নিশ্চিত করেছেন এগুলো শুধুই অপপ্রচার। শুধু তাই নয় এই বিষয়ে তিনি সুস্পষ্টভাবে ‘মিথ্যা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন।

এর মধ্যে দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, একটি হচ্ছে টেকনাফের মানবিক করিডোর, অন্যটি চট্টগ্রাম পোর্ট বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া। তার এই বক্তব্যে প্রচ্ছন্নভাবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামানকেও একটা কড়া ধমক দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান ধমক খেয়েছেন দুটি বিষয়ে: প্রথমটি হচ্ছে, মানবিক করিডোর নিয়ে তার উদ্বেগ ছিল অহেতুক, তথ্যপ্রমাণহীন রাজনৈতিক বক্তব্য, এটি তিনি করতে পারেন না। অন্যটি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের যে তাগিদ তিনি দিয়েছেন সেটিও সরকারপ্রধান নাকচ করে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এই বিষয়ে তার বক্তব্য মূল্যহীন এবং এখতিয়ার বহির্ভূত।
যে কথাটি বাংলাদেশের সরকার প্রধান, বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মুখ থেকে শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, সেটি হচ্ছে নির্বাচনের একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ।

বক্তব্যের প্রায় শেষের দিকে এসে তিনি বেশ নাটকীয়ভাবেই তা প্রকাশ করলেন। টিএস এলিয়ট তার বিখ্যাত কবিতা দ্য ওয়েস্টল্যান্ডে “এপ্রিল ইজ দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ” বললেও আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই জাতীয় নির্বাচন হবে বলে ড. ইউনূস ঘোষণা করলেন। আরো সুনির্দিষ্ট করে তিনি এপ্রিলের প্রথমার্ধ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

বিএনপি-নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্রজ্ঞাহীনতা এবং অদূরদর্শিতার কারণেই তারা বুঝতে পারেননি যে ড. ইউনূস নির্বাচনের যে রোডম্যাপ “ডিসেম্বর থেকে জুন” ঘোষণা করেছিলেন সেখান থেকে কোনো নড়চড় হবে না, তিনি তার প্রতিশ্রুতি কখনোই ভঙ্গ করবেন না। বিএনপি তাকেও তাদেরই, মানে রাজনৈতিক দলগুলোর, মতো কিংবা অতীতের সেনাশাসকদের মতো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ক্ষমতালোভী মানুষ মনে করেছিল। যে কারণে প্রথমে জুনের মধ্যে, আবার কখনো তিন মাসের মধ্যে এবং পরে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন ইত্যাদি বলে সরকারকে একটা নির্বাচনী চাপের মধ্যে রাখতে চেয়েছিলেন, যা ছিল একটি বালখিল্য রাজনৈতিক কর্মসূচি।

বিএনপির প্রচুর কর্মী আছে, কারণ বাংলাদেশের মানুষ মূলত ন্যাশনালিস্ট এবং ভারত বিরোধী, এই ভাবধারার দল হিসেবে বিএনপির প্রতি দেশের মানুষের একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, দলটিকে আমি নিজেও পছন্দ করি কিন্তু এই দলে কোনো যোগ্য নেতা নেই। নেই এ-কারণে যে দলের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশের কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক একটি দল।

এই দলে এখন নানান কিছুই আছে কিন্তু কোথাও গণতন্ত্র নেই, দলের কারোরই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই। আরো একটি জিনিস ক্রমশ এই দল থেকে কর্পুরের মতো মিইয়ে যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম। বিএনপির নেতা-কর্মীদের কথা শুনলে মনে হয় তারা দেশের জন্য রাজনীতি করেন না, রাজনীতি করেন নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য আর বৃহত্তর অর্থে তাদের প্রভু-পরিবারের জন্য।

কেন এতো বড়ো একটি দলে যোগ্য নেতা নেই? যোগ্য নেতা যে নেই তার প্রমাণ হলো তারা গত ১৭/১৮ বছর ধরে সঠিক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে পারেননি। এবার বলি কেন এই দলকে নেতৃত্ব দেবার মতো কোনো যোগ্য নেতা নেই। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন যোগ্য নেতা ছিলেন, যে কারণে এটি একটি বড়ো দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তার মানে তো এই না যে জিয়াউর রহমানের পুত্রেরাও তার মত যোগ্য নেতা হবেন। তাহলে তো রবীন্দ্রনাথের ছেলে রবীন্দ্রনাথ হত, সক্রেটিসের ছেলে সক্রেটিস হত, ম্যান্ডেলার ছেলে ম্যান্ডেলা হত, ওবামার মেয়ে ওবামা হত। নেতৃত্ব কোনো বংশানুক্রমিক বিষয় নয়। এ-কারণেই রাজতন্ত্র পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে আপনাকে দেশের সবচেয়ে যোগ্য মানুষটিকেই দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে হবে, দলের সবচেয়ে যোগ্য মানুষকেই দলের নেতৃত্ব দিতে হবে। তা না হলে দল কিংবা দেশ কোনোটিই এগুতে পারবে না।

শুধু একটি পরিবার থেকেই নেতা আসতে হবে, এইরকম একটি অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং বলা যায় এটিই হয়ে উঠেছে বিএনপিসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের অলিখিত গঠণতন্ত্র, দিয়ে আজকের প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে খুব বেশি দূর এগুনো যাবে না এবং এইসব দলের প্রতি মানুষের সমর্থন অব্যাহত থাকলে দেশও ক্রমশ পিছিয়ে পড়বে। সম্ভবত বিএনপি কোনোকালেই পরিবারতন্ত্রের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না, ফলে এই দলটি আস্তে আস্তে মিইয়ে যাবে। এখন তো তথ্য মানুষের হাতের মুঠোয়, যদি দেশে ভোটের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয় তাহলে পরিবারতন্ত্রের বিনাশ নিশ্চিত।

আজকের এই লেখাটি অন্য উদ্দেশ্যে লিখতে শুরু করেছিলাম, লিখে ফেললাম বিএনপির কথা। অনেকে মনে করবেন, বিএনপির ওপর কোনো কারণে আমার খুব রাগ। প্রকৃতপক্ষে আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের একজন ভক্ত, এখন অবশ্য আমার চিন্তার দিগন্ত আরো অধিক বিস্তৃত, এখন আমি কট্টর দেশপ্রেমকেও ভয় পাই, এতে করে মানুষের সাম্প্রদায়িক চরিত্রটি বেরিয়ে পড়তে পারে। জাতীয়তাবাদ মানুষকে অতিমাত্রায়, যুক্তিহীন, দেশপ্রেমিক করে তোলে যা বিশ্বমানবতার জন্য ক্ষতিকর। বিএনপির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে বিপুল সমর্থন এটি দেশের গণতন্ত্র বিকাশে কাজে লাগুক, এটি আমি খুব চাই, তাই জাতীয়তাবাদী এই শক্তিকে ত্রুটিমুক্ত করাই আমার মূল লক্ষ্য।

এবার আসি যে কথা বলার জন্য এই লেখার অবতাড়না সেই জায়গাটিতে। আগামী এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন। আমরা নিশ্চিত একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এপ্রিলে নতুন সরকার গঠিত হবে। সেটি হবে দলীয় রাজনৈতিক সরকার। দেশের অবস্থা আবার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের মত হয়ে যাবে এই আশঙ্কা আমি করছি না, তবে বর্তমান সরকারের চেয়ে যে আবারও কয়েক ধাপ পিছিয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

নির্বাচনের আগে যে ৯ মাস সময় আছে এই সময়টাতে দেশে কিছু সাংস্কৃতিক পরিবর্তন তৈরীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ব্রিজ, কালভার্ট, সরকারী প্রতিষ্ঠান/প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী, এমপিরা, এটিই আমরা দেখে এসেছি। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা তা করছেন না, এটি একটি বড়ো পরিবর্তন, এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাই।

আপনারা আরেক ধাপ এগিয়ে যান। দেশের বিশিষ্ট মানুষদের সম্মান জানান। দেশের গুণী লেখক, কবি, সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সৎ মানুষ, শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের দিয়ে এইসব উদ্বোধন করান। সঙ্গে উপদেষ্টারাও থাকেন। দেশের মানুষকে বুঝতে দিন একজন সৃজনশীল মানুষ, একজন সঙ্গীত শিল্পী, একজন পটুয়া, একজন সৎ স্কুল শিক্ষকের মর্যাদা অনেক ওপরে।

এইভাবে সম্মান জানাবার প্যারাডাইমটা শিফট করে দিন। একটি নতুন সংস্কৃতির বিকাশ ঘটান। তাহলে মানুষ বৈধ-অবৈধ উপায়ে মরিয়া হয়ে অর্থবিত্ত অর্জনের চেয়ে সততা, সৃজনশীল প্রতিভা এবং মানবিক গুণাবলী বিকাশে অধিক মনোযোগী হবে, জাতি হিসেবেও আমরা অনেক ওপরে উঠে যাবো।

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ৬ জুন ২০২৫

Posted ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9324 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.