মুজতবা খন্দকার : | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ইনটেরিমের তথ্য ও সস্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে রোববার নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলা ও ভাঙচুর করলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনা লীগের কর্মীরা। ওই হামলায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অক্ষত ও নিরাপদেই ছিলেন।
কিন্তু তিনিও হতে পারতেন আক্রান্ত। কিন্তু পরাজিত ফ্যাসিষ্টরা যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি, এই হামলা তার প্রমান। ইউনূসের পররাষ্ট্র দফতর,বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে হাসিনার কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। অবশ্যই বিষয়টি হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। দেশের একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টার ওপর হামলা চালালো ফ্যাসিষ্ট লীগের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাডারবাহিনী। এ নিয়ে দেশে কারো কোনো বিকার লক্ষ্য করলাম না। অথচ অন্য সময় হলে, বিশেষ করে ফ্যাসিষ্ট সরকারের কারো ওপর যদি এমন হামলা হতো, তবে দেখতাম,প্রতিবাদ বিক্ষোভে ঢাকার রাজপথে চলাটাই মুশকিল হয়ে পড়তো। বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতিতে পত্রিকা গুলোর প্রথম পাতার বড় বড় হরফে ছাপা হতো।
মাহফুজ আলমের ক্ষেত্রে কেন সবাই নিশ্চুপ। সেই বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবিরা নিশ্চুপ কেন? অথবা জুলাই আন্দোলনে মাহফুজের সেই সহযোদ্ধারা! যারা পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল গঠন করলো,সেই দল,সেই এনসিপি কেন,মাহফুজ আলমের উপর হামলা নিয়ে স্পিকটি নট। আগ্রাসি এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ’র ফেসবুকেও এ নিয়ে কোনো পোষ্ট দেখলামনা। বিষয়টা আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
অথচ, আরেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার বিরুদ্ধ কেউ সামান্য কিছু বললে, এনসিপি হা রে রে বলে তেড়ে আসে।
অথচ মাহফুজের বিষয়ে তাদের এই ভিন্ন আচরণ, বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করে। তাহলে কি মাহফুজের সাথে এনসিপির সুর তাল লয় কেটে গেছে। মাহফুজ যেহেতু একটু ভিন্ন টাইপের দুর্নীতি অনিয়ম, বখরা নিয়ে এখনো পর্যন্ত তার বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। শুনেছি, তিনি নিজের স্ত্রীর যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাকে সরকারি চাকরি করতে সবসময় নিরুৎসাহিত করে আসছেন। মাহফুজ আলম নিশ্চয়ই এনসিপির ফান্ড বাড়ানোতে কোনো সহায়তা করছেন না বলেই কি এনসিপি তার প্রতি গোস্সা করেছে? সব কিছুই আমার অনুমান। আমি জানিনা কেন তারা নির্বিকার।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োজিত প্রেস মিনিষ্টার পদে ডক্টর ইউনূস সরকার গোলাম মোর্তোজা নামে একজন সাংবাদিককে নিয়োগ দিয়েছেন। তাকে এই নিয়োগ দিতে ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করেছিলেন ডেইলী স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ইউনূস মাহফুজ আনামের, সে অনুরোধ ফেলতে পারেননি। সবশেষ মোর্তোজা ডেইলি স্টারও বাংলার সম্পাদক ছিলেন।
এই মোর্তোজা সম্পর্কে কিছু কথা বলা জরুরী। মোঁর্তোজা ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পক্ষে কলাম লিখেছেন, টকশো করেছেন। হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্লা ব্লা হবে বলে বয়ান দিয়েছেন। ২৩ সালেরর পরে এসে তিনি তার অবস্থান কিছুটা শিফট করেন, তখন তিনি বলতে থাকেন,হাসিনা ভালো, বাকি সবাই খারাপ। অথবা, তাকে ভুল বুঝানো হয়েছে…
চব্বিশের শুরুতে,তিনি নিজের নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন, এবং ভিউএর স্বার্থে আওয়ামী লীগের কুসুম কুসুম বিরোধিতায় নামেন। আপদমস্তক আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিক। দিল্লি স্টারে যোগ দেবার আগে চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগরের অর্থায়নে একটি স্বাপ্তাহিক পত্রিকা সস্পাদনা করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে তার প্রেস মিনিষ্টার নিয়োগ নিয়ে ঢাকার সাংবাদিক মহলে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। পাঁড় হাসিনা ভক্তকে প্রফেসর ইউনূসের ইনটেরিম কেন যুক্তরাষ্ট্রের মতন জায়গায় প্রেস মিনিষ্টার করলো সেটা নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। সিনিয়র সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন তোলা যে অযৌক্তিক ছিলো না তার প্রমাণ অনেকবারই আমরা পেয়েছি।
সরকারি চাকরি করার পরও তিনি ফেসবুকে লেখালোখি অব্যাহত রাখেন, যা সম্পূর্ণ চাকরিবিধির লঙ্ঘন। সস্প্রতি তিনি পোষ্ট দিয়েছেন, ডাকসুতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিপূল ভোটে জিতবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা কি এই ভাবে সোশাল মিডিয়ায় তার মনোভাব ব্যক্ত করতে পারে?
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি মোটা কথায় আছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সচিব পদ মর্যাদার। সেখানে গোলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সিনিয়র সচবব পদমর্যাদায়! এ নিয়ে আমলাদের মধ্যে অমন্তোষ, আর হাস্যরস দেখেছি। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিক নিয়োগ পেয়েছিলেন সচিব মর্যাদায়,সেখানে শুরুতেই গোলামকে দেয়া হয় সিনিয়র সচিব পদ। এটা কি প্রফেসর ইউনূস তার শুভাকাক্সক্ষী মাহফুজ আনামকে খুশী করতে করলেন কিনা আমি জানি না।
গোলাম মোর্তোজা প্রেস মিনিষ্টার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ফ্যাসিষ্টের যেসব দালাল সাংবাদিক, হঠাৎ আপার পলায়নে মুষড়ে পড়েছিলেন, তারা ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। জাত ভাই, আদর্শিক ভাইকে, এই দু: সময়ে পাশে পাওয়া সে তো মিরাকল।
মোর্তজাও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি ইনটেরিমের নিয়োগ হলে কি হবে, ‘আমি তোমাদেরই লোক’।
যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বন্ধু, ছোটভাই, সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী সব মিলে কমপক্ষে এক ডজন আছে, যাদের সাথে আমার অন্ত:প্রাণ সস্পর্ক। তাদের কেউ কেউ জানালেন, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসের হামলার পেছনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস মিনিষ্টারের কিছুটা হলেও হাত আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেমন করে? তারা জানালেন, দূতাবাসের কোনো প্রোগ্রাম হলে গোলাম বেছে বেছে ফ্যাসিষ্ট সরকারের সমর্থিত সাংবাদিকদের ইনভাইট করে। বিএনপি, জামায়াত, (এনসিপির সমর্থিত কেউ আছে বলে কোনো প্রমান নেই) বামপন্থী সমর্থিত সাংবাদিকদের কখনো বলে না। আর ফ্যাসিষ্ট লীগের সাংবাদিকদের সাথে আছে, হাসিনা লীগের নেতাকর্মীদের নিবিড় যোগাযোগ। সুতরাং নিউইয়র্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার স্ক্যাজুয়াল হাসিনা লীগের ক্যাডারদের জানার কথা না কিন্তু কেমনে জানলো?
জেনেছে,আওয়ামী সাংবাদিকদের কাছ থেকে। আর এদের জানালো কে? প্রেস মিনিষ্টার গোলাম।
এক সময়ের রেজাউল করিম রনির ঘনিষ্ট অনুজ মাহফুজ আলম। রনি প্রতিশ্রুতিশীল বুদ্ধিজীবী। আমার বয়োকনিষ্ঠ। বাট দেখা হলে আমরা বন্ধুর মতো আচরণ করি।
একটা পর্যায় গেলে, বয়সটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। রনি টকশো’র অনলবর্ষী বক্তা। তিনি প্রায় বলেন, ফ্যাসিষ্ট লীগের সাথে কোনো আপোষ কোনো দল করলে, সে দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। রনির কাছে, আমার প্রশ্ন, ইনটেরিম তাহলে কেন, ফ্যাসিষ্ট সমর্থককদের বেছে বেছে দেশ বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদো পদায়ন করছে..রনি, আপনি কি আপনার অনুজ মাহফুজ আলমের কাছে এইটার জবাব জানতে চাইবেন?
Posted ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh