বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

কী করলে রাষ্ট্রপতিকে সরাতে বিএনপি রাজী হবে?

কাজী জহিরুল ইসলাম :   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪

কী করলে রাষ্ট্রপতিকে সরাতে বিএনপি রাজী হবে?

মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হননি, তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হন। এর আগে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কেউ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম চিন্তাও করেনি। কাজেই তিনি কখনোই বাংলাদেশের মানুষের রাষ্ট্রপতি ছিলেনই না। তিনি শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত একজন আজ্ঞাবহ, চাটুকার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের যিনি প্রধান থাকেন, তার যে বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে প্রকটভাবে সমাজে ধরা পড়ে তা হচ্ছে স্বেচ্ছাচারিতা। শেখ হাসিনার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য চরম আকারে প্রতীয়মান হয়। তিনি যা খুশি তাই বলতেন এবং যা খুশি তাই করতেন। সব সময় সবাইকে বোঝাতে চাইতেন, আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করতে পারি, আমাকে জ্ঞান দেওয়া তো দূরের কথা আমার চিন্তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও কারো নেই। আমি এক, অদ্বিতীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দম্ভের সঙ্গে বলেছেন, “শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পায় না”।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা যা চান দৃশ্যত তা-ই এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ঘটে। তারা চেয়েছেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের অপসারণ, তা হয়েছে। তারা চেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াতকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরাতে, তিনি সরে গেছেন। তারা চেয়েছেন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হোক, হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের এই দাবীটি কেন কার্যকর হচ্ছে না? তাদের প্রধান নেতারা তো বঙ্গভবনের সামনে দাঁড়িয়েই ঘোষণা করলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে চুপ্পু চলে যাবে”। এরপর কত বৃহস্পতিবার চলে গেল চুপ্পু তো গেল না। এর কারণ কী?
ফ্যাসিজমের মূলোৎপাটন করার ম্যান্ডেট নিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফ্যাসিস্ট প্রধানের একক সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বপদে রেখে কীভাবে ফ্যাসিজম দূর করবেন তারা? বর্তমান সরকারের প্রত্যেকেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষে, তবু কেন তাকে সরানো যাচ্ছে না? বিএনপি চাইছে না, এটিই কি একমাত্র কারণ? জুলাই বিপ্লবের গুরু যাকে বলা হয়, ফরহাদ মজহারও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিএনপি কেন চুপ্পুকে সরাতে চায় না আমি বুঝতে পারছি না।

সম্ভবত আমি কিছুটা বুঝতে পারছি। কী বুঝতে পারলাম তা বলি। তার আগে বাজারে যে অনুমানগুলো বা বিশ্লেষণগুলো উঠে এসেছে তার কিছু উল্লেখ করা দরকার। ইউটিউব চ্যানেলে ড. জাহেদ উর রহমানের বিশ্লেষণগুলো আমি নিয়মিত দেখি। তাকে একজন পরিমিতিবোধসম্পন্ন বিজ্ঞ, নিরপেক্ষ এবং দেশপ্রেমিক বিশ্লেষক মনে হয়। তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে বিএনপি নিজের অবস্থান যাচাই করেছে। চুপ্পুকে সরানোর মতো একটি জনপ্রিয় দাবী বিএনপি পাল্টে দিতে পারে, এটি পরীক্ষা করার মধ্য দিয়ে দল হিসেবে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে বিএনপি। মধ্য-ডান এবং মধ্য-বাম ধরণের সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দিলে সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটবে, তার কাছেই যেহেতু এই সরকার শপথ নিয়েছে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি একটা বড়োসড়ো নিরীহ প্রাণী মাত্র, দেখতে বড়ো কিন্তু তার দাঁত নেই, শিং নেই, থাকুন না তিনি যেমন আছে তেমন, ক্ষতি কী? পিনাকী ভট্টাচার্য, ফরহাদ মজহার, মাহমুদুর রহমানের মতো তুখোড় বিপ্লবীরা মনে করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই লেজটা যত দ্রুত সম্ভব কেটে ফেলা দরকার।

বিএনপির তো সরাসরি শত্রু আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা বিএনপির যত ক্ষতি করেছে আর কেউ তাদের এতো ক্ষতি করেনি। তারপরও কোন অমোঘ কারণে তারা হাসিনার এই বিষাক্ত লেজটিকে পুষতে চাইছে? এই হিসেব বোধ করি সঠিকভাবে কেউই মেলাতে পারছেন না।

আমি হিসেবটি মিলিয়ে দেবার চেষ্টা করি। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সন্দেহ নেই সেই নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসবে। তখন তারা এক মুহুর্তও বিলম্ব না করে চুপ্পুকে সরিয়ে তাদের পছন্দের একজনকে রাষ্ট্রপতি বানাবে। মেয়াদ শেষ হবার আগেই তাকে অপসারণ করাতে দেশের কেউ টু শব্দটিও করবে না। কিন্তু যদি এই মুহূর্তে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে অন্য কাউকে রাষ্ট্রপতি বানানো হয় এবং সেই অন্য কেউ যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূসই হন, এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রত্যাশা, তাহলে একটা সমস্যা হবে। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর, বিএনপি ক্ষমতায় এসে ড. ইউনূসের মত একজন সম্মানিত মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসন থেকে সরাতে পারবে না। যদি তা করে সেটি বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে এবং ড. ইউনূসের জন্য অসম্মানজনক হবে।

ড. ইউনূস যদি রাষ্ট্রপতি এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের উপদেষ্টা দুটো পদেই থাকেন, যা অনেকেই চাইছেন, নির্বাচনের পরে নতুন সরকার গঠিত হলে তার প্রধান উপদেষ্টার অর্থাৎ দেশের নির্বাহী প্রধানের পদ চলে যাবে কিন্তু তিনি পদত্যাগ না করলে রাষ্ট্রপতির পদ যাবে না। কারণ এই পদের সাংবিধানিক মেয়াদ ৫ বছর। এখন ড. ইউনূসকে বা সরকারের পক্ষ থেকে একথা নিশ্চিত করতে হবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরানোর পরে ড. ইউনূস বা অন্য যিনিই রাষ্ট্রপতি হন তার মেয়াদ হবে নির্বাচিত সরকার কর্তৃক মনোনীত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা পর্যন্ত। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর হবে না। এটি নিশ্চিত করলেই বিএনপি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরাতে রাজী হবে।

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ২ নভেম্বর ২০২৪

Posted ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9324 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.