চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫
এতদিন বাংলাদেশের মানুষের একটি ধারনা ছিল। শেখ কামাল মেজর ডালিমের স্ত্রীকে অপহরন করে নিয়েছিলেন এবং তার শ্লীলতাহানি করেছিলেন। এরপর মেজর ডালিম বিচার চাইতে গেলে শেখ মুজিব বিচার করেননি। উপরন্ত, তিনি মেজর ডালিমকে চড় মারেন। ফলশ্রুতিতে মেজর ডালিমের নেতৃত্বে ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়। শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন। সম্প্রতি মেজর ডালিম একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। ডালিমের ভাষ্য থেকে জানা যায়, এখানে শেখ কামালের কোন ভূমিকাই ছিল না। ঘটনার সূত্রপাত, মেজর ডালিমের বিদেশফেরত শালাকে নিয়ে।
বিয়ের অন্ষ্ঠুানে আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেরা ডালিমের শালা বাপ্পীকে টিজ করে। যার ফলে সে ক্ষেপে যায় এবং ডালিমের লোকরা গাজীর ছেলেদের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। বাংলাদেশের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই ধরনের টিজিং সেসময় ছিল খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। কিন্তু ডালিম পক্ষের এটা সহ্য হয়নি। একথা শুনে গাজী ক্ষিপ্ত হয় যায়। সেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে ডালিমকে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এসময় ডালিমের স্ত্রী নিম্নি বলে ডালিমকে নিয়ে গেলে সেও সাথে যাবে। তখন নিম্মিকে সহ গাজীর লোকরা ডালিমকে নিয়ে যায়। ডালিমকে তারা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করেনি। তারা তাদেরকে সরাসরি শেখ মুজিবের বাড়ীতে নিয়ে যায়।
এরপর শেখ মুজিব ডালিমের স্ত্রীকে জাড়িয়ে ধরে শান্তনা দেন ও এ ঘটনার কঠিন বিচার করবেন বলে তদেরকে আশ্বস্ত করেন। তিনি গাজীকে গালাগাল করেন ও নিম্মির পা ধরে মাপ চাইতে বলেন। গাজী মাফ চাইতে গেলে নিম্মি শেখ মুজিবের সামনেই তাকে (গাজীকে) জুতা তুলে মারতে যান। এরপর শেখ মুজিব ডালিমের পরিবারকে লেডিস ক্লাবে পৌছে দিতে গাজীকে আদেশ দেন। এখানেও নিম্মি শেখ মুজিবের সামনই ঔদ্ধত্য পদর্শন করেন। শেখ মুজিব তাদেরকে নিজের মার্সিডিজে করে পৌছে দিতে চাইলে তারা নিজেরাই যেতে পারবে বলে জানায়।
ইতিমধ্যে সামরিক বাহিনীর কিছু লোক গাজীর বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সবাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে যদিও গাজীর পরিবারের সবাই এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। শেখ মুজিব ওদেরকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তারা সরাসরি অস্বীকার করে। গাজী ও তার ছেলেদের অপরাধের জন্য তার পরিবারের সবাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসাটা অন্যায় এবং শেখ মুজিবের মুখের ওপর আদেশ অমান্য করা ছিল ধৃষ্টতা। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরন কাম্য হতে পারেনা। তখনকার মত সেখানেই ঘটনাটির সমাপ্তি ঘটে। এর কিছু দিন পর মেজর ডালিমসহ শেখ মুজিবের আদেশ অমান্যকারী অফিসারদের বরখাস্ত করা হয়। এখানে শেখ মুজিব অন্যায় কিছু করেননি।
একজন রাস্ট্রনায়ককে সবসময় তার অনুগত সেনাকর্মকর্তাদের নিয়েই কাজ করা উচিত। না হলে বিদ্রোহের সম্ভাবনা থাকে। শেখ মুজিব যে ভুলটি করেছিলেন তা হলো তিনি শুধু তাদেরকে বরখাস্তই করছিলেন। তিনি তাদেরকে গ্রেফতার করে কোর্ট মার্শালে দেননি। এই দুর্বলতার জন্যই শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাণ দিতে হয়। জিয়াউর রহমান যেমন ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য ৪০০০ লোককে মৃত্যূদন্ড দিয়েছিলেন শেখ মুজিবেরও উচিত ছিল অবাধ্য সেনা কর্মকর্তাদের সমুলে উপড়ে ফেলা।
মেজর ডালিমের আত্মপক্ষ সমর্থনে যতই সাফাই দিয়ে থাকেন, এটা স্পস্ট যে তারা দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড ঘটাননি। তারা এটা করেছেন ব্যাক্তিগত আক্রোশ থেকে। অথবা তারা বৃহত্তর কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে কাজ করেছেন।
শেখ মুজিব তদেরকে বিদেশে চাকুরী দিতে চাইলে তারা রাজী হননি। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ঠিকই চাকুরী নিয়ে বিদেশে গিয়েছেন। তারা যেভাবে শেখ মুজিবের পরিবারের মহিলাদের ও শেখ রাসেলকে হত্যা করেছেন এটা নিঃসন্দেহে ঘৃণ্য অপরাধ। তবে মেজর ডালিমের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করতে হয়। সেনাবাহিনীর মাঝারিমানের একজন কর্মকর্তা হয়ে তিনি দেশের রাস্ট্রপতিকে হত্যা করতে পেরেছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই তিনি দেশ ত্যাগ করে বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি কর্নেল ফারুক বা অন্যদের মত দেশে বসে থাকেননি। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে তিনি চুপিসারে দেশ ত্যাগ করে নিজেকে বাচিয়েছেন। এইজন্যই তিনি এখনও বেচে আছেন এবং ইউটিউবে সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন।
Posted ১:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh