ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের গ্রামে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ, হাটবাজার এসবের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রাচুর্য ও লক্ষণীয়ভাবে স্ফীত হচ্ছে দিনদিন। দালানকোঠা নেই এমন গ্রাম বিরল। মূলত দু’টো কারণে এমন দৃষ্টিনন্দন অবস্থা। জমি কেনাবেচার সাথে জড়িত ফড়িয়া, দালাল গোষ্ঠী (এরা এখন নাকি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে এ কাজ করে), এবং বিদেশে কাজ করছে এমন সদস্য-সদস্যাদের পরিবার। এ ব্যবস্থার অভ্যন্তরে কলহ-বিবাদ, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা, সংসারে অশান্তি, এমনকি ভাঙন এসবও চলছে।
বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম, আসক্তি, অনৈতিক, অন্যায় কাজ ঘটছে প্রতিনিয়ত। বিদেশে যারা অমানুষিক পরিশ্রম করে রোজগার করে তারা অনেক ক্ষেত্রেই সুখ ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার মান এবং হার এমন পরিবারে পরিস্থিতির কারণে নিম্নগামী। যাদের বুদ্ধি-বিবেচনা শিক্ষার কারণে, পারিবারিক ঐতিহ্যে তুলনামূলকভাবে পরিস্ফুট তারা আশেপাশের শহরে চলে যান ছেলেমেয়েদের কলুষিত গ্রামীণ বাস্তব অবস্থা থেকে দূরে রেখে শিক্ষার সুযোগ দিতে। সবসময় সফল নাহলেও ফলাফল প্রায়ই আশাব্যঞ্জক।
গ্রাম এখন আর শান্তির নীড় নেই। পরিবেশ দিনদিন অস্থিতিশীল, অস্বস্তিকর হয়ে যাচ্ছে। দালানকোঠা, মসজিদ-মাদ্রাসার পাশেই উন্মুক্ত নালা, কাঁচা নর্দমা। এগুলো পরিষ্কার রাখতে যে মানসিকতা, শিক্ষা, উপলব্ধি তা তেমন দেখা যায় না। সময়ে অসময়ে বাজারে আড্ডা, জুয়ার আসর, নেশাবস্তু সেবন চোখে পড়ে। গ্রামের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সংহতি, সম্প্রীতি রক্ষার যে অলিখিত বিধান তা নির্মূল না হলে অনেকাংশেই অনুপস্থিত। গ্রামে যে একটি অনানুষ্ঠানিক সামাজিক সালিশ কাঠামো তা যেন এখন আর তেমনভাবে নেই। এ কারণে সব দায়-দায়িত্ব পড়ে আনুষ্ঠানিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উপর। এমন পরিস্থিতিতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর চাপ পড়ে অনেক বেশি। মধ্যস্থতা, নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সর্বোপরি, স্বাবলম্বী হওয়ার যে প্রক্রিয়া, অনুশীলন তা ব্যাহত হয়। পরনির্ভরশীল হওয়াটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক নয়। ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ এই যে শাশ্বত সার্বজনীন প্রবাদ তা বিতাড়ন সুখকর হয় না।
অথচ, গ্রামে সুযোগ-সুবিধা এখন অনেক বেশি। স্কুল, পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, পরিদর্শন, খেলার ব্যবস্থা, স্কুলে টিফিন সরবরাহ সবই বৃদ্ধি পেয়েছে। যা পর্যাপ্তভাবে হচ্ছে না তা হলো সুনৈতিকতা, সৃজনশীলতা আর দেশপ্রেম সৃষ্টি ও এসব মূল্যবোধের লালন-পালন। গ্রামের যুবসমাজকে গ্রামপ্রীতিবোধে উদ্বুদ্ধ করে কাজে লাগানোর সুপরিকল্পিত উদ্যোগ এখন সময়ের প্রয়োজন। বিপথগামী যুবসমাজ যেমন গ্রাম, পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ, দেশ এবং জাতিকে উচ্ছন্নে নিয়ে যেতে পারে তেমনি উপযুক্ত মূল্যবোধে বলীয়ান যুবসমাজ সুখকর পরিবার, কল্যাণময় গ্রাম এবং এ পরম্পরায় সমাজ ও দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা ও অবদান রাখতে পারে।
Posted ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh