বাংলাদেশ অনলাইন : | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ হ্রদ লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে হ্রদটির নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য করার ক্ষমতা এই আদেশের নেই।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ থেকেই আমরা লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করছি। এটি এমন একটি পরিবর্তন, যা নিয়ে আমি আসলে অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম। ‘
কানাডার স্পষ্ট আপত্তি
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়ে দেন, তারা নাম পরিবর্তন করবেন না।
কার্নি বলেন, লেকটির নাম কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ারও ৪০০ বছরের বেশি আগে থেকে প্রচলিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আমেরিকা পরিবর্তিত হচ্ছে—তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ও জলভৌগোলিক নামও পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু কানাডীয়রা জানেন, বাস্তবতাকে তার সঠিক নামেই ডাকতে হয়—লেক অন্টারিও, তখন, এখন এবং সবসময়। ’
লেক অন্টারিওর জলভাগের প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডায়, আর বাকি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘নিউইয়র্ক এটিকে ওই নামে ডাকবে না।’
কানাডা ও নিউইয়র্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর ফিল স্কটও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
তিনি এটিকে ‘তুচ্ছ ও হতাশাজনক’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।
কুইবেকের ওয়েন্ডাট জাতির গ্র্যান্ড চিফ পিয়ের পিকার্ডও নাম পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, ‘অন্টারিও’ নামটি ওয়েন্ডাট ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘হ্রদটি সুন্দর ও বিশাল।’
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন।’
বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নতুন উত্তেজনা
লেকের নাম পরিবর্তনের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ইতোমধ্যে উত্তপ্ত।
গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। তিন দিন ধরে তীব্র আলোচনা চলার পর উভয় পক্ষই আলোচনার অচলাবস্থার জন্য একে অপরকে দায়ী করে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যে দশ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্যে প্রভাব পড়েছে।
Posted ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh