শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১ | ৭ কার্তিক ১৪২৮

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

গণতন্ত্রের হত্যাকারী কে?

ড. মাহবুব হাসান   |   বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

গণতন্ত্রের হত্যাকারী কে?

বিএনপি গণতন্ত্র হত্যাকারী—- এই ঘোষণাকারীর নাম ওবায়দুল কাদের। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সেতু মন্ত্রী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই আমাদের রাজনীতিকরা বেশি সোচ্চার। জনগণের উদ্দেশ্যে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। আছে, তবে তা সরকার কি ডেভেলপমেন্ট করছে সেই ফিরিস্তিতেই সীমাবদ্ধ। এটা রাজনীতি না, এটা ইনফরমেশন জাতির কাছে। রাজনৈতিক ওয়াদা করে তার বাস্তবায়নের পর যা করা হয়, সেটাই ওয়াদাপূরণের রাজনীতি। সেই রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দু’পক্ষই সমান দক্ষ। এখন আওয়ামী কাল চলছে, তাই তাদেরই গলার আওয়াজ শোনা যায়। আর বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে, তাই তারা বরাবরের মতো সরকারের দোষ-ত্রুটি নিয়ে কথা বলাটাই তাদের রাজনৈতিক চর্চা বলে মনে করে। এর এই করোনাভাইরাসের কালে তারা বাদবাকি রাজনৈতিক ইভেন্ট বাদ রেখে এ-টুকুর মধ্যে সীমিত করেছে আজ। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের মিছিল-মিটিং করতে দেয় না। পুলিশ লেলিয়ে দেয়, দলীয় মাস্তানদেও দিয়ে ভেঙে দেয় সভা-সমাবেশ। এ-কারণে বিএনপি বোধহয় মিছিলের মতো সাধারণ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচির নিতে পারে না বা নেয় না। রাজনৈতিক এই পরিবেশের একটি সিমিলি খুঁজে পাওয়া যাবে যদি আমরা পেছনের দিকে তাকাই। সামরিক শাসনের সময় আমরা দেখেছি ‘ঘরোয়া’ রাজনীতির একটা চেহারা-চর্চা। আজকের রাজনীতি সেই ঘরোয়া রাজনীতির মতোই কথা সর্বস্ব। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনটাই।

এখন ওবায়দুল কাদেরের প্রতিদিনকার কাজ হচ্ছে প্রেস ব্রিফিং। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মুখপাত্রও বটে। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু কটু কথা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন। সেখানে মিথ্যা তো বিরাজমান বটেই, এমন সব অসত্য ও বিকৃতি উপস্থাপন করেন যা শুনে সাধারণ মানুষও বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে।বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী দল’ বলেছেন ওবায়দুল কাদের। কথাটা সত্য কি না তা যাচাই করে দেখা যাক। কি করে ওই ‘অ-গৌরবজনক’ তকমাটি বিএনপির গলায় ঝুলিয়ে দিলেন ওবায়দুল কাদের, তা বিশদে কিছু বলেননি।

ধারণা করি, জেনারেল জিয়াকে মনে রেখেই তিনি এমন ‘বানী’ নির্গত করে থাকবেন হয়তো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় বসেছিলেন তারা মুস্তাক আহমদেও নেতৃত্বাধীন তারই রাজনৈতিক সহযোগী। মুস্তাক আওয়ামী লীগেরই কেবল নন, বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্টজন ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার প্রায় ৮০/৯০ শতাংশ আওয়ামীরা যোগ দেন মুস্তাক মন্ত্রী সভায়। সেখানে জেনারেল জিয়া মুস্তাকের ক্ষমতা দখলের ৪/৫ দিন পর [ওই ৪/৫ দিনও বঙ্গবন্ধুর নিয়োগ দেয়া সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ সেই পদে ] সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান। এ-সবই জানা সত্য। কিন্তু গণতন্ত্র হত্যা কিভাবে করলো বিএনপি, যখন এ-দলটির জন্মই হয়নি! বরং আমরা দেখেছি, ইতিহাস সাক্ষী বঙ্গবন্ধু চলমান সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে সরকার ব্যবস্থা ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৫ মিনিটে সংবিধান থেকে গণতন্ত্র উৎখাত করে কায়েম করেছিলেন একদলীয় ‘বাকশাল’ সরকার। সব দল ও ভিন্নমত প্রকাশের পথ নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন তিনি। মাননীয় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তখন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বোধহয় , তাই তিনি ওই স্মৃতি ভুলে গেছেন এবং সেই স্মৃতির পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিয়ে বিএপির নাম প্রতিস্থাপন করেছেন। এ-দেশে প্রথম গণতন্ত্র হত্যাকারী হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। এতে লজ্জা পাওয়ার বা ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বঙ্গবন্ধু দেশের শাসন ব্যবস্থা ধনবাদী গণতন্ত্র থেকে সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। একটি ব্যবস্থা থেকে আরেকটি ব্যবস্থায় যেতে হলে তো আগের ব্যবস্থা পরিত্যক্ত হবেই। তাঁর চিন্তা ছিলো গণমানুষের পক্ষে। আর সে-কারণেই পুঁজিবাদীদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন তিনি। পুঁজির ‘পতিরা’ এতোটাই নৃশংস যে তাদের রাজনৈতিক কৃতিত্ব অশ্রু আর রক্তস্রোত ধারায় স্নাত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা সেটাই করেছিলো। এর পর সামরিক সরকার চলেছে। তারা দক্ষিণমনস্ক পুঁজিবাদের সৈনিক। বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ করেছিলেন রাজনৈতিক দলগুলো। জিয়া এসে সেই নিষিদ্ধ দলগুলোকে মুক্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাম্ভব করেন। ফলে গণতন্ত্রের অবরুদ্ধ অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে তা মুক্ত হয়। এরই পথ ধরে ‘বাকশাল’ থেকে কতিপয় বেরিয়ে এসে পুনরায় আওয়ামী লীগ দলটিকে রাজনীতির মঞ্চে নিয়ে আসেন।

এটাই প্রথম গণতন্ত্রের মুক্তির প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু এরশাদ এসে ওই গণতন্ত্রে টুটি চেপে ধরে সামরিক শাসন জারি করেন। এবং দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতার রস ভোগ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্মিলিত আন্দোলনের ভেতর দিয়ে পতনের সিঁড়িতে এসে পড়ে যান। এর পর প্রকৃত গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদিদের অভিযাত্রা চলছে। নির্বাচনের ভেতর দিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘কালো আইনগুলো’ বাতিল ও সংশোধিত হয়। ভোটাভুটির মাধ্যমে যে গণতন্ত্র এদেশের মানুষ দেখেছে ও জানে তার সূচনা হয়।আর এই অবমুক্তির কারবারী হলেন বেগম খালেদা জিয়া। অর্থাৎ জেনারেল জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়াই এদেশের গণতন্ত্র নামক সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থার নায়ক। তাহলে কি করে বিএনপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী হয়?অবশ্য আমরা জানি, ওবায়দুল কাদের ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা এমন সব মিথ্যা আর বানোয়াট তথ্য দেবেন যে তাতে অনেক সরল মানুষও বিশ্বাস করবে যে বিএনপিই গণতন্ত্র হত্যার জন্য দায়ী। বাংলাদেশে রাজনীতি এখন দুর্বৃত্তায়নের অধীন। আর দুর্বৃত্তদেরই সহযোগী হয়েছে রাজনৈতিক শক্তি। দেশে যে সব লুটের ঘটনা ঘটে চলেছে, সরকারই সে সব ধরে দেখাচ্ছেন, কিন্তু তার নাড়ী বা গোড়া আবিস্কার করতে পারছেন না। ফলে লুটে নেবার যে মনন, তার অবসান হচ্ছে না। এর কারণ যাদেরকে ধরা হয়েছে তারা আইনের ফোকড়ে পড়ে বসে আছে। সরকার সেই সব ফোকড় বন্ধ করেননি।

ওবায়দুল কাদেরের উচিত নেতা হিসেবে সেই সব ফাঁক ও ফোকড় বন্ধ করার কৌশল খুঁজে নেয়া। গণতন্ত্র কে বা কারা হত্যা করলো সেটা বলা তার শোভা পায় না। উন্নয়নের রাজনীতি, সত্যিকার অর্থে প্রগতির চাকায় তুলে দিতে হলে বেহুদা সময় অপচয় না করাই শ্রেয়। অন্য রাজনৈতিক দলের চরিত্র হণন রাজনীতি নয়। আর সরকারের সমালোচনা মানে সেই দলের বিরুদ্ধারণ নয়। সরকারের কাজের ত্রুটি সম্পর্কে জনগণকে জানানো। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার ভালো করছে না মন্দ করছে।এ-ক্ষেত্রে প্রধান সঙ্কট হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকারই হরণ করেছে এই সরকার। ভোটের দিনের আগের রাতেই সব ভোট চুরি কওে জিতে নিযেছে ক্ষমতার মসনদ। জনাব ওবায়দুল কাদের কি সেই সত্য ‘ধামাচাপা’ দেবার জন্যই এই সব বয়ান চালাচ্ছেন?

Posted ১২:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন
গল্প : দুই বোন

(1504 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন
মানব পাচার কেন

(490 বার পঠিত)

যত সঙ্কট তত লাভ
যত সঙ্কট তত লাভ

(398 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.