চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
গত এক বছরে বাংলাদেশে কতজন হিন্দু নিহত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেশকিছু দেশপ্রেমিক হিন্দু নিহত হয়েছে। পাশাপাশি ভারতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে বহুসংখ্যক মুসলমান নিহত হয়েছে। এর সঠিক পরিসংখ্যান কেউ বলতে পারবে না। উগ্র হিন্দু বা পুলিশের গুলিতে মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনা ভারতে একটি নিয়মিত ব্যাপার। গত সপ্তাহে ভারতের উত্তর প্রদেশের সামভাল শহরে তিন জন মুসলমান নিহত হয়েছে। প্রায় একই সময় বাংলাদেশে ইসকন নেতা চিন্ময় দাশ গ্রফতার হয়েছে। চিন্ময়ের ঘটনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশে বিদেশে প্রতিবাদ হয়েছে। ভারত সরকার বিবৃতি দিচ্ছে। কিন্তু সামভালের ঘটনা নিয়ে কেউ কথা বলে না। বাংলাদেশের খুব কম মানুষ ঘটনাটি জানে। যারা জানে তাদেরও কোন প্রতিক্রিয়া নেই। ঘটনাটি ইতিমধ্যে ধামাচাপা পড়ে গেছে। অন্যদিকে, যে দেশে কোন হিন্দু মারা যায়নি সেই দেশ সাম্পদায়িক রাস্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ভারত সরকার বিষয়টি ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত পৌছে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুলসী গ্যাবার্ডকে দিয়ে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কল্পিত কাহিনী বলিয়েছে। সারা বিশ্ব জেনে গেছে বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, নিপীড়িত। বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।
কেন এটা হচ্ছে? কারন হিন্দু অধ্যুষিত রাস্ট্র ভারত অত্যন্ত সুচারুভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে তাদের স্বার্থে এ কাজটি করছে।
বাংলাদেশে একটি মন্দিরে ঢিল পড়লে ওরা সহ্য করে না। ভারত সরকার, ভারতের মিডিয়া ও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় এক যোগে এর প্রতিবাদ করে। দেশে, বিদেশে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। যার ফলে বাংলাদেশকে তারা একটি সাম্প্রদায়িক মুসলিম রাস্ট্র হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। তাদের বুদ্ধি আছে তাই ওরা পেরেছে। বুদ্ধির অভাব থাকায় অপরাধ না করেও বাংলাদেশ অপরাধী। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে কি করতে পারত? বাংলাদেশ যা করতে পারত তা হচ্ছে ভারতে কৌশল ভারতেরই বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত। ভারত যেমন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশেরও উচিত ছিল ভারতে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিয়ে বিবৃতি দেওয়া।
বাংলাদেশের উচিত ছিল ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা। তাহলে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ এত সহজে পেত না। নিজেদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে ব্যাস্ত থাকত। এখন ভারত বুঝে গেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু বললে বাংলাদেশে জবাব দেওয়ার কেউ নেই। বাংলাদেশে প্রচুর বুদ্ধিজীবি থাকলেও বুদ্ধির প্রচন্ড অভাব ওদের।
আমরা অতীতে দেখেছি বাংলাদেশে কিছু ঘটলেই জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের মত কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদে নেমে পড়ে। তাদের প্রতিবাদ নিউইয়র্কের বাংলা পত্রিকায় ছাপা হয়। এগুলি রাস্তার পাশে বিনা পয়সায় পড়ে থাকা পত্রিকা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। অনুবাদ হয়ে জায়গামত ঠিকই চলে যায়। এগুলি ওরা ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যদিকে সাধারন বাংলাদেশীরা কি করে। ওরাও নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওগুলি হয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় স্বার্থ নিয়ে – না কেউ নেই। ভারতীয়রা যে শুধু দেশে বিদেশে প্রতিবাদ জানায় তাই নয়, সম্প্রতি খবর এসেছে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগে আমেরিকা যাতে বাংলাদেশের ওপর নানারকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকানরা।
ভারতীয়রা যখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তারা সোশাল মিডিয়াকেও ব্যবহার করে। ভারতীয়রা যখন ইউটিউবে বাংলা ও হিন্দীতে অনুষ্ঠান করে আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু আমাদের ইউটিউবাররা বাংলায় বলে তাই অধিকাংশ ভারতীয় বুঝতে পারেনা। ইংরেজীতে অনুষ্ঠান করলে বুঝতে পারত।
কিন্তু ইউটিউবে যে এত এত বাংলাদেশী সক্রিয়, বাঙালীদের একটিও ইংরেজী চ্যানেল নেই। শুধু কি তাই। নিউইয়র্ক থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০/১২ টি বাংলা পত্রিকা বের হয়। কিন্তু বাঙালী কমিউনিটির একটিও ইংরেজী পত্রিকা চোখে পড়ে না। তাই বাংলাদেশীরা যতই হাক ডাক ছাড়ুক মেইনস্ট্রীমে তাদের সংবাদ পৌছায় না। আমাদের মনে রাখতে হবে ’অ্যাটাক ইজ দা বেষ্ট ফর্ম অব ডিফেন্স’।
শুধু প্রতিরোধ করে নিজেকে রক্ষা করা যায় না। শত্রুকে পর্যুদস্ত করতে হলে প্রয়োজন পাল্টা আঘাত। ওরা যে মাধ্যমে আঘাত করবে ওই মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। ওরা সোশাল মিডিয়ার আক্রমন করলে সোশাল মিডিয়ায় জবাব দিতে হবে। ওরা কূটনৈতিক যুদ্ধ করতে চাইলে কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু চুপ থাকা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশীদের মাঝে এরকম উদ্যোগের বড়ই অভাব। তাই নস্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।
Posted ১:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh