বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ভারত কি বাংলাদেশকে ট্রানজিট দেবে!

চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল :   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০২৪

ভারত কি বাংলাদেশকে ট্রানজিট দেবে!

এখন আর রাখঢাক নেই, বাংলাদেশ সরকার এবার ভারতকে সরাসরি ট্রানজিট দিতে চলেছে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের ট্রেন চলাচল করবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতীয় ট্রেন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে যাতায়াত করবে। এর মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার। একটি দেশের অভ্যন্তরীন ট্রেন চলাচল করবে অন্য আরেকটি স্বাধীন দেশের ওপর দিয়ে। বিশ্বে এরকম উদাহরন আর আছে কিনা আমার জানা নেই। জানিনা, আমেরিকার মূল ভূখন্ড থেকে কানাডার ওপর দিয়ে কোন ট্রেন আলাস্কা যায় কিনা। যদি যায়ও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, উত্তর আমেরিকার এ দুটি দেশের মধ্যে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।

দুই দেশের নাগরিকরা পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া আসা করতে পারে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দূরে থাকুক, অনেক জায়গায় সীমান্ত রেখার চিহ্নটুকুও দেখা যায় না। ভুল করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। আমেরিকা কানাডা থেকে শতগুণ শক্তিশালী হওয়ার পরও আমেরিকার সীমান্তরক্ষী কখনও কানাডার অধিবাসীদের ওপর গুলি ছোড়ে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে সবসময় শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যু নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নিরপরাধ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর গুলিতে। ভারত কখনও বাংলাদেশের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেনি। শুধু ১৯৭১ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময়টুকু ছাড়া (যখন ভারত ও বাংলাদেশের স্বার্থ এক হয়ে গিয়েছিল) ভারত সবসময় বাংলাদেশকে শত্রুরাষ্ট্র জ্ঞান করে এসেছে। নেপাল ও ভুটানের জনগণ ভিসা ছাড়াই ভারত যেতে পারে।
বাংলাদেশের জনগণের এ সুযোগ কখনও ছিল না। চিরশত্রু পাকিস্তানের সাথে ভারত যে আচরণ করে, বাংলাদেশের সাথেও ভারত একই আচরণ করে। পাকিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ সীমান্তেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে ভারত।

এ রকম একটি বৈরী রাষ্ট্রকে কেন আগ বাড়িয়ে ট্রানজিট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত কখনও বাংলাদেশকে নেপাল বা ভুটান যাওয়ার জন্য ট্রানজিট দেয়নি। আর এখন নিজেদের অ্ভ্যন্তরীন রুটের জন্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট চাইছে। এমনতো নয় যে তাদের চলাচলের জন্য জায়গা নেই। তাদের রাস্তা আছে।

তারপরও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে আরও একটি বিকল্প পথ চাইছে। বাংলাদেশে যারা ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার পক্ষে বলে তারা ধূর্ত। তারা একাত্তরে ভারতের সহযোগিতার কথা বলে। কিন্তু স্বাধীনতার পর গত পঞ্চাশ বছরে কি ঘটেছে সেটা বলেনা। বিপদে পড়ে কেউ যদি সুদখোরের কাছ থেকে ধার নেয়, চিরকাল সেই মহাজনকে বাপ বাপ করতে হয় না। আমরা জানি, মোগল সম্রাটরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভারতে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়ে কি ভুল করেছিলেন। আমরা ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে বিপদ ডেকে আনতে চাই না। আমরা জানি তিন বিঘ্ াকরিডোর নিয়ে কি ঘটেছিল। শেখ মুজিবের নির্বুদ্ধিতায় ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে বেরুবাড়ি নিয়ে নেয়, কিন্তু বিনিময়ে তিন বিঘা করিডোরটি বাংলাদেশকে দেয়নি। কয়েক দশক টালবাহানার পর, বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মাত্র, কিন্তু করিডোরটির মালিকানা ভারতেরই রয়ে গেছে।

আমরা আরও জানি যে ভারত বাংলাদেশের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দেয়। এরা এক সময় শান্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিত। ওরা ভারত থেকে এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আবার ভারতে ফিরে যেত। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ওদের পিছু নিলেও ওরা সীমান্ত অতিক্রম করার পর আর কিছু করতে পারতো না। এখনও কুকি চিনাদের সন্ত্রাসী নেতা নাথান বম ও তার দল ভারতে অবস্থান করছে।

ভারত তাদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি এরকম একটি দেশকে আমরা কেন ট্রানজিট দিতে যাবো? আওয়ামী লীগের যারা ট্রানজিটের পক্ষে তারা হয়তো বলবেন একটি বন্ধু রাস্ট্রকে একরকম সহযোগিতা করা যায়। তাহলে আমরাও সিলেট থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার জন্য ত্রিপুরার ওপর দিয়ে ট্রানজিট চাইতে পারি। এতে আমাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। আপনারা কি ভারতকে রাজী করাতে পারবেন? দেখিতো পারেন কিনা?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেশটির কতৃত্ব নিয়ে নিয়েছিল ভারত এখন সে পথে এগুচ্ছে। আওয়ামী লীগ তাদেরকে সে সুযোগ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এই অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত রুখতে হবে।

এতে আমাদের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ নেই। সরকার যদি ভারতকে ট্রানজিট দিয়েই দেয় এটা হবে দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরকারে প্রথম সরাসরি পদক্ষেপ। এমন হলে আমরা সরাসরি আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করবো। যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে তারা হবে ’রাজাকার’। এখানে কোন যদি কিন্তু’র সুযোগ নেই। দেশের স্বাধীনতা কোন এক্সপেরিমেন্টের বিষয় না। দেশপ্রেমিক জনগনকে সরকারের এই অপৎপরতার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে সম্মিলিতভাবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করতে হবে। এখানে নিস্ক্রীয় থাকার কোন সুযোগ নেই। দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোন আপোষ চলে না।

Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9325 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.