ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
এনবিএ ফাইনাল নিয়ে টানটান উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই বিশ্বকাপ। একই সময়ে বাড়ির পেছন আঙিনায় সবজি চাষ। সময় রমরমা বটেই। দৌড়ঝাঁপের বয়স হতেই শুনে আসছি বলখেলা, শুদ্ধ শব্দ ফুটবল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়া অবধি লেখাপড়া, প্রেমপ্রেম সমান্তরালে সমানতালেই চলেছিল ফুটবল। ক্লাব সৃষ্টি, মাঠ তৈরি করতে গিয়ে গ্রাম্য রাজনীতির কুৎসিত দিকের সাথে মুখোমুখি পরিচয় হয়েছে এ সময়েই ফুটবল ক্লাব সৃষ্টি নিয়েই। কেউ অন্য রকম দাবি করে পূর্বেই করেছেন বলে বা লিখে কৃতিত্ব নেওয়ার অপচেষ্টা করলে তা নাকচ করে দেওয়াই সঙ্গত।
রতনপুর-মাদারগড়ার ষাট দশকের তরুণ সমাজের উদ্যোগেই এমআর স্পোর্টিং ক্লাবের পত্তন হয়েছিল। দাবি সব মোকাবিলা করে এমআর ক্লাব পত্তন করা সম্ভব হয়েছিল। নজুমিয়া, ছাবুমিয়ার সফল প্রয়াস জাম্বুরা পর্যায় উত্তরণে এলাকায় প্রাণচঞ্চল অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। এ ধারাবাহিকতায় ফুটবল বা সকারপ্রেম উজ্জীবিত এখনো এই আশি বছর বয়সে। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাধুর্যে, মহিমায়, ঝগড়াঝাটিতে সেই কৈশোর, তরুণ বয়সে যেন ফিরে যাই। লেখালেখি শিকেয় ওঠে। এ সময়ে এনবিএ, বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের সাথে ঋতুচক্রের অমোঘ আকর্ষণে আমার এ আরেক নেশা—সীমিত আকারে বহিরাঙ্গনে সবজি চাষাবাদের এ ভর মৌসুমে সবজি বাগান ও এর পরিচর্যা। এ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং কাজে আমার ছোট বোন সবুতারা সাহায্য করে নিত্য, তাই বাঁচোয়া। এতসব সরগরম বিনোদনে লেখালেখির বেলায় চরম আলসেমিতে ভুগছি ইদানীং।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেখানে প্রতিমুহূর্তের অনুষঙ্গ, সেখানে দুর্বল পক্ষ সমর্থনে আমি বরাবরই এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকি। ফলাফল নৈরাশ্য, তবে হতোদ্যম হই না। মেসির তিন গোল দেওয়াটা আনন্দ দিয়েছে। তেমনি কেপ ভার্দে স্পেনের দুর্দান্ত টিমকে ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছে, এতেও দারুণ পুলকিত হয়েছি। এশিয়া বা আফ্রিকার কোনো দল কি ফাইনালে পৌঁছাতে পারবেÑএ ভাবনা নিত্যই তাড়িত করে। হয়তোবা জাপান, সাউথ কোরিয়া বা মরক্কো চমক দেখিয়ে দিতে পারে। এমনটি কায়মনোবাক্যে কামনা করি।
আশা করতে দোষ কী! মেসির হ্যাটট্রিক, যুক্তরাষ্ট্রের আশাব্যঞ্জক শুরু, কেপ ভার্দের শক্তিশালী স্পেনের সাথে গোলশূন্যভাবে পয়েন্ট শেয়ার, ফ্রান্সের অনবদ্য নৈপুণ্য মোহিত করে। এরলিং হালান্ড কি মেসির সমকক্ষ হয়ে উদিত হবেন? কে জানে। বিস্ময় আর চমকের খেলা ফুটবল বা সকার। প্রতি মুহূর্তেই উত্তেজনা, অপার বিস্ময়, আনন্দ, আবার বুকভাঙা হতাশা! ডেমোক্রেটিক কঙ্গো রোনালদোর পর্তুগালকে ঠেকিয়ে রুখে দিয়ে পয়েন্ট সমান ভাগ নিল—এ এক চরম উত্তেজনাকর খেলা ছিল। এ রকম চমক গত পাঁচদিনের খেলায় ঘটেছে, আরও ঘটবে বলা যায়। আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া খেলাটি কি হতে পারবে আমেরিকার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম খেলাটির মতো? বিশ্বকাপের প্রতিদিনের প্রতিটি প্রতিযোগিতাই উত্তেজনায় ভরপুর, সংশয় আর আশাবাদের জন্ম দেয় খেলা চলাকালীন প্রতি মুহূর্তেই।
আজ খেলার ১৩ দিন পেরিয়ে গেল। মেসি তার কুশলী খেলা অক্ষুণ্ন রাখতে সমর্থ হয়েছে। ফ্রান্সের তুখোড় খেলোয়াড় এমবাপ্পেও এ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির মতোই ৫টি গোল করেছে। পর্তুগালের স্টার প্লেয়ার তথা বর্তমানকালের সেরাদের অন্যতম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ মুহূর্তে (০৬/২৩/২০২৬) উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনটি গোলের ১টি করে ৩-০ গোলে এগিয়ে আছেন। তবে আজকের এ খেলাটি পর্তুগালের রাউন্ড অব ৩২-এ উন্নীত হওয়া নির্ধারণ করবে না। আজ পর্যন্ত ৭টি দেশ-মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, ফ্রান্স এবং কলম্বিয়া-রাউন্ড অব ৩২-এ উন্নীত হয়েছে। এ রাউন্ড শুরু হবে ২৮ জুন, ২০২৬ তারিখ থেকে। সারা বিশ্ব উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপ কে জিতে নেবে।
বাংলাদেশে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা-এ দুই দলের বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। নানান ধরনের উন্মাদনা, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও এ দুই দলের মধ্যে ফাইনাল খেলা হলে ঘটে থাকে। ফেসবুকে দেখলাম, বাংলাদেশে জমিজমা বিক্রি করে এক পিতা-ছেলের শখ মেটাতে ৭ মাইল লম্বা আর্জেন্টিনার পতাকা বানিয়েছে। শখ, জেদ আর প্রতিযোগিতার পাগল ফুটবলপ্রেম একসাথে চলে বিপর্যয়ের জন্ম দেওয়ার আরেক ঘটনা এটি নিশ্চয়ই!
Posted ৩:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh