এসএম জাহাঙ্গীর : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কোটা বিতর্কের জবাবে বলছি জনাব, শুনুন। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি’পুতি তো দুরের কথা এমনকি ৫% প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তথা তাদের সন্তানেরা’ও পর্যন্ত বর্তমান বিতর্কিত এই ৩০% কোটার সুযোগ-সুবিধা নিতে সক্ষম হননি। আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বলছি এবং আমি এটা মিন করেছি শুধুই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থে।
অর্থাৎ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা’ই। কোটা নিয়ে এত কথা এত অপবাদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আজকে সইতে হচ্ছে কেনো ? এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও কেন ই বা এসব ইসুতে এই রক্তাক্ত পরিস্থিতি ? দেশে এসব কি আমাদের চাহিদা অনুযায়ী, আমাদের অসততার জন্য কিংবা আমাদের অপকর্মের জন্যই হয়েছে? আমি নিশ্চিত, তথা আপনারাও আমার সাথে একমত হবেন যে – সেটা মোটেই হয়নি। তাহলে কেনো আজ আমরা এসব শুনতে হচ্ছে? কিংবা কেন-ইবা এসব দেখতে হচ্ছে?
জননেত্রী এবং মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, দয়া করে এসব থেকে আমাদের পরিত্রাণ দিন। এসব যারা করেছে, বিশেষত পয়সার লোভে যারা ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে এবং হয়েছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোরতম বিচারের মুখোমুখি করুন। কারণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এসব আসলে’ই অপমানজনক এবং পীড়াদায়ক। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কি জানে এই ৩০% কোটার জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তেমন বড় কোনও ফায়দা হচ্ছে না?
বরং এর ফায়দা লুটে নিচ্ছে কিছু ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা তথা অন্য বিশেষ একটি মহল। সেটা আপনারা, হয়তো সাধারণ আন্দোলনকারীরা জানে না কিংবা বোঝেও না ? দেশব্যাপী জরিপ করে দেখুন, কিংবা খোঁজখবর নিয়ে দেখুন; তাহলে আমার এ বক্তব্য অবশ্যই প্রমানিত হবে। আমাদের এলাকার কথাই বলছি, অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা’ই কিন্তু কম লেখাপড়া জানা সাধারণ সহজসরল খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর লোক। যাদের মধ্যে আজও যারা বেঁচে আছেন তাদের অনেকেই চাকুরী করা তো দূরের কথা; এমনকি সাধারণ চিকিৎসা লা, তথা সাধারণ অনেক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে’ পর্যন্ত বঞ্চিত ওরা।
অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষায় কিছু চাটার দল, কিছু চোরের দল) এরা ব্যাপক সুযোগ সুবিধা নিলেও, আসল অর্থাৎ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেমন’টি বিনা স্বার্থে জীবনবাজি রেখে দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, আজও যে ওরা তেমন’টি মনোভাব’ই পোষণ করেন, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় । অন্তত আমাদের উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে তাকিয়ে দেখলেই সেটা বোঝা যায়।
অথচ বারবার স্বাধীনতা বিরোধী এবং কিছু ‘স্বাধীনতা’ বিরোধ-মনা’ অর্থ্যাৎ অসৎ কিছু নেতৃত্ব, তথা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে এবং ওদের আনুকুল্যে এখানে ভুঁয়া কিছু মুক্তিযোদ্ধা ‘এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে’ (কমান্ডার হয়ে) চলে আসাতে সারা দেশের মত আমাদের এই এলাকায়ও আমরা এর স্বাদ নিতে ব্যার্থ হয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা অর্থাৎ আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কিছু লুটেরার দল বারবার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা’ বানিয়ে আজকে দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জনগনের একটা বিরাট অংশের এই সন্দেহ-অবিশ্বাস সৃষ্টির পায়তারা করছে। যেটা আমাদের কারো’ই কাম্য নয়। তাই মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব থেকে এসব ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ঝেটিয়ে বিদায় করে সঠিক তালিকা তৈরি করলেই কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রায় অর্ধেক দাবী নিশ্চিত পূরণ হয়ে যাবে।
এবং আমার বিশ্বাস আমাদের সন্তানদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত আর কারো চাকুরির বয়স বাকি আছে বলে মনে হয় না। বরং তাদের অনেকেই এখন অবসরপ্রাপ্ত প্রায়। আর আমাদের মত এমন দরিদ্র এবং অনুন্নত একটি দেশে ‘নিজেদেরকে দেশের সূর্য সন্তান দাবি করে’ নাতি’পুতিদের কোটা চাওয়া’টাও সত্যি’ই অসুন্দর ও অসামঞ্জস্যই দেখায় বটে। সুতরাং মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান আশা করছি।
Posted ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh