বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জেনেভায় আসিফ নজরুল এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব!

কাজী জহিরুল ইসলাম :   |   বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

জেনেভায় আসিফ নজরুল এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব!

আধুনিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনা ও রাজনীতি বেশ জটিল। তাত্বিকভাবে যতটা জটিল, বাস্তব পরিস্থিতি প্রায়শই তার চেয়েও অধিক জটিল হয়ে ওঠে। এ-কারণেই বিশ্লেষকেরা প্রায়শই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য “ষড়যন্ত্র তত্ব” ব্যবহার করে থাকেন। বিত্ত এবং মুনাফা আজকের পৃথিবীর মূখ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠায় রাজনীতি থেকে কল্যাণচিন্তা, সারল্য ও নৈতিকতা প্রায় তিরোহিত হয়েছে। কাজেই কোনো ঘটনাকেই শাদা চোখে সরলভাবে দেখার সুযোগ থাকে না।

গত ৭ নভেম্বর অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ড. আসিফ নজরুল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাকে হেনস্তা করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে হেনস্তাকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম জমাদার ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, অন্যান্য পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকেই হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায় কি-না সেই দিকটিও খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দিয়েছেন। এই নিন্দাবাদকে অবশ্যই স্বাগত জানাই।

পতিত স্বৈরাচার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দেশে-বিদেশে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে অস্থির করে তুলছে। এরপরেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দেখলেও এই ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে। এমন তো নয় যে আমাদের উপদেষ্টারা, একমাত্র ড. ইউনূস ছাড়া, অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সৎ মানুষ বলে সমাজে বিবেচিত এবং প্রতিষ্ঠিত। কারণ ড. ইউনূসই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিজের নামে কোনো সম্পদ গড়ে তোলেননি।

যার সম্পদের আকাঙ্খা আছে তার পদস্খনেরও সম্ভাবনা আছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন তারা কেন সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে যান তা আমাদের সকলেরই জানা। যদিও আসিফ নজরুল একটি দাপ্তরিক ভ্রমণে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সভায় যোগ দিতেই গিয়েছিলেন কিন্তু তার এই ভ্রমণ এতোটা নীরবে হওয়ায় কিছু সন্দেহের অবকাশ তো থাকেই।

পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, টক শো-তে কথা বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে মাঠেই ছিলেন, তারপরেও অনেকেরই এই সন্দেহ এখনও দূর হয়নি যে তার ‘ঘাদানিক’ সংযোগের রেশ এখনও নেই। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পরে শেখ হাসিনার নিয়োগকৃত আত্মীয় সেনাপ্রধান এবং অনুগত রাষ্ট্রপতি আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে যার সঙ্গে আলোচনায় সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন তিনি আসিফ নজরুল। সরকার গঠনের পরে যার অফিসে, মাথার ওপর, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বহাল তবিয়তে ছিল, তিনি আসিফ নজরুল৷

অবশ্য পরে আমরা জানতে পেরেছি নাহিদ ইসলামের অফিসেও বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল, এবং তা হয়ত প্রিয় ‘স্যারে’র অনুকরণেই।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তার গায়ে পতিত স্বৈরাচারের গন্ধ আছে বলে অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। এইসব কারণে আসিফ নজরুলকে সব সময় একটা সন্দেহের আবহের মধ্যেই রাখছে বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত জনতা। ৫ আগস্টের আলোচনায় বিপ্লবী শক্তির পক্ষে যে মানুষটি নতুন সরকার গঠনের আলোচনায় থাকতে পারতেন তিনি ফরহাদ মজহার। কিন্তু সেনাপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি বিপ্লবীদের মুরুব্বী-প্রতিনিধি হিসেবে ফরহাদ মজহারকে না রেখে কেন শুধু আসিফ নজরুলকেই বেছে নিলেন? এই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

জেনেভায় আওয়ামী লীগ কর্তৃক লাঞ্ছিত হবার ঘটনাটি সাজানো নয় তো? এই প্রশ্ন খুব অমুলক নয়। নিজের শরীর থেকে আওয়ামী গন্ধ দূর করার এটি একটি মোক্ষম অস্ত্র হতেই পারে। দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির ৯০ শতাংশেরও অধিক মানুষ জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। জেনেভায়ও বাঙালিরা আন্দোলন করেছেন, সুইজারল্যান্ডে বিএনপিরও কমিটি আছে।

তিনি হয়ত তাদের চেনেন না কিন্তু সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভালো করেই তাদের চেনেন। ফেরার দিন এবং যাওয়ার দিন তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশের স্বপ্ন যারা দেখেন, সেইসব দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের সঙ্গে মত বিনিময় করতে পারতেন, তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে হেনস্তা করার জন্য কাছে ঘেঁষার সুযোগ পেত না।

এতোটা নীরবে, প্রায় একেলা কেন এই ভ্রমণ? তিনি কি সুইস ব্যাংকে যেসব বাংলাদেশিরা অবৈধ টাকা রেখেছেন তাদের খোঁজ-খবর করতে গেছেন? নাকি সুইস ব্যাংকের গোপনীয়তা কতটা মজবুত তা পরখ করতে গেছেন, সেই অর্থমন্ত্রীর গল্পের মত, এইসব প্রশ্ন কি সমালোচকদের মাথায় আসবে না? হয়ত এই ষড়যন্ত্র তত্ব (ঈড়হংঢ়রৎধপু ঞযবড়ৎু) কেবলই তত্ব, এর সঙ্গে প্রকৃত সত্যের কোনো মিল নেই, তবুও আমরা সরকারকে বারবার মনে করিয়ে দেব, সরিষার ভেতরে ভূত ঢোকার কোনো সুযোগ আমরা দিতে চাই না।

সেই বিখ্যাত অর্থমন্ত্রীর গল্প যারা জানেন না তাদের জন্য গল্পটা বলেই লেখাটি শেষ করি। মন্ত্রীত্বের শপথ নিয়েই তিনি দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করার ঘোষণা দেন। অসৎ ব্যবসায়ী, আমলা, পুলিশ, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সারা দেশ তার প্রশংসায় ভাসছে। এই প্রথম আমরা একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক অর্থমন্ত্রী পেয়েছি। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সরকারী কোষাগারে আসতে শুরু করে। সরকারের অর্থনীতি দ্রুত চাঙা হয়ে উঠছে। দেশের দুর্নীতি প্রায় নির্মূল করে তিনি এবার হাত দেন বিদেশের ব্যাংকে। অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ বানের জলের মতো হু হু করে দেশে আসতে থাকে। অর্থমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।

যেখানেই তিনি যান সেখানেই জনতা তার নামে জয়ধ্বনি দেয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী পুরোপুরি খুশি হতে পারেন না। কারণ তার এই অগ্রযাত্রায় বাঁধ সাধে সুইস ব্যাংক। তারা কিছুতেই তাকে সহযোগিতা করছে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পাঠানো চিঠিপত্রকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না সুইস ব্যাংক। এবার তিনি দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তিদের সম্পদের খোঁজ নেবার জন্য বিশেষ অনুমতি পত্র যোগাড় করেন সুইস সরকারের কাছ থেকে এবং আর নয় পত্রালাপ, তিনি নিজেই উড়ে চলে যান সুইজারল্যান্ডে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে, সকাল দশটায়, প্রধান একটি সুইস ব্যাংকের সদর দফতরে গিয়ে হাজির আমাদের অর্থমন্ত্রী।

নিজের পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়েন সিইওর কক্ষে। একটি তালিকা সিইওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে এদের প্রচুর টাকা গচ্ছিত আছে আপনার ব্যাংকে। আমি এসেছি এইসব অবৈধ অর্থের খোঁজ-খবর করতে। আমার কাছে আমার দেশের এবং আপনার দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন আছে। সিইও বলেন, কোনো অনুমোদনেই কোনো কাজ হবে না, ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা সুইস ব্যাংকের সর্বোচ্চ ধর্ম। আমি দুঃখিত মাননীয় অর্থমন্ত্রী, আপনাকে আমি কোনো তথ্যই দিতে পারবো না।

অর্থমন্ত্রী শুধু একজন দক্ষ নেতা ও প্রশাসকই নন, দারুণ একজন বাগ্মীও। তিনি তার বাকচাতুর্যের সকল কৌশল প্রয়োগ করেও সিইওকে রাজী করাতে ব্যর্থ হন। এবার তিনি ক্ষেপে গিয়ে ওভারকোটের পকেট থেকে রিভলবার বের করে সিইওর কপালে ঠেকান। সিইও তবুও অনড়। আপনি আমাকে হত্যা করতে পারেন, এমনকি এই ব্যাংকের সকল কর্মীকে হত্যা করতে পারেন তাতেও কোনো কাজ হবে না। ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা সুরক্ষার শপথ থেকে সুইস ব্যাংক কিছুতেই এক চুলও নড়বে না। এবার অর্থমন্ত্রী শান্ত হয়ে বসেন, পিস্তল পকেটে রাখেন এবং ব্রিফকেসের ডালা খুলে বলেন, এখানে এক মিলিয়ন আছে, আরো আসছে, আমার নামে একটি হিসাব খুলুন।

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ১১ নভেম্বর ২০২৪

Posted ১:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9324 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.