মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫
চলতি ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি। কিন্তু তাদের আলোচনা সফলতার মুখ দেখেনি। বরং রীতিমত বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গণে মিডিয়ার সম্মুখে দুই নেতাই জড়িয়ে যান উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে এবং একই সঙ্গে তাতে ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে তারই ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও এক হাত নিতে ছাড়েননি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্ভাবনাময় খনিজ চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। দৃশ্যত ট্রাম্প উদগ্রীব ছিলেন তিন বছর ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। তাই এক প্রকার ক্ষিপ্ত হয়ে জেলেনেস্কিকে ‘তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ’-এর ভয় দেখালেন।
উদ্দেশ্য ছিল একটাই ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজধাতু, যেমন- টাইটানিয়াম ও লিথিয়াম এবং গ্যাস সম্পদ ‘নিওন’ করায়ত্ত করা। একমাত্র ২০২২ সালের ১১ মার্চ বার্তা সংস্থা রয়টারের পরিবেশিত সংবাদ সূত্রে, বিশ্বের ৪৫ থেকে ৫৪ ভাগ কম্পিউটার চিপস ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ইউক্রেনের দুই বৃহৎ প্রতিষ্ঠান- ইনগ্যাস ও ক্রাইয়োইন এই নিয়ন গ্যাস সরবরাহ করতো তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, চায়না, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে, যা রাশিয়ার দখল ও আক্রমণে তীব্র বাধাগ্রস্থ হয়েছে এবং একই সঙ্গে অপ্রতুল চিপস ও সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যমূল্য বেড়ে গেছে।
সে জন্যই কৌশলগত চালে জেলেনেস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চাপ দেন ট্রাম্প। এমনকী জনসমক্ষে পূর্ব-ইউরোপের যুদ্ধের জন্য দায়ী করে বলেন, লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন তিনি, নতুবা ইউক্রেনের পাশে আমেরিকা থাকবে না। কিন্তু জেলেনেস্কি জান-মালসহ রাশিয়ার কাছে ভূখন্ড বেদখলের কারণে চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার ট্রাম্পের খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। শুধু তাই নয়, তাদের নির্ধারিত যৌথ প্রেস ব্রিফিং ও মধ্যাহ্নভোজ ছাড়াই ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলকে হোয়াইট হাউজ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ভাষায় জেলেনেস্কির আচরণ যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করেছে।
এমন অঘটনের পর জেলেনেস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আদৌ ‘ক্ষমা চাইবেন কিনা’ এমন প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ‘না’ জানিয়ে বলেন, হোয়াইজ হাউজের ওভাল অফিসে যা হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই অনভিপ্রেত। ট্রাম্প যদি ইউক্রেনকে সাহায্য না করেন, তবে রাশিয়ার আক্রমণ সামাল দেয়া দুরূহ হবে; তবে এই সম্পর্কটি বিনির্মাণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে আলোচনাটি ‘অর্থবহ’ হয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে জানান, আমেরিকার ভূমিকা থাকলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট শান্তি স্থাপনে অগ্রসর হবেন না, কারণ তাতে তিনি সুবিধাভোগী হবেন। আমরা কোনো সুবিধা দিতে চাই না, বরং শান্তি চাই।
এই অভাবনীয় পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠেছে, তবে কী ট্রাম্প রাশিয়ার ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মিলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে বিদ্যমান ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ বা ‘বিশ্ব বিধি’-টি ভাঙ্গতে চাইছেন? সেটা বোঝা যাবে, রোববার লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন ডেকেছেন সেখানে কী ঘটে? কেননা ট্রাম্প-জেলেনেস্কি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপের অধিকাংশ দেশের সরকার প্রধানই ইউক্রেনের পাশে থাকার পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কার্যত সেটাই এখন সকলের দেখার অপেক্ষা!
Posted ১২:৪১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh