চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আমাদের সেনাবাহিনীর দেশে বিদেশে প্রচুর সুনাম। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে তাদের অবদানের কথা আমরা গর্ব ভরে বলি। বিশ্ব শান্তিতে তাদের রয়েছে অনন্য অবদান। শুধু যুদ্ধের ময়দানেই নয়, বিশ্বের যেখানে গেছে অমায়িক ব্যবহার ও মানবিক আচরনে তারা সব দেশের মানুষের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু নিজদেশে তারা বড় নির্মম।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বাংলাদেশে মূর্তিমান আতঙ্ক। ব্যাপারটা এমন আপনি পাড়া প্রতিবেশী সবার কাছে ভালো, কিন্তু ঘরে এসে বউ পেটান। আপনি যদি আপনার পরিবারের কাছে ভালো না হন তাহলে আপনার এই ভালো’র কি মূল্য আছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটুকু ভালো।
বিপুল অর্থে পরিচালিত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে ১৯৭১ এর পর কোন যুদ্ধ করতে হয়নি। তাই নিরীহ জনগনের ওপরই তাদের যত আস্ফালন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনুস দেশে সেনাবাহিনী নামিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী সেই সুযোগে মানুষকে যত্রযত্র পিটিয়েছে। আদের নির্যাতন শুরু হয়েছিল গোপালগঞ্জ থেকে। যাকে যেখানে পেয়েছে বেধড়ক পিটিয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের যে প্রকৃতি, একজনকে পেটালে আরেকজন উপভোগ করে। গোপালগঞ্জে যেহেতু আওয়ামী লীগ মার খেয়েছে অন্য দলের সমর্থকরা খুব মজা করেছে। তারা দেশাত্মবোধক গানের প্যারোডি তৈরী করে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করেছিল। এর কয়েকদিন পর সেনাবাহিনী যখন বিএনপি’র লোকদের রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকরা তখন আনন্দচিত্তে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। কিন্তু এর নৈতিক দিকটা কাউকে স্পর্শ করেনি। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যে জনগনের অর্থে পালিত সেই জনগনের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। আমরা দেখেছি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার নাম করে তারা মানুষের সাথে কি তামাশা করেছে। একজন লোককে ইচ্ছামত পিটিয়ে তাকে গান গাইতে বাধ্য করেছে। এটা কি রকম ফাজলামী। তাদের এই বিকৃত আচরন থেকে শিশুরাও বাদ যায়নি।
একবার একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ধরে তাকে নাচতে বাধ্য করেছিল। আবার শিশুদের চুল কেটে দিতেও দেখা গেছে। সেই সময় সেনা সদস্যদের মুখের ভাষাও ছিল অশ্রাব্য। সেনাবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠে নামানো হয়েছিল। জনগনের সাথে মস্করা করার জন্য নয়। অথচ ওরা তাই করেছে। সেনাবাহিনীর এই বিকৃত আচরনের জন্য কোন শাস্তি হয়নি। না সরকার কিছু বলেছে, না সেনাবাহিনী কোন ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহে যে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে তাতে আমাদের দুঃখের শেষ নেই। অবসরপ্রাপ্ত এসএসএফ কর্মকর্তা মেজর সিনহার হত্যাকারীদের ফাসির দাবীতে পুরো জাতি সোচ্চার। কিন্তু সেনাবাহিনীর হাতে যখন কেউ মারা যায় তখন বিচার চাইতে কেউ এগিয়ে আসে না। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর নির্যাতনে যে বিএনপি কর্মী তৌহিদুল ইসলামের মৃর্ত্যু হয়েছে তার দলের আপোষকামী নেতৃবৃন্দকে বিচারের দাবীতে সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে না। ক্ষীণস্বরে তারা কিছু প্রতিবাদ করছে কিন্তু সেনাবাহিনীর নামটি পর্যন্ত মুখে আনছে না। জনগনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অধিকার সেনাবাহিনীকে কে দিয়েছে।
এটা করে স্বৈরাচারী সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর কাজ তো এটা হতে পারেনা। তারা কি তাদের নিজেদের কাজটা ঠিকমত করছে। বিডিআর বিদ্রোহে যে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে এটাকে বলা হয় মারাত্মক ইন্টিলিজেন্স ফেইলিউর। সেনা গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ানক ব্যর্থতা। দেশে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল। ডিজিএফআই কিছুই জানতে পারল না। তারা তখন কি করছিল। তাদের কাজ কি? সরকার বিরোধীদের দমন করাই কি তাদের কাজ। আয়না ঘর নির্মানের অপকর্ম বাদ দিয়ে তাদের উচিত নিজ দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকা।
স্বৈরাচারী সরকারের তল্পীবাহক হয়ে বিরোধীদলের প্রতি দমন পীড়ন করা বা বিদেশী রাস্ট্রের নীল নক্সা বাস্তবায়ন করা ডিজিএফআইয়ের কাজ হতে পারেনা। এমনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অতীত ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অতীতে তারা অসংখ্যবার বিদ্রোহ করে দেশকে অস্থিতিশীল করেছে। দুই দুইজন রাস্ট্রপতিকে তারা হত্যা করেছে। এখন আবার জনগনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। এই মুহূর্তে সরকারের বড় কাজ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তাদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। অস্ত্র উদ্ধারের নামে নিরীহ লোকজনকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে মেরা ফেলা সেনাবাহিনীর কাজ হতে পারে না।
জানিনা তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কতটুকু অনুগত। এ ব্যাপারে মুহাম্মদ ইউনুসকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে তিনি সামরিক সরকার নন। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এই পুরস্কারটাকে ব্যবহার করে তিনি আজকের এই পর্যায়ে এসেছেন।
সন্ত্রাস নয়, নিজদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে কাজ করতে হবে। যে সব সেনা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামকে হত্যার জন্য দায়ী তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদেরকে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত রাখতে হবে। যদি সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না হয়, জনগনকে জানাতে হবে। চুপ থাকলে চলবে না। যদি নিশ্চুপ থাকেন তাহলে সব দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।
Posted ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh