চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫
গণনতন্ত্রের আন্দোলন আসলে কি? গণতন্ত্রের জন্য কেউ কি আন্দোলন করে? নাকি দলের জন্য বা নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে তাহলে দেশে যখন নির্বাচন হবে তখন বিএনপি যে ক্ষমতায় আসবে এটা নিশ্চিত। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে অবস্থা সুযোগ দিলেও ওরা নির্বাচনে খুব ভালো করতে পারবে বলে মনে হয় না। তাহলে বিএনপি একক ভাবে যদি নাও পারে কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় আসবে। আপাতত সরকার গঠন করার মত আর কোন দল বাংলাদেশে নেই। জাতীয় পার্টি বা জামাত থাকবে সাপোর্টিং দল বা অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে।
সরকার গঠন করার মত সামর্থ্য ওদের এখনও নেই। আচ্ছা বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। বয়সটা যেহেতু বিপক্ষে, তাই খালেদা জিয়ার সম্ভাবনা নেই। তারেক রহমানের সম্ভাবনাই বেশী। অর্থাৎ মা ছেলের একজন হবেন। যদি অপ্রত্যাশিতভাবে তারেক রহমানেরও কিছু হয়ে যায়। তাহলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? এর উত্তর বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুসের প্রতেকেই জানে। সেটা হবে তারেক রহমানের মেয়ে। কারন এটাই বাংলাদেশের ট্যাডিশন। তাদের বিশ্বস্ত অনুচর মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস বা অন্যকেউ। না, তাদের কেউ না। সে আশা তারা করেনও না। নেতা বা নেত্রীর গুড বুকে থাকতে পারলেই তারা খুশী। যা পাওয়া যাবে তাতেই সই।
নিঃসন্তান নবাব আলীবর্দি খা’র যখন মৃত্যু হয়, তখন তার নাতি সিরাজ উদ দৌলা সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন। এছাড়া তার আরও নাতিরা ছিল। কিন্তু তার বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর জাফর আলী খা যিনি বীর বিক্রমে মারাঠী বর্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলার মানুষকে বাচাতে চেয়েছিলেন রাজতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তার কোন সুযোগই ছিল না। তাই রাজতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী নানা রকম অভিযোগ থাকার পরও সিরাজই হয়েছিলেন নবাব। তাই সিরাজ যাই করুক মীর জাফরকে তা সবসময় মানতেই হত। তিনি তার প্রাপ্য সম্মান সিরাজের কাছে পাননি। এটা তাকে ক্ষুদ্ধ করেছিল। সিরাজ ও মীর জাফরের বিরোধীতা তৈরী হয়েছিল। রাস্ট্র হয়ে পড়েছিল দুর্বল। জনগন হয়েছে দুর্দশাগ্রস্থ। তারা নিজেরাও হয়েছিলেন বিপর্যস্ত, নিহত। অর্থাৎ রাস্ট্রে যখন গনতন্ত্র থাকে না তখন জনগনকে রাজাদের স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে। এর থেকে উত্তরনের জন্যই দেশে দেশে গনতন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে ও বিকশিত হয়েছে।
কিন্তু সব জায়গার গনতন্ত্র সমভাবে বিকশিত হয় নি। যেমন বাংলাদেশে আমরা যাকে গনতন্ত্র বলি এটা পূর্ণ গনতন্ত্র নয়, এটা হচ্ছে অর্ধ গনতন্ত্র। এখন পর্যন্ত জনগনের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় আসবে এটুকু প্রতিষ্ঠা করা গেছে। কিন্তু যে দল দেশ পরিচালনা করবে সেই দলটি কিভাবে পরিচালিত হবে? সেখানে গনতন্ত্র না, থাকবে স্বৈরতন্ত্র। এই দলের কর্মীদের কিছু বলার থাকবে না। দলের প্রধান হওয়ার সুযোগ থাকবে না। দলের সিদ্ধান্ত সবকিছু মাথা পেতে নিতে হবে। বিশ্বস্ততার পরীক্ষায় চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে পারলে হওয়া যাবে উজিরে আযম। যার আভিধানিক অর্থ প্রধানমন্ত্রী। যেহেতু বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাই বাংলাদেশে বলা হয় রাস্ট্রপতি। এটাকে আসলে রিটায়ারমেন্টের আগে এলপিআর বলা যেতে পারে। তাদের প্রকৃতপক্ষে রাস্ট্রের অর্থ অপচয় করা ছাড়া আর কোন কাজ থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় থেকে একটি একটি নির্দেশ যাবে আর তিনি চোখ বুজে ‘আজ্ঞা হয় জাহাপনা’ মনোভাব নিয়ে সই করে যাবেন। এর থেকে পরিত্রানের উপায়ঃ
গনতন্ত্র চাইলে পূর্ণ গনতন্ত্র চাইতে হবে। খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনার মত আমৃত্যু পদ ধরে রাখা যাবে না। অনেকে বলেন তাদের শীর্ষপদে না রাখলে দল ভেঙ্গে যাবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কথাটা মিথ্যা নয়। কিন্তু এই প্র্যাকটিসটাই তো করতে হবে। না হলে গনতন্ত্র আসবে কি করে। বর্তমান অবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধি তার নিজস্ব মতামত পর্যন্ত ব্যক্ত করতে পারেন না। দলীয় সিদ্ধন্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া তো দূরের কথা। তাহলে শুভবুদ্ধির অনুশীলনটা হবে কি করে। একবার এক রাজনৈতিক নেতাকে বলেছিলাম আপনারা যে গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেন আপনার দলেই তো গনতন্ত্র নেই। দলে নিয়মিত কাউন্সিল হয় না। কাউন্সিলে সভাপতির বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচন করে না। তাকে বলেছিলাম আপনার নেত্রীকেই ক্ষমতায় রেখে দিন। অন্তত নিয়ম রক্ষার জন্য কেউ নেত্রীর বিপক্ষে নির্বাচন করুক। অন্তত ট্যাডিশনটা তো তৈরী হবে। তিনি বলছিলেন এতটুকু বিরাধিতাও দলে সহ্য করা হয় না। যদি আইন প্রনেতাদের এভাবে খোজা করে রাখা হয় তাহলে দেশে গনমূখী আইন তৈরী হবে কি করে। নেতানেত্রীরা তাদের সুবিধামত আইন প্রনয়ন করবেন। এ এক অচ্ছেদ্য চক্র। সরকার আইন না করে দিলে এটা ভাঙবে না। কিন্তু সরকার তো ওরাই।
গনতন্ত্রের স্বার্থে প্রত্যেকটি দলের শীর্ষ নেতাদের দলের অভ্যন্তরে সংস্কারের জন্য মুখ খুলতে হবে। এজন্য হয়তো তারা দলীয় নেতা ও চাটুকারদের রোষানলে পড়বেন তারপরও বলতে হবে। চুপ করে থাকলে হবে না। এতটুকু সাহস ও নৈতিকতা তাদের থাকা উচিত। আরে একবার বলেই দেখুন না। কি হবে আপনার? বড়জোড় দল থেকে বহিস্কার করা হবে। কিন্তু আপনার প্রতিবাদ উদাহরন হয়ে থাকবে। আপনার দৃষ্টান্ত হবে পরবর্তী প্রজন্মের চলার পথের পাথেয়। এতটুকু কি করতে পারবেন না। সংবিধান সংস্কারের জন্য সরকার এবার একটা কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের সুপারিশ কতটুকু কার্যকরী হবে বলা যায় না। এটা তো সংসদে পাশ হবে হবে। অর্থাৎ আবার সেই সংসদ সদস্য, আবার সেই দলীয় প্রধানের সদিচ্ছা। তারপরও অপেক্ষায় আছি, দেখা যাক বদিউল আলম মজুমদার কি করতে পারেন।
Posted ১:১৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh