আবু জাফর মাহমুদ : | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ এবং ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার পৈশাচিক পথে পরস্পরের বন্ধন কেবল আঞ্চলিক কোন বন্ধুত্ব নয়।প্রভুর পায়ে দাসের আনুগত্যে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সমর্পণের অংগীকার শর্তে। বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট সরকার এবং ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক সরকার মিলেই একত্রে মুখোশ পরা অপ্রচলিত যুদ্ধ ধারার বিরুদ্ধে নিরন্তর ষ্ট্র্যাটেজিক যুদ্ধ। বাস্তবে অসম্ভব এক অসম যুদ্ধ।যেখানে রাজনৈতিক সরকার এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি নিজেই সারেন্ডার করে আছে।
এই দীর্ঘ প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয় পর্যন্ত ধৈর্য রাখার লাগে অতুলনীয় নৈতিক মুরোদ। একাত্তর থেকে চব্বিশ এবং আরো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।আমৃত্যু যুদ্ধে থাকা।একমাত্র লক্ষ্য স্বদেশের সর্বোচ্চ মর্যাদা,পুর্নাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জন। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়া দেশপ্রেমিকদের যথাযথ মর্যাদা দেয়ার আশা না করেই রাজনৈতিক দলীয় র্তৃপক্ষদের বিষয়ে স্পষ্ট বলতে পারি, মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মর্যাদা দেয়ার প্রশ্নে তারা আগ্রহী হবার ঐতিহ্য বাংলাদেশে নেই। কেনো নেই তাও সবাই দেখেছি স্বদেশে।
একাত্তর থেকে দেখে এসেছি এই রাজনৈতিক রোগ ঢেউ তুলেছে বিস্তৃতির।
আবার চব্বিশে জুলাইয়ের পর থেকেও দেখে আসছি পুনরাবৃত্তি রাজনৈতিক পরিবেশে। প্রথমত: রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভয় মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব এসকল কাপুরুষ নেতার পদবীর মর্যাদাকে ছাড়িয়ে যায়। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বেলায় কাপুরুষ বংশীয় গোপন স্বৈরাচাররাও ভয়ে থাকে নিজেদের একই অক্ষমতার কারণে। চব্বিশো প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্বকারী এবং যুক্ত হওয়া দেশপ্রেমিকরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে জননন্দিত হয়েছেন। এনজিও সংগঠক এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো আন্দোলনের গণজোয়ার গড়েছেন।
প্রশিক্ষণ পাওয়া ছাত্ররা ছাত্রছাত্রীদেরকে এবং কিশোর কিশোরীদেরকে প্রতিরোধ কাফেলা অগ্রসর করার জোয়ারে ঢেউ প্রবাহে প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত দৃঢ়তা চালু রেখে প্রতিরোধ যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষ্য অর্জনে কৃতিত্ব পেয়েছেন। এই গণআগ্নেয়গিরির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাবাহিনীর সামরিক সমর্থন যুক্ত করাটা ছিলো অরক্ষিত বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ পরাধীনতার আনুষ্ঠানিকতা থেকে রক্ষা করে স্বাধীন রাষ্ট্রের পূর্ণ মর্যাদার দুয়ার খুলে দেয়া। সিকিম ষ্টাইলে ভারতের রাজ্যে রূপান্তর ব্যর্থ করা। লেন্দুপ দর্জির প্রেতাত্মাদের ভারতে পলায়ন এবং ছদ্মবেশী যুদ্ধ নিষ্ক্রিয় করে দেয়া।
অনিবার্য পরাধীনতার পরিণতির কবল থেকে রক্ষায় বাংলাদেশের পাশে সকল আঞ্চলিক সামরিক মিত্রদের ষ্ট্র্যাটেজিক সহায়তা ছিলো অবিস্মরণীয়। রক্তপাত এড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বশক্তির যথাযোগ্য অবস্থান ছিলো আমেরিকা সম্পর্কে বাংলাদেশী কাপুরুষ রাজনৈতিক নেতাদের বিভ্রান্তির মাথায় বজ্রপাত। ঐতিহাসিক একুশের ৫ই আগষ্টে বিজয় শেষে সব লেন্দুপরা মরেনি, হয়নি নিশ্চিহ্নও। লেন্দুপদের বিলোপ হয়না।ওরা অন্য লেন্দুপদের সাথে থাকে জড়াজড়ি করে।
একে অপরের সাথে সামাজিক সম্পর্কে এবং এমনকি পারিবারিক আত্নীয়তায়। রাজনৈতিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে দেশ-জাতি লুন্ঠন এবং দখল নিয়ন্ত্রণে ওপারের প্রভুর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশে আত্নঘাতি চালু রাখায়। তখনও দায়িত্ব একই। নিরন্তর যুদ্ধ পরাধীনতার বিরুদ্ধে। অবিরাম যুদ্ধ লোভ প্রতিরোধে। অব্যাহত যুদ্ধ মোদের, সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থায় থাকার। লেন্দুপদের রাজনীতি পরাধীনতার সমর্থনে স্বাধীনতা। এমনকি লেন্দুপদের সাথেও হবে বসবাস একই দেশে এবং অন্যত্র। তবে রাষ্ট্র রক্ষা ও জন নিরাপত্তায় কাউকেই নেই কোন ছাড়।
Posted ১২:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh