এসএম জাহাঙ্গীর : | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
আমি এখন চিকিৎসা নিতে আমেরিকার নিউইয়র্কে আছি। এর মধ্যেই ফেসবুকের কল্যাণে আমি বন্ধুবান্ধব, বিভিন্ন লোকের ওয়াল ও পেজে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ও ভাতা নিয়ে মন্তব্যগুলো দেখে যারপরনাই মর্মাহত হয়েছি। আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, আমার মনে হয়-না ‘কোন ভাতা কিংবা কোটার জন্য আমরা কেউ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবৎ সরকার এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ কর্তৃক এই ভাতা, কোটা এবং ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো নিয়ে প্রচন্ড অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় এবং সরকার ও আমাদের কিছু অসাধু সঙ্গী তথা ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধারাও এতে সম্পৃক্ত থাকার জন্যই আজ দেশের সাধারণ জনতার বিরাট এক অংশ আশাহত হয়ে, তাদের কেউ বুঝে, কিংবা কেউ না বুঝেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমনতর অপমানজনক কথাবার্তা লেখার ও বলার সাহস পাচ্ছে।
সবকিছুরই একটা সীমা-পরিসীমা আছে। বেশকিছু বছর যাবৎ বিভিন্ন দল তাদের দলীয়-সরকারের শাসনামলের সময়টিতে তাদের নিজেদের দলভারী করার জন্য এবং অন্যান্য নানা কারণে যুদ্ধকালীন সময়ে সত্যিকার অর্থে মাত্র এক লক্ষের নীচে আসল-মুক্তিযোদ্ধা থাকার পরও এই সংখ্যাকে এখন দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য ওরা তিন লক্ষের বেশি মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে এবং সেভাবেই ভাতাও প্রদান করে যাচ্ছে। তাই এই ভাতা এমনকি কোটার ব্যাপারেও এখন জনগণের ধৈর্য ধারণ ক্ষমতার বাইরে গিয়ে তিন জেনারেশনের কোটা নিশ্চিত করতে যাওয়াটাও আসলেই মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার শামিল।
তাই সরকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার আকুল আবেদন এসব অবাঞ্ছিত বিষয় নিয়ে আমাদের এভাবে অপমান না করে, তথা ‘গয়রহ শরণার্থী ক্যাম্পের ভুঁয়াদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না করে বরং ‘ভারতীয় মুক্তিযুদ্ধের আসল ট্রেনিং-ক্যাম্পগুলোর তালিকা’ এবং বয়স-সনদ অনুসরণ করে ‘সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনঃনির্ধারণ এবং চাকুরীতে কোটা সংরক্ষণ যুক্তিসঙ্গতভাবে সহনীয় পর্যায়ে এবং এক জেনারেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই এখন সময়ের দাবী।
Posted ১২:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh