বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

নাম করণের খেলা

চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল :   |   বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাম করণের খেলা

সম্প্রতি বিএনপি বলেছে তারা ক্ষমতায় গেলে বিজিবি’র নাম পালটে আবারও বিডিআর করবে। কেন, নাম পরিবর্তনের দরকার কি? কাজ কি হচ্ছে সেটা তদারক না করে নাম পরিবর্তনের প্রতি খায়েশ কেন? আগের বিডিআর কি অনেক বেশী সৎ ছিল, অনেক বেশী সাহসী ছিল। চরিত্রটা তো একই ছিল। তখনও সীমান্ত হত্যা হয়েছে। চোরাচালানী, মানব পাচার সবই ছিল। যে পদুয়া, রৌমারী যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশ মনে করে যে ভারতের বিরুদ্ধে য্দ্ধু জিতেছিল সেটা শেখ হাসিনার আমলেই হয়েছিল। এর পর ভারতকে শান্ত করতে শেখ হাসিনাকে অনেক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার সময়ে বিডিআর মিয়ানমারের হাতেও মার খেয়েছে। একবার মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী সাত জন বিডিআর সদস্যকে গুলি করে মেরে ফেলার পর বিডিআর বলেছিল আমাদের ওয়ারলেস সেটগুলি নিতে পারেনি। এই ছিল বিডিআরের বীরত্ব। অতএব এই নাম নিয়ে বেশী আদিখ্যেতা দেখানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তাছাড়া বিডিআর নামটিও সেকেলে। যে রাইফেলের কথা বলা হচ্ছে সেই রাইফেল এ যুগে অচল। এই রাইফেল দিয়ে কোন আধুনিক বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন মানে নাম পরিবর্তন। সিস্টেমের পরিবর্তন নয়। যেমন আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি। সজীব ওয়াজেদের জায়গায় তারেক রহমান এই আর কি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন হবে কি না জানি। শেখ হাসিনা অনেক কৌশল করে জিয়া নামটি বাদ দিয়েছিলেন যাতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও নামটি সহজে পরিবর্তন না করতে পারে। ঠিক যেমন খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামের এম এ হান্নান বিমান বন্দরটির নাম রাখা হয়েছিল শাহ আমানত বিমান বন্দর। এই প্রবণতার সূচনা হয়েছিল আওয়ামী লীগ আমলেই। জিন্নাহ এভিনিউ’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। ওখানে জিন্নাহ’র কবর থাকলে কি নাম হত কে জানে।

আমরা নেতাদের চেহার আর দলের নাম পরিবর্তন চাই না। আমরা চাই দেশটা যেন ভেতর থেকে বদলে যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য নেতা আসে, নেতা যায়। দেশের কোন পরিবর্তন হয় না। নেতারা (ও তাদের অনুসারীরা) চৌর্যবৃত্তিকে তাদের অধিকার মনে করে। আমরা জানি না, সত্যিই জানিনা আয়ের দৃশ্যমান কোন উৎস না থাকলেও নেতারা কি করে বিদেশে তাদের ছেলে মেয়েদের পড়তে পাঠান। সেখানে বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হন।

প্রবাস জীবনে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা জানি না সজীব ওয়াজেদ জয় কি করে আমেরিকায় প্রাসাদোপম বাড়ীর মালিক হয়েছেন। তারেক রহমান কি করে বছরের পর বছর বিদেশে কাটিয়েছেন। আমি জানি এই সব কথা তুললে সবার বিরাগভাজন হতে হবে। এসব লিখলে কোন সম্পাদকই আমার লিখা ছাপতে চাইবেন না। তাই কয়লা ধোয়ার চেস্টা করছি না।

এবারের টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনও বিএনপি ফাকা মাঠেই খেলবে বলে মনে হচ্ছে। সব কিছূ স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী হলে খুব সম্ভব তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আমাদের হর্তা, কর্তা, বিধাতা। তার অতীত যদিও খুব একটা আলোকিত নয়, তারপরও ১৭ বছর ইওরোপে থেকে কিছুটা রিফাইন তো অবশ্যই হয়েছেন। আশা করছি তিনি গত তিন দশক ধরে তার মা ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যে খেলাটা খেলেছেন তার পুনরাবৃত্তি করবেন না।

বাংলাদেশে যোগ্য নেতৃত্বের বড়ই অভাব। যার নেতৃত্বগুন আছে তার মেধা ও সততা নেই। সততা থাকলে নেতৃত্ব দেওয়ার কারিশমা থাকে না। এই দুইয়ের সংমিশ্রনে না হলে দেশে ক্ষনজন্মা নেতার জন্ম হয় না। কিন্তু দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও তৈরী করা যায়। আশা করি তারেক রহমান জিয়া পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধি ও জাইমা রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত তৈরীর লক্ষ্যে শুধু জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার গুনগান না গেয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করবেন।

আমরা অতীতে নেতাদের ফ্রডবাজী দেখেছি। মুহাম্মদ ইউনুসের সংস্কারের নামে ক্ষমতা আকড়ে থাকার প্রানান্তকর চেস্টা দেখেছি। তিনি কি সংস্কার করেছেন কেউ জানে না। তিনি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান। প্রতিহিংসা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, চাদাবাজি, সন্ত্রাস সবকিছুই চলেছে তার সময়ে। সমাজে আমূল কোন পরিবর্তন আনতে পারেননি ইউনুস। পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন এনেছেন।

কিন্তু পুলিশের চরিত্র কি পাল্টেছে। ইনকিলাব মঞ্চের বিরুদ্ধে পুলিশের যে সহিংস আচরন দেখেছি তাতে দেখা গেছে পুলিশের পোশাকটাই পাল্টেছে শুধু। আচরনতো সেই একই রয়ে গেছে। পথচারীদের এভাবে না পেটালে কি হত না। মানুষ পেটানোর এত খায়েশ কেন? তাই নেতা পরিবর্তনের সাথে শুধু নতুন নামকরন নয়, সমাজটাও পরিবর্তন করতে হবে। এই জন্য নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তনটা শুরু হতে হবে দলের শীর্ষ নেতা থেকে।

Posted ১১:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9320 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1583 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.