| বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে আরও বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে ভারতকে যে শর্ত পূরণের জন্য বলা হয়েছে, তা যথার্থ এবং সঙ্গত হয়েছে। অপরদিকে ভারতের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা ভারতের সাবেক কূটনীতিকবৃন্দ, এমনকি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন কিছু সংখ্যক কূটনীতিক, যারা ইতোমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন, তাদের সাক্ষাৎকার সমৃদ্ধ বক্তব্য ব্যবহার করে এমনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে যে, বাংলাদেশের মতো একটি দেশের পক্ষে কি করে সাহস হয় ভারতকে যেকোনো ধরনের শর্ত আরোপ করার!
অনেকে প্রকারান্তরে এমন কথা বলতে চেষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত এবং অবিজ্ঞতাপ্রসূত। এর জন্য বাংলাদেশকে চড়া মূল্য নিতে হতে পারে। যাহোক, এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ বলে বিবেচনা করছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবর্তন চুক্তি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীর দ্রুত ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
বাংলাদেশের এই বক্তব্য অতি সহজ, ঋজু, দ্ব্যর্থহীন এবং যৌক্তিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ও সরকার বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বেশি টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তাতে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করবেন, এমন তথ্য জানার পর বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছিল তারা যাতে শেখ হাসিনাকে এধরনের কাজ থেকে নিবৃত্ত করে। দুঃখজনক হলো, বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ভারত। এরপর বাংলাদেশ এ ব্যাপারে একটি কঠোর বিবৃতি দিয়েছে, যাতে বাংলাদেশের যথার্থ ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা এবং তার অনুসারীরা বাংলাদেশ ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিষবাষ্প উদগীরণ করেছেন। যেদিন বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, ঠিম সেদিন ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শাহীদদের প্রতি মারাত্মক অবমাননা। বলা বাহুল্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পূর্বশর্তবিষয়ক বিবৃতি বর্ণিত বিবৃতির ধারবাহিকতা মাত্র। এর আগে দুই দশক ধরে বাংলাদেশ সরকার পররাষ্ট্রনীতির নামে দাসসুলভ আচরণ করেছে। দু’দেশের সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছে। এমন কথাও বলছে, ভারত পক্ষে থাকলে বাংলাদেশের আর কোনো দেশের প্রয়োজন নেই। শুধু পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেই নয়, সকল ক্ষেত্রেই নতজানু নীতি অবলম্বন ও অনুসরণ করা হয়েছে।
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের দাস ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা ফিরে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস দেখিয়েছে। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির যে পূর্বশর্তগুলো বাংলাদেশের পক্ষে দেয়া হয়েছে, তা প্রতিপালনের দায়িত্ব সর্বাংশে ভারতের। এছাড়া ভারতকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, বিগ ব্রাদারসুলভ আচরণ পরিহার করতে হবে এবং সার্বভৌম সমতা ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ নীতির মান্যতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, এসব শর্ত পূরণের ব্যাপারে ভারত সদিচ্ছা ও যথাযথ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।
Posted ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh