চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রায় ১০ বছর আমি দেশের বাইরে। কেউ দেশে যাওয়ার কথা বললে বলতাম বাংলাদেশ স্বাধীন হলে যাব। বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। যখন দেশে যাওয়ারে কথা ভাবছিলাম তখন দেখলাম দিপু চন্দ্র দাসের ওপর পাশবিক নির্যাতন। আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। এই বাংলাদেশ তো আমি রেখে আসিনি। এই প্রজন্মকে আমি চিনিনা। কি করব দেশে গিয়ে। একটা জলজ্যান্ত মানুষকে মেরে পুড়িয়ে দিচ্ছে। সবাই আনন্দ করছে। জলন্ত মৃতদেহকে পেটাচ্ছে। পৈশাচিক আনন্দে মেতে ওঠেছে সবাই। একটা লোকও প্রতিবাদ করছে না। আমি কি এই বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য উতলা হয়ে ওঠেছিলাম। আমি কি আমার ছেলেমেয়েকে এই নারকীয় পরিবেশে বড় করব। ওরা ওখানে কি শিখবে। বাংলাদেশে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়। আজকে এক হিন্দুকে মেরেছে। কাল মুসলমান মুসলমানকে মারবে।
এই নৃশংসতা আমি আগে দেখিনি। যারা দীপু চন্দ্র দাসের মৃতদেহ পুড়িয়ে উল্লাস করছিল ওদের বেশীরভাগই ছিল টিন এজার। অবাক হয়ে দেখলাম এই বয়সেই ওরা এতটা নৃশংস হয়ে ওঠেছে। কেন এমন হয়েছে। মানুষ মেরে পুড়িয়ে ফেলার সংস্কৃতি তো আমাদের না। এটা হিন্দুদের সংস্কৃতি। ভারতে এক সময় সতীদাহ প্রথার নামে জীবন্ত মেয়েদের পুড়িয়ে মারত। এক সময় দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে নরবলী দেওয়া হত (ভারতে এখনও মাঝে মাঝে হয়)। কিন্তু আমরাতো এর অনুসারী নই। কয়েকদিন আগে এক ব্যাক্তির মৃতদেহ কবর থেকে তুলে জালিয়ে দিয়েছে এক দল মুসলমান। এটা তো ইসলামের রীতি নয়। তাহলে এই অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে আসল কোথা থেকে।
ভারতীয় অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের সাথে সাথে বাংলাদেশে এই ধরনের আচরনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা ভারতের যা কিছু দেখে সবকিছুই অন্ধভাবে অনুসরন করে। তারা ভারতীয়দের অনুকরনে বাংলা ভাষাটাকেও বদলে ফেলতে চাইছে। আমরা সারা জীবন শুনে এসেছি পররাস্ট্রমন্ত্রী। ভারতের অনুকরনে এখন কিছু পত্রিকা লিখছে বিদেশ মন্ত্রী। আমরা বলতাম মন্ত্রনালয়। ওরা লিখছে মন্ত্রক। এরকম অনেক আছে। এক সময় বাংলাদেশের মানুষ উর্দু ভাষাকে ঘৃণা করত। কেউ উর্দু বলতে বলত মাওরাদের ভাষা।
এখন এই উর্দুরই আরেকটি সংস্করন হিন্দী বলতে পারলে গৌরব বোধ করছে। এসব কিছু হয়েছে হিন্দী ছবি দেখার কারনে। ভারতে হিন্দী ছবি বাংলাদেশে একসয় ভিসিআরে দেখানো হত। এখন সেটেলাইট টিভি ও ইউটিউবে দেখা যায়। ভারতের ছবি ও নাটকে যে সব উদ্ভট গল্প দেখানো হয় এগুলি আমাদের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। এর ফলে অপসংস্কৃতির প্রসার ঘটছে। তাছাড়া ভারতীয়রা যেভাবে পত্রপত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিষোদগার করছে তাতে বাংলাদেশে এক ধরনের ভারত বিরোধীতা তৈরী হচ্ছে। প্রতিদিন ভারতের কোথাও না কোথাও মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে হিন্দু মরলে ভারতীয়রা যেমন কস্ট পায়, ভারতে মুসলমান মরলে বাংলাদেশের মুসলমানরা কস্ট পায় না। বাংলাদেশের মুসলমানরা যখন দেখে তাদের প্রতিবেশী হিন্দুরা সেই নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করছে এটা কি তাদেরকে পীড়া দেয়না। যখন দেখে কিছু হিন্দু বাংলাদেশে তাদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে যায় আর ভারতে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেয় বাংলাদেশে নির্যাতিত হয়ে ভারতে চলে এসেছে এসব কি বাংলাদেশের মুসলমানদের পীড়া দেয়না। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষদের মধ্যে এক ধরনের হিন্দু বিদ্বেষ তৈরী হতে পারে। ভারতীয়রা যে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ কতক্ষন সহ্য করবে। এক সময় বিস্ফোরন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। মানছি এমনটা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু মানুষ রোবট নয়। তাদের আবেগ আছে, ভালোবাসা আছে. ঘৃণা ও ক্ষোভ আছে। তাই বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হোক।
এমনকি সোশাল মিডিয়ায়ও ব্লক করে দেওয়া হোক। তারা যাতে বাংলাদেশের মানুষকে উত্তেজিত করতে না পারে। দিপু দাসের হত্যাকান্ড ও এরপর ভারতের যে প্রতিক্রিয়া এটা অস্বাভাবিক। এমনতো না যে নিজদেশে তারা সংখ্যালঘুদের হত্যা করে না। এই ডিসেম্বরেই হিন্দু জঙ্গীরা ভারতে একাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। কেরালায় রাম নারায়ন নামে এক হিন্দুকে বাংলাদেশেী মুসলমান সন্দেহে হত্যা করেছে। বিহারে আতহার হোসেন নামে এক দরিদ্র হকারকে পিটিয়ে মেরেছে।
ভারতে রাজনীতি করার জন্য বিজেপি, আর এসএসের দরকার বাংলাদেশে হিন্দুদের লাশ। শোনা যায় এজন্য তারা নাকি কোটি কোটি টাকাও বিনিয়োগও করছে। ভারত যে বাংলাদেশ ও ইসলাম বিরোধী সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তা কে না জানে। তাই ভারতের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য ভারতের সব সোশাল মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হোক। হিন্দী ছবি ও গান বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হোক। শাহরুখ খানের ছবি না দেখলে বা কুমার শানুর গান না শুনলে কি আমাদের চলবে না। বিদেশী ছবি দেখতে হলে ইংরেজী ছবি দেখুক। কিছু শিখতে পারবে। হিন্দী ছবি দেখলে অথবা শুভেন্দু, অমিত, আদিত্যদের বক্তব্য শুনলে দেশে শুধু ঘৃনা ও ভায়োলেন্সই বাড়বে। পারলে আইয়ুব খানের মত রবীন্দ্র সঙ্গীতও নিষিদ্ধ করে দিন। কথা দিচ্ছি দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ আবার বাংলাদেশ হয়ে ওঠবে।
Posted ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh