বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ডিপোর্টেশনের নীতিমালা মানছে না ট্রাম্প প্রশাসন

মোহাম্মদ আজাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫

ডিপোর্টেশনের নীতিমালা মানছে না ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসীদের উপর চলমান দমন-পীড়নের প্রতিবাদে "অভিবাসী ছাড়া দিবস" পালনের জন্য ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছাত্র ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় ‘এ কান্ট্রি অফ ইমিগ্রান্টস’। যুগ যুগ ধরে এদেশে ইমিগ্রান্টরা এসেছে এবং আসবে। কোনো ইমিগ্রান্ট যদি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভেঙে অবৈধভাবে বসবাস করে তাহলে তাকে কীভাবে সেই ইমিগ্রান্টকে যদি গ্রেফতার করা হয় সেক্ষেত্রে তাকে বীভাবে ডিপোর্ট করা হবে সেটাও ইমিগ্রেশন আইনে বলা আছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ডিপোর্টেশন নীতিমালার তোয়াক্কা না করে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানকারী বিদেশিদেরকে তাদের নিজ নিজ দেশে ডিপোর্ট করার পথ বেছে নিয়েছে তা ইমিগ্রেশন আইনের পরিপন্থী।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩.৭ মিলিয়ন আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট রয়েছে। ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্টরা যদি কোনো আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টকে গ্রেফতার করে তাহলে তার কাছে প্রথমে তার পাসপোর্ট দাবি করে। সাধারণত বাসা থেকে কাউকে গ্রেফতার করা হলে পরে আইস এজেন্টরা কখনো কখনো পাসপোর্টসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আবার কখনো গ্রেফতারকৃত কারও কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। কোনো ইমিগ্রান্টকে মেঢয়য়াদোত্তীণ পাসপোর্টসহ গ্রেফতার করলে বা কোনো ইমিগ্রান্টের কাছে যদি আদৌ কোনো ধরনের পাসপোর্ট না থাকে সেক্ষেত্রে সেই ইমিগ্রান্টকে যেকোনো ডিপোর্টেশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়। সেখানে থাকে একাধিক ডিপোর্টেশন অফিসার। একই সঙ্গে ডিপোর্টেশন সেন্টারে রাখা হয় ইমিগ্রেশন বিচারক। ডিপোর্টেশন অফিসারের কাজ হলো আটক আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টকে ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করা।

ডিপোর্ট করার জন্য যেকোনো ডিপোর্টেশন অফিসারের কাজ হলো আটক ব্যক্তির নিজ দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এ সময় আটক ইমিগ্রান্টকে ডিপোর্টেশন সেন্টারে থাকতে হবে।

এ সময়ে যদি আটক কোনো ইমিগ্রান্ট বেঁকে বসে এবং বলে যে ‘আমি যাব না,’ তখন সেই ইমিগ্রান্টকে ডিপোর্টেশন সেন্টারেই ইমিগ্রেশন জজের সামনে হাজির করার বিধান রয়েছে। ইমিগ্রেশন জজের কাছে হাজির করা হলে বিচার আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের প্রশ্ন করবেন: ‘আপনি কেন যেতে চাইছেন না? আপনার কি কোনো আইনজীবী আছে?’ ইমিগ্রান্ট ব্যক্তির কথা ও যুক্তি শোনার পর ইমিগ্রেশন বিচারক হয়তো তাকে মুক্তির নির্দেশ দেবেন, অথবা বলবেন যে আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া গেল না। এ অবস্থা ভুক্তভোগী ইমিগ্রান্ট আপিল করতে পারেন এবং রাষ্ট্র তাকে সেই সুযোগ দিতে বাধ্য।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এসব আইন বা রীতির কোনো তোয়াক্কা না করে অবৈধ ইমিগ্রান্টদের গ্রেফতার করার সাথে সাথে কার্গো বিমানে উঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সংশ্লিষ্টদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা অনৈতিক, অমানবিক ও আমেরিকার ইমিগ্রেশন আইনের পরিপন্থী। এরপর রয়েছে অন্য আরেক ধরনের অবৈধ ইমিগ্রান্ট। এর মধ্যে পড়ে যারা এসাইলাম আবেদন করেছেন, কিন্তু এসাইলাম অফিস বা ইমিগ্রেশন আদালতে তাদের এসাইলাম মঞ্জুর হয়নি। কিন্তু তা সত্বেও তারা এদেশে রয়ে গেছেন। এছাড়া এমন দৃষ্টান্তও আছে যে, অনেকে এসাইলাম আবেদন করেছেন, কিন্তু যেদিন তাদের এসাইলাম ইন্টারভিউ হওয়ার কথা সেদিন তারা উপস্থিত হননি।

এছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যক্তির ওপর ডিপোর্টেশন অর্ডার ছিল, কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাননি। এই ক্যাটাগরির ইমিগ্রান্টদের যদি গ্রেফতার করা হয় এবং যদি তাকে ডিপোর্ট করা হয়, তাহলেও ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুসরণ করেই তাকে গ্রেফতার করতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ডিপোর্টেশন নীতি অনুসরণ করছেন না।

ওয়াশিংটন পোস্টের সূত্রমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩.৭ মিলিয়ন আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি রকেটগতিতেও আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের ডিপোর্ট করে তাহলে সকল আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টকে ডিপোর্ট করতে ২৮ বছর সময় লাগবে।
বাইডেনের সময় ২ কোটির বেশি অবৈধ ইমিগ্রান্ট এসেছে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেককেই বিপজ্জনক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত ৪ মার্চ মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কথা বলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী ‘ইউএস বর্ডার প্যাট্রল’–এর পরিসংখ্যান অনুসারে, বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন প্রায় ৭০ লাখ অভিবাসীকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করার সময় গ্রেপ্তার করেছিল এ বাহিনী। যদিও এ পরিসংখ্যানগুলোতে বারবার সীমান্ত অতিক্রমকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়দের তুলনায় অভিবাসীরা বেশি অপরাধ করেন না।

ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত নারী ও মেয়েদের উদাহরণ তুলে ধরেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন লেকেন রিলে ও জোসেলিন নুঙ্গারে। ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করলে অভিবাসন ও কাস্টমস বাহিনীর (আইসিই) জন্য অপরাধী নন, এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সহজ হয়ে পড়েছে। আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি আইসিইর হাতে অপরাধে যুক্ত থাকার রেকর্ড নেই, এমন গ্রেপ্তার ও আটক হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি সরকারি সেন্সরশিপের অবসান ঘটাবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবেন।

Posted ১:০২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9324 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1584 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.