বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর : ইস্তাঁবুলের হিসারি দূর্গ

কাজী জহিরুল ইসলাম :   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর : ইস্তাঁবুলের হিসারি দূর্গ

হিসারি শব্দের অর্থ হলো দূর্গ। সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের পুত্র সুলতান দ্বিতীয় মেহমেত সিংহাসনে আরোহন করেই রুমেলি দূর্গ তৈরি করার নির্দেশ দেন। বাইজেন্টাইন শাসকদের হাত থেকে ইস্তাঁবুল করায়ত্ত করার যুদ্ধে সুলতান মুরাদ সফল হননি কারণ তার সৈন্যদল বসফরাসে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। এই অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ সুলতান মেহমেত অনুধাবন করেন বসফরাস যেখানে সবচেয়ে সরু এবং ইউরোপের যে অংশে উঁচু পাহাড় আছে সেই অংশের চূড়োয় একটি বিশাল দূর্গ তৈরি করে বসফরাসের নিয়ন্ত্রণ কব্জা করতে হবে। তাহলেই কেবল বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপল দখল করা যাবে।

সুলতান মেহমেত নিজেই এই দূর্গ নির্মাণের কাজ তদারকি করেন। ১৪৫১ সালে সিংহাসনে বসে দূর্গ নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং ১৪৫২ সালে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। রুমেলি হিসারি বা রুমেলি দুর্গের ঠিক উল্টোদিকে, এশিয়া অংশে আগে থেকেই ছিল আনাদোলুহিসারি বা আনাতলিয়া দূর্গ। দুই দিক থেকে মেহমেত-বাহিনীর গোলন্দাজ ও তীরন্দাজরা মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে বাইজান্টাইনদের বসফরাসের জলপথে কোনো সুবিধাই করতে দেয়নি।

ফলে ১৪৫৩ সালে সুলতান মেহমেত কনস্টান্টিনোপল দখল করেন এবং এর নতুন নামকরণ করেন ইস্তাঁবুল। যদিও অফিশিয়ালি ইস্তাঁবুল নামকরণ চূড়ান্ত হতে অপেক্ষা করতে হয় আরো ৪৭৭ বছর। ১৯৩০ সালের ২৮ মার্চ চূড়ান্তভাবে শহরটির নাম হয় ইস্তাঁবুল। তুরস্ক সরকার আন্তর্জাতিক পোস্টাল সার্ভিসকে কড়া বার্তা দেয়, কেউ যদি ঠিকানায় ইস্তাঁবুল না লিখে কনস্টান্টিনোপল লেখে তাহলে তার চিঠি প্রাপকের কাছে পাঠানো হবে না। এভাবে ইস্তাঁবুল নামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

আমি এখন হিসারি দূর্গের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দূর্গটি মেরামতের কাজ চলছে বলে ভেতরে ঢুকতে পারছি না। দূর্গের পায়ের কাছে কাঠের বেঞ্চে বসে হেডফোন কানে লাগিয়ে গান শুনছিল এক তরুণী, আমার ব্যাপক আগ্রহের কথা জেনে মেয়েটি দূর্গ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিতে এগিয়ে এলো। জানালো, যদি আপনি ওপরে যেতে পারেন তাহলে দেখতে পাবেন আর্কিটেকচারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আকাশ থেকে দেখলে মেহমেত লেখা দেখা যায়। তথ্যটি জেনে তুর্কিদের জ্ঞানের তারিফ না করে পারছি না। বিমান আবিস্কারের ৫০০ বছর আগেই ওরা আকাশ থেকে কল্পনার চোখ দিয়ে দেখতে পেয়েছিল নিজেদের গৌরবের ইতিহাস। দূর্গের বাইরে উত্তর-দক্ষিণে ৮২০ ফুট পর্দার মত দেয়াল টানা আছে। দূর্গ কমপ্লেক্সের মোট আয়তন ৩,৩৬,৩৭২ বর্গফুট। পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত হওয়ায় বসফরাসের পাড় থেকে দূর্গবৃত্তটি পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এই পথ দিয়ে কেউ হেঁটে যাবে কিন্তু রুমেলি দূর্গের দিকে ঘুরে তাকাবে না এমনটি হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ফিটবিটের ঘড়িতে চোখ রেখে দেখি ইতোমধ্যেই ১৭ হাজার পদক্ষেপ হাটা হয়ে গেছে, যা প্রায় ৮ মাইল। পায়ের পাতায় ব্যাথা হচ্ছে। এটা অবশ্য বেশি হাঁটার কারণে নয়, আমি এর চেয়ে অনেক বেশি হেঁটে অভ্যস্ত, ব্যথাটা হচ্ছে চামড়ার ফরমাল জুতো পরে হাঁটার কারণে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট জুতো না পড়ে হাঁটলে যে পায়ের ক্ষতি হয়, এই জ্ঞান আমার হয়েছে খুব অল্প দিন আগে।

ফেরার পথে ট্যাক্সি পাবো তো? সূর্য ডোবার কাল সমাগত। অন্ধকার হয়ে গেলে যদি ট্যাক্সি না পাওয়া যায় তাহলে এই পাহাড় ঠেলে আমি লে মেরিডিয়ান হোটেল অব্দি কিছুতেই যেতে পারবো না। আশঙ্কার দোলায় দুলতে দুলতে উল্টোদিকে হাঁটতে শুরু করি। বেবেকের কেন্দ্রে এসে খুব নিম্নচাপ অনুভব করি। লোকজন নেই, সুনশান একটি রেস্টুরেন্ট। দীর্ঘদেহী দুই যুবতী নারী কাস্টমার ধরার জন্য দরোজায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাছে যেতেই অভিবাদন জানিয়ে ভেতরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানালো। কোনো দিকে না তাকিয়ে আমি ধা ধা করে ঢুকে পড়লাম। মেয়ে দুটি ভেবে থাকবে, আমি যারপরনাই ক্ষুধার্ত। দুজনই আমার সঙ্গে ভেতরে ঢুকলো। একজন মেন্যু নিয়ে এলো, টেবিল দেখিয়ে বসতে বললো। যত দেশ ঘুরি, যত আধুনিকই হই, এখনো একজন নারীর কাছে টয়লেটে যাবার আগ্রহ জানাবার ক্ষেত্রে সাবলিল হতে পারিনি। একটু ঘুরিয়ে বলি,

তোমাদের ওয়াশরুমটা কোনদিকে?

দুজনের মধ্যে যিনি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এবং স্মার্ট তিনি তার লম্বা পায়ে হেঁটে হেঁটে রেস্টুরেন্টের একেবারে পেছনে, গলিটলি পার হয়ে, আমাকে বাথরুমের কাছে নিয়ে গেলেন।বাথরুম থেকে ফিরে এসে ভাবছি, হোটেলে আমার জন্য কমপ্লিমেন্টারি ডিনার অপেক্ষা করছে, এখানে খেতে বসা কী ঠিক হবে? এই রেস্টুরেন্টে আর কোনো কাস্টমার নেই, মেয়ে দুটির পুরো অ্যাটেনশন এখন আমার দিকে। কী করে বেরিয়ে যাই। ভাবলাম ওদের সঙ্গে একটু আলাপ জমাই। ট্যুরিস্ট এলাকা, ওরা নিশ্চয়ই এইসব উটকো ঝামেলায় অভ্যস্ত। আমি লে মেরিডিয়ানের বিজনেস কার্ড বের করে একজনকে দেখাই, কী করে যাবো বলো তো? ওরা দুজন নিজেদের মধ্যে কথা বললো, তারপর একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ডিনার করে তারপর যাবেন?

আমি বলি না, এখনই যাবো। হোটেলে ডিনার করবো।

তখন একজন, যে মেয়েটি কম দীর্ঘ এবং যার লম্বা কালো চুল উড়ছিল, সে আমাকে ইশারা করে রাস্তায় নেমে এলো। ছোট্ট একটু জায়গা, যেখানে বেশ কিছু বাইক পার্ক করা, সেখানে দাঁড়ালো। মিনিট তিনেকের মধ্যেই একটি হলুদ ট্যাক্সি এসে ওখানে থামলো, মেয়েটি চালকের সঙ্গে কথা বলে, আমাকে উঠতে বলল। আমি ওকে ধন্যবাদ দিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে পড়লাম। এই রেস্টুরেন্টের মেয়ে দুটি খাঁটি তুর্কী, ইংরেজি ততটা ভালো জানে না, কিন্তু অমায়িক ব্যবহার এবং ভীষণ পরোপকারী। ইস্তাঁম্বুলে আজই এলাম, এখন পর্যন্ত যতটা দেখেছি, যতজনের সঙ্গে কথা বলেছি, আমার এই উপলব্ধি হয়েছে এই শহরের মানুষ খুব বন্ধুবৎসল।

ঠিক ছটায় চৌদ্দ তলার ক্লাব লাউঞ্জে গিয়ে টের পাই এক্সেসের মানে কী। এই লাউঞ্জটিতে ঢুকতে হলে কার্ড পাঞ্চ করে দরোজা খুলতে হয়। যার কার্ড দিয়ে দরোজা খুলবে তাকে আর কেউ কোনো প্রশ্ন করবে না, কোনো ভাউচারেও সাইন করতে হবে না। বুফে থেকে ইচ্ছেমত খাবার নিয়ে খেতে পারবে।

ছোট্ট লাউঞ্জ, খুব বেশি অতিথি নেই। ডুপ্লেক্স লাউঞ্জের নিচতলায় খাবারের পশরা, ওপরতলায় এবং খোলা বারান্দায় অধিকাংশ বসার ব্যবস্থা, নিচলায় অল্প কিছু চেয়ার-টেবিল, বেশিরভাগ বসার টেবিল দোতলায়। বারান্দায়, খোলা আকাশের নিচে, বসলে বসফরাসের ওপর নির্মিত তিনটি ঐতিহাসিক সেতুর সবগুলোই দেখা যায়। বসফরাসের ওপারে জলের সমতল থেকে ধীরে ধীরে ওপরে উঠে যাওয়া এক টুকরো এশিয়া মহাদেশও দেখা যায়। ওখান থেকেই সুলতান মেহমেত তার দলবল নিয়ে বহু কৌশল খাটিয়ে বসফরাস পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢুকে পড়েছিলেন এবং কনস্টান্টিনোপল জয় করে এই শহরের নাম রাখেন ইস্তাঁবুল

মশুরের ডাল দিয়ে আরব দেশের লোকেরা একটা স্যুপ তৈরি করে। অটোমান সাম্রাজ্যের কলোনিগুলোতেও এই স্যুপ খেয়েছি। দীর্ঘ সময় শুধু লবন আর পানি দিয়ে ডাল জ্বাল করে লিন্টেন স্যুপ তৈরি করা হয়। অন্য কোনো মশলা দেয়া হয় না। ডালের স্যুপ নিলাম এক বাটি। কলিজা ভূনা, মুরগির ব্রেস্টের বিশেষ প্রিপারেশন, শব্জির তরকারি আর শাদা ভাত নিলাম। নানান রকমের পনির এবং সালাদ আছে, মিষ্টান্ন এবং ফলমুল আছে প্রচুর, হার্ড ড্রিংকও আছে। আমি হার্ড ড্রিংক ছেড়ে দিয়েছি দুই বছর আগে। ওই বস্তু এখন আর আমাকে টানে না।

দুই উর্বশী তুর্কী তরুণী আজ সন্ধ্যায় ক্লাব লাউঞ্জের দায়িত্বে আছে। ওরা কাউকে সার্ভ করছে না ঠিকই কিন্তু সতর্ক দৃষ্টি রাখছে প্রত্যেকের ওপর। অদ্ভুত এক দক্ষতায় ওরা অতিথির চোখ দেখেই বুঝে ফেলছে কোন অতিথির কী চাই। আমি খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে ডানে-বাঁয়ে তাকাচ্ছিলাম তখনই ছিপছিপে মেয়েটি, কুড়ি বাইশের বেশি বয়স হবে না, একটি পানির বোতল নিয়ে অতি নীরবে এবং উটপাখির গতিতে ছুটে এলো। মুখে কোনো কথা নেই কিন্তু একটি মিষ্টি হাসির পুষ্প বিকশিত হলো ওর ঠোঁটে। আমার দিকে পানির বোতলটি বাড়িয়ে রেখেছে বালিকা। আমিও একটি কৃতজ্ঞতার হাসি উপহার দিয়ে বোতলটি ওর হাত থেকে তুলে নিলাম।
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।

মেয়েটি ‘ওয়েলকাম’ জাতীয় কোনো সৌজন্যতামুলক শব্দ উচ্চারণ করলো না ঠিকই কিন্তু ওর উদ্ভাসিত হাসিই বুঝিয়ে দিল আমার দেয়া ধন্যবাদটি ও সানন্দে গ্রহণ করেছে।

মেয়েটি নিশ্চয়ই বোবা নয়। ওকে কথা না বলিয়ে আমি টেবিলে বসছি না।

কোথায় বসি বলো তো? বাইরের ভিউটা দারুণ। বসফরাস দেখা যাচ্ছে কিন্তু হালকা ঠাণ্ডা আছে। তোমার কী মনে হয়, বাইরে বসা ঠিক হবে? আপনি তো পাতলা জামা গায়ে দিয়ে এসেছেন, একটা হালকা জ্যাকেট হলে ভালো হত।
তাহলে বরং ঝুঁকি না নিয়ে ভেতরেই বসি, কি বলো? আমিও তাই মনে করি।

ওপরে বসবো না-কী নিচে?আমি প্লেটসহ হাতটা তুলে ডুপ্লেক্সের নান্দনিক সিঁড়িটা দেখাই।
ও বলে, সিঁড়ি ভাঙতে আপনার যদি আপত্তি না থাকে তহলে ওপরে যেতে পারেন। ওখান থেকে ভালো ভিউ পাবেন। বেশ তাই যাচ্ছি। ডেজার্ট টেবিলের দিকে ইঙ্গিত করে মেয়েটি বলে, ডেজার্ট নেবেন? আমি আপনার জন্য নিয়ে আসতে পারি। তাহলে তো বেশ হয়। বারবার উঠানামার ঝামেলা থেকে বাঁচি।

আমি সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালাম না। অপেক্ষা করলাম এবং ওকে দেখিয়ে দিলাম আমি কী কী ডেজার্ট নিতে চাই। একটি ছোট্ট কাচের গ্লাসে মিহি ক্ষীর কিংবা তিরামিজু ধরণের মিষ্টান্ন, ভিন্ন ভিন্ন রঙের বেশ কয়েকটা লেয়ার তাতে। ওপরে চকোলেটের গুড়ো ছড়ানো। ওটা নিলাম, কেটে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ফলের প্লেট থেকে কয়েক টুকরো ফল, কিছু ওয়ালনাট আর চিজ। আমার নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়েটি সবকিছু নিয়ে দোতলার সিঁড়িতে পা রাখলো, আমি ওকে অনুসরণ করলাম।

চমৎকার কালো রঙের কাঠের টেবিল। টেবিলের ঠিক মাঝখানে দেড়ফুট ওপরে ঝুলে আছে মিনি ঝাড়বাতি। মেয়েটি ডেজার্টের প্লেট নামিয়ে রেখেই একটি ইলেক্ট্রিক ক্যান্ডেল অন করে টেবিলে, খাবারের প্লেটের পাশে রাখল। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার। পাশের টেবিলগুলোতেও বিভিন্ন বর্ণের অতিথি। দুটি টেবিলে দম্পতি, অন্যগুলোতে কোথায় তিনজন, চারজন আবার কোথাও দুজন, আমার মতো একা বসেছে এমন কোনো টেবিল চোখে পড়ল না।
মেয়েটি যখন ইলেক্ট্রিক ক্যান্ডেল অন করে টেবিলে রাখছিল তখন ওর নাম জিজ্ঞেস করি। ও জানায়,
জেসমিন।
জেসমিন!
আমি অবাক হই।
এটা তো তুর্কী নাম নয়।

আসলে আমার নাম ইয়াসমিন। বন্ধুরা অনেকেই জেসমিন বলে ডাকে। আপনাদের মত বিদেশিরা ইয়াসমিনের চেয়ে জেসমিন উচ্চারণটাই ভালো করেন বলে জেসমিন বললাম। তুমি ভুল করেছ। আমি বরং জেসমিনের চেয়ে ইয়াসমিনই ভালো উচ্চারণ করতে পারি কারণ এই নামটি আমার দেশেও প্রচুর আছে, অবশ্য জেসমিন নামটাও আজকাল আমার দেশে বেশ প্রচলিত। গ্লোবাল ভিলেইজের যুগ। বাই দ্য ওয়ে তুমি নিশ্চয়ই তোমার নামের অর্থ জানো।

নিশ্চয়ই। শুধু অর্থ কেন আরো অনেক কিছুই জানি।
তাই নাকি? হ্যাঁ। ইয়াসমিন নামটির উৎপত্তি পারস্যে। এর অর্থ সুগন্ধি। তুরস্কেও বহু মেয়ের নাম ইয়াসমিন। বেশ। ইয়াসমিন, আমার ডিনার শেষ হলে এক কাপ তুর্কী চা খেতে চাই। চা হবে তো?
নিশ্চয়ই হবে। চা, কফি, কাপুচিনো সবই হবে। আমি আপনার জন্য চা নিয়ে আসবো।

ইয়াসমিন চলে গেলে আমি খাওয়ায় মনোযোগ দিই এবং লেখক জীবনের প্রতি মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ থেকে দুই দশক আগে একবার কবি আল মাহমুদ আমাকে বলেছিলেন, জহির, এ-জীবনে যা কিছু অর্জন সব তো কবিতার জন্যই। আমিও মনে মনে ভাবছি, আমার মত কত জাতিসংঘের অফিসার পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়ায়। কে তার খবর রাখে। আজ যে সম্মান পেলাম ইস্তাঁবুলের লে মেরিডিয়ান হোটেলে তা তো লেখক হবার জন্যই। এই লেখক জীবন মোটেও তুচ্ছ নয়।

হলিসউড, নিউইয়র্ক।
৩০ অক্টোবর ২০২৫

Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9324 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.