বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদ

কাজী জহিরুল ইসলাম :   |   বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদ

সংবিধান সংস্কার না করলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না, তাই আমার খুব আশঙ্কা ছিল এই সরকার শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার বা ২০২৪ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপযোগী একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের কাজে হাত দেবেন তো? নাকি তারা কাজটা সাংবিধানিক হবে কিনা এই দ্বিধায় পড়ে এগুবেন না। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ডয়েচে ভেলের সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎকার দেখে আস্বস্ত হলাম।

জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র-জনতা সরকারের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে যতদিন সক্রিয় থাকবে ততদিন আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। এবং যে কোনো ভাবেই হোক দেশে বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন সকল বাংলাদেশিকে ছাত্র-জনতার পাশে থেকে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান রকম বক্তব্য আসছে সংবিধান সংস্কার নিয়ে। এসবের অধিকাংশই ট্রল, গঠনমূলক সমালোচনা তেমন নেই বললেই চলে। আমি বলবো, চলুক ট্রল, চলুক সমালোচনা। ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আমরা কারো মুখ চেপে ধরবো না। যে যা বলতে চায়, নির্ভয়ে বলবে। যদি তা যুক্তিসঙ্গত হয়, যদি তা দেশের জন্য কল্যাণকর হয় আমরা গ্রহণ করবো, অন্যথায় আমলে নিব না। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা যাতে মানুষ ন্যায়সঙ্গত আলোচনা/সমালোচনা গ্রহণ করে। ভুল কথা বলার জন্য, ট্রল করার জন্য আমরা কাউকে আক্রমণ করবো না।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমান সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, তিনি দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, সংসদে উচ্চকক্ষের বিধান রাখা, আর্টিকেল ৭০ এর সংশোধনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছেন। এটা তো প্রায় নিশ্চিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপিই বিজয়ী হবে এবং তারাই সরকার গঠন করবে। সেই দলটিই যখন সংবিধানের এই প্রধান সংস্কারগুলোর পক্ষে মত দিয়েছে কাজেই কাজটি এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেল।

তবে তারেক রহমান পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান হতে পারবেন না বলেছেন, আমি মনে করি বিরতি দিয়েও কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। এই বিধান দেশে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাবে। শুধু রাষ্ট্রে নয়, নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যেও এই বিধান রাখতে হবে। দলের নেতৃত্বে যদি নতুন কেউ আসার সুযোগ না থাকে তাহলে মেধাবী এবং সৎ মানুষেরা রাজনীতিতে আসবে না।

রাজনীতিতে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে হয়। এই মুহূর্তে তারেক রহমান সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে তিনি এক ঢিলে দুই নয়, তিন পাখি মেরেছেন। জনতার ভাইভ বুঝতে পেরে গণমানুষের মনের কথা, যা একটি ন্যায়সঙ্গত দাবী, তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে দলের প্রতি মানুষের এবং তৃণমূলের কর্মীদের আস্থা বেড়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে আশ্বস্ত করলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এইসব সংশোধন সংসদে পাস করে নেওয়া হবে। সেজন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে, সেই পরিমান সাংসদ যেন সরকারী দলের থাকে সেই লক্ষ্যে পরোক্ষভাবে সকলের সহযোগিতা চাইলেন। তৃতীয়ত, সত্য, মিথ্যা যাই হোক জনমনে একটা ‘হাওয়া ভবন’ তিক্ততা আছে, ভীতি আছে। তার নমনীয় এবং জনবান্ধব বক্তব্যের ফলে মানুষের সেই তিক্ততা কিছুটা হলেও কেটে যাবে, তবে তাকে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রকৃতপক্ষেই গণমানুষের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে, শুধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, লুৎফুজ্জামান বাবরের মতো অল্প কিছু মানুষের বন্ধু হলে চলবে না।

নাহিদ ইসলাম নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলেছেন, শুধু আজ নয়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নূর, যার হাত ধরেই আসিফ, নাহিদরা আন্দোলনে এবং রাজনীতিতে এসেছেন, তিনিও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বহুবার বলেছেন। কিন্তু কি সেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত? সত্যের রাজনীতি, ন্যায়ের রাজনীতি, কল্যাণের রাজনীতি, গণমানুষের রাজনীতি, গণতন্ত্রের রাজনীতি এইসব নীতিবাক্য আমরা জনসভায় তো সব সময়ই বলি। বৈষম্য বিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি। কিন্তু কীভাবে তা করা সম্ভব? রাষ্ট্রব্যাবস্থার আমুল সংস্কারের মধ্য দিয়ে তা করতে হবে। সর্বত্র সততা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি একটি বিশাল ও চলমান কর্মযজ্ঞ।

আমরা নানান কথা বলবো, নানান ফর্মূলা দিব। এসবের মধ্য দিয়েই সংস্কারের সঠিক পথটি বেরিয়ে আসবে। নির্বাচন ও সংসদে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তে সারা দেশের মানুষের প্রত্যেকের ভোট গুরুত্বের মধ্যে এনে সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করা যেতে পারে। এই বিষয়ে আমি বিশ বছর আগেও লিখেছি, আরো কেউ কেউ লিখেছেন, আজ আবার লিখছি। প্রত্যেকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩০০ জন প্রার্থীর তালিকা দেবেন। এই ৩০০ জন মনোনীত হবেন ৩০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে। নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক দলকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।

ভোট হবে প্রতীকে, কোনো ব্যক্তির নামে নয়। একটি দল যদি সারা দেশ থেকে ২০% ভোট পায় তাহলে সেই দল সংসদে ৬০টি আসন পাবেন। এই ষাটজন তাদের জমাকৃত তালিকার প্রথম ষাটজন হবেন। তবে ৫০ শতাংশ তালিকাক্রম থেকে বাকি ৫০ শতাংশ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও হতে পারে। এভাবে সকল দলের মধ্যে আসন বন্টন করা হবে। সাংসদেরা স্থানীয় কোনো বরাদ্দ পাবেন না। স্থানীয় উন্নয়নে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। তারা হবেন রাষ্ট্রের আইন প্রণেতা। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র একটি কার্যকর লেজিসলেটিভ বডি পাবে। জাতীয় আইন পরিষদ নামে একটি উচ্চকক্ষ থাকতে পারে। সেটি কীভাবে গঠন করা হবে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়ই মতামত দেবেন।

ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

Posted ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9325 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.