শরমিলি সারমিন : | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একজন সন্তানের জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলোÑনিজের চোখের সামনে বাবা-মাকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হতে দেখা, অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা। আমরা সবাই জানি, এটাই পৃথিবীর নিয়ম, জীবনের স্বাভাবিক গতি। কিন্তু মন তা মানতে চায় না। হৃদয় একে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না।
এই কঠিন পৃথিবীর হাল ধরে..
শক্ত যে হাত দুটো আমাদের বেঁচে থাকতে শেখায়… সেই শক্ত হাত দুটোই একসময় কাঁপতে শুরু করে,নরম হয়ে যায়। যে পায়ে ভর করে সন্তানদের জন্য ছুটতেন, বাজার করতেন, ঘরের কাজ সামলাতেন, সেই পা একসময় শক্তিহীন হয়ে যায়। যে বাহুর উপথ একদিন নিশ্চিন্তে ,নিরাপদে ঘুমিয়ে যেতাম.. সেই বাহুর হাড়, চামড়া একসময় কুঁচকে যায়।
যে চোখ দুটো দিয়ে আমাদের ভুল গুলো দেখে সুধরে দিতো …ভালো-মন্দ চিনতে শিখিয়েছিলেন, এক সময়ের চোখ দুটো ছানি পড়ে জ্যোতি হারায়। যে কান দুটো দিয়ে আমাদের গল্প শুনে দিকনির্দেশনা দিতেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিতেন—বয়সের ভারে সেই কানও একসময় আর তেমন শুনতে পায় না, বয়সের ভারে বধির হয়ে যায়। যে মানুষ দুটি শৈশবে আমাদের প্রতিটি হোঁচট সামলে দিয়ে হাঁটতে শেখায়… সঠিক পথে চলার দিগ নির্দেশনা দেয়। সেই মানুষ দুটিই একসময় চোখের সামনে কুঁজো হয়ে যায়।
যে মানুষ সন্তানদের নাম, শৈশবের প্রতিটি কথা মনে রাখতেন, একদিন বার্ধক্যে এসে স্মৃতিশক্তি এমন ভাবে গ্রাস করেন যে …ভুলে যেতে থাকেন প্রিয় সন্তানের নামও।
আমরা যত বড় হই …বাবা-মায়েরা ততই বুড়িয়ে যায়।
আমাদের শৈশবে তাঁরা ছিলেন অদম্য লৌহমানব আর লৌহমানবী। কিন্তু সময়ের কাছে, বার্ধক্যের কাছে নত হয়ে শরীরের রক্ত, মাংস, হাড় ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়মের কাছে তাঁদের শক্ত দেহও একসময় হার মেনে যায়।
আর এভাবেই একদিন এগিয়ে চলে জীবনের শেষপ্রান্তের দিকে….
..বাবা – মায়ের বার্ধক্য, অসহায়ত্ব আর মৃত্যুর পথে এগিয়ে চলা …..একজন সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য!!!
সীমাহীন মৃত্যু যন্ত্রণা একদিন তাদের শরীর-মন ছুঁয়ে দেবেন…এই ভাবনা যখন সন্তানরা ভাবেন …তখন তাদের হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় ।পৃথিবী উলট পালট হয়ে যায় । বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হয়ে যায় । সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান মিথ্যা হয়ে যায়। পৃথিবীর এই অমোঘ সত্য মন কিছুতেই মেনে নিতে চায় না । পাহাড় সমান কষ্ট বুকে নিয়ে তবু সান্তানদের মেনে নিতে হয়… মেনে নেয়।
কারণ জীবন মানেই ধীরে ধীরে ক্ষয়ের পথে হাঁটা।
তবুও ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর অশেষ স্মৃতিই বাবা-মাকে অমর করে রাখে সন্তানের অন্তরে।
Posted ৯:২১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh