মনজুর আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
কনস্যুলেটে হামলা একটা গুরুতর অপরাধ। কনস্যুলেট মানে বিদেশী দূতাবাস। একটি দূতাবাসের নিরাপত্তা তিনভাবে সংরক্ষিত। স্থানীয় আইনে, রাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইনে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা এখন একটি আন্তর্জাতিক খবর। রোববার প্রতিবাদ বিক্ষোভের নামে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ভিডিও ফুটেজে হামলার ভয়ঙ্কর সব দৃশ্য ফুটে উঠেছে। কনস্যুলেটের প্রধান দরজায় লাথি মারা, কাচের দরজাটা ভেঙে দেয়া, নেতাকর্মীদের পেশী শক্তি প্রদর্শন, চিৎকার করে গালিগালাজ করা, মারমুখী হয়ে বারবার প্রধান দরজার দিকে ধেয়ে যাওয়া ইত্যাদি ধরনের আক্রমনাত্মক আচরণ ভিডিওতে প্রত্যক্ষ করা গেছে। বিক্ষোভ প্রদর্শন এক কথা আর হামলা আর এক কথা। হামলা করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ প্রকৃত অর্থে সেই অপরাধটাই করেছে। জানতে পারলাম বিষয়টাকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা বিভাগ। গুরুত্ব দিতেই হচ্ছে হামলার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একটি বিদেশী দূতাবাসের বিরুদ্ধে হওয়ার কারণে। যে কোন বিদেশী দুতাবাসকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী অঙ্গীকারাবদ্ধ। পৃথিবীর সব দেশের ওপরই এই কনভেনশন প্রযোজ্য। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই হামলার বিষয়টিকে সহজভাবে নেবে বলে মনে হয় না।
দ্বিতীয়ত, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। যে কোন ধরনের হামলার বিরুদ্ধেই দেশে কঠোর সব আইন রয়েছে। হামলায় কনস্যুলেট ভবনের প্রধান দরজার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। সম্পত্তির ক্ষতি সাধন আর একটি বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। প্রশ্ন উঠতে পারে কি উদ্দেশ্যে এই হামলা? কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলদেশ সরকারের একজন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন। বিক্ষোভটি ছিল তার বিরুদ্ধে। তার ছবিকে বিকৃত করে বিক্ষোভকারীরা তাদের জীঘাংসাবৃত্তি চরিতার্থ করেছে, তার বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছে। মনে হয়েছে মাহফুজ আলমকে হাতে পেলে তার আর রক্ষা থাকবে না। যদি বিক্ষোভকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যেতে সক্ষম হোত তাহলে কি মাহফুজ আলম হামলার শিকার হতেন না? তার প্রাণ সংশয় দেখা দিত না?
নিউইয়র্ক শহরে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও চুপ করে থাকতে পারে না। শুনেছি তারাও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে? একজন বাংলাদেশি হিসেবে দুঃখের সাথে আমার প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এত বাড়াবাড়ি কেন? দেশ থেকে ধাওয়া খেয়ে, সামান্যতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে সবাই পালিয়েছেন। আমেরিকার মাটিতে নিশ্চিন্ত নিরাপদে বাস করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নামে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটিয়ে কি মেসেজ দিতে চাইছেন? কিসের জোরে তাদের এই ধরনের অবান্তর কার্যক্রম। কোথায় তাদের খুঁটির জোর? হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকায় থাকেন। তিনিই নাকি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রধান চালিকা শক্তি। কিন্তু এমন কর্মসূচি তিনি বা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কেন নেবেন যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে? ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন চাই। কিন্তু কোথায় তাদের সেই সৎ নেতৃত্ব যিনি দলের হাল ধরবেন? এমন একজন নেতা-কর্মীকেও বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি দুর্নীতি-অনাচারের ঊর্ধে নিজেকে রাখতে পেরেছেন। নিউইয়র্কে এই হামলার নেতৃত্বে থাকা একজনকে দেখলাম যার বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে দুই হাত ভরে দেশকে লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেককেই দেখলাম না যারা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, ব্যাংক বাগিয়েছেন। আসলে এরা রাজনীতি করার সকল নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছেন।
Posted ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh