আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে কিউবান সংখ্যা প্রচুর। এরা রিপাবলিকান দলকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন করে থাকে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট কিউবা দখল করে নিতে চান- এ ঘোষণা তাদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবর্তে এক ধরণের উল্লাসের সৃষ্টি করেছে। ফিডেল ক্যাষ্ট্রোর কমুনিষ্ট শাসনের পরম্পরায় আমেরিকান-কিউবানরা আরোপিত বিধিনিষেধ কাটিয়ে সহজে মাতৃভূমিতে যেতে পারেন না।
অথচ, ফ্লোরিডা থেকে অল্প সময়েই কিউবা যাওয়া যায়। তারা মুখিয়ে আছে ট্রাম্পের বদৌলতে পররাষ্ট্র সচিব রুবিও এর আনুকুল্যে এবার কিউবা যাওয়া সহজ হয়ে যাবে। ট্রাম্প নিয়তই বলেন, ভেনেজুয়েলা সুড়সুড় করে এসে গেছে, ইরান অভিযানও ভালই চলছে , শেষ হলেই কিউবা দখল চুড়ান্ত করা হবে। কাজটি তার মতে, নিতান্তই পানিভাত। আসলে কি তাই!
পুতিনের সাথে গলাগলি ভাব হলেও ইউক্রেন প্রশ্নে মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। ইউরোপের মিত্রদেশগুলো হাঙ্গেরি বাদে সবাই পুতিনের সাথে ট্রাম্পের দহরম পছন্দ করছে না। একঘরে অনুভবে ন্যাটোকে অকেজো, আমেরিকা বিহনে শক্তিহীন একটি জোট বলে সমালোচনা করছে। ইরান অভিযান, অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে সাড়া না দেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। মনে হচ্ছে দৌত্যগিরি করতে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা হবে এমন কোন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারেছে না। তবে চরম বেকায়দায় পড়লে এক্সিট কৌশলে কাজে লাগবে মনে হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষার যে দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র হাজারো কোটি ডলারের বিনিময়ে নিয়েছিল তা ইরানের উপর্যুপরি আক্রমণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এদিকে, হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে কৃতকার্যতার সাথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আটকে দিয়ে যে সাহস দেখাতে পেরেছিল তাতে বলিয়ান হয়ে বেশ কিছু দিন বিরতির পর আবারও ইসরাইলে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা আবারো ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা শুরু করে ইসরাইলিদের দারুণ মুশকিলে ফেলেছে। শক্তিশালী, বাঁচার লড়াইয়ে সমর্পিত ইসরাইল ইরান, হুতি, লেবানন সব ফন্টেই যুদ্ধ করছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কায়দা করে দলে ফিরিয়ে প্রথমত জেরুজালেমে রাজধানী স্থানান্তর এবং আমেরিকার দূতাবাস স্থাপনের মতো কঠিন কাজের পরবর্তীতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংসের নামে দেশটিতে সর্বাত্মক আক্রমণ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার তেমন কোনো সুফল এখনো মেলেনি। তেল পরিবহনের হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে পারবেন বলে মনে হয়না।
তিনটি বিরাটাকার যুদ্ধ জাহাজ, তিন হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণের পরও অত্যাধুনিক আমেরিকান যুদ্ধ প্রযুক্তি ইরানকে কাবু করতে পারেনি। ইসরাইলের গুপ্তচর বাহিনী অবশ্য ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় এক ডজন ইরানি শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসমূহে আঘাত হানায় পারমাণবিক শক্তি অর্জনের প্রচেষ্টা ও সম্ভাবনা তিরোহিত হয়েছে এমনটি অনেক মহলই মনে করেন।
মিড টার্ম ইলেকশন, ইরান সমস্যা, আভ্যন্তরীণ ও বর্হিবিশ্বে বিরাজমান দ্বন্দ্ব ট্রাম্পের জন্য প্রকটভাবে চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এর মধ্যে কিউবা নিয়ে জড়িয়ে পড়া সমস্যাকে জটিলতর করে তুলেছে । ট্রাম্প কি ইরান থেকে সম্মানজনকভাবে বের হয়ে যেতে যাচ্ছেন? সবই যুক্তিযুক্ত এবং অনুমেয়।
পুতিনের সাথে গলাগলি ভাব হলেও কিউবা প্রশ্নে তা ভেনেজুয়েলার মতো নড়বড়ে নয় । মাদুরু মিত্র হিসেবে পুতিনের কাছে তেমন বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন না কিন্তু ফিডেল ক্যাষ্ট্রোর দেশ কিউবার সাথে মিতালী, স্বদভাব বরাবরই পরীক্ষিত। ট্রাম্প খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন যে ইরান সমস্যা গুটিয়ে তিনি অতি সহজেই কমুনিষ্ট দেশ কিউবা দখল করে নেবেন। একপর্যায়ে কিউবার সাথে ব্যবসা বানিজ্যে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেন। এমতাবস্থায় দেশটিতে তেল সরবরাহ, বিদ্যুত উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
সুপেয় খাবার পানি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ অন্যথা করলে ট্যারিফ বাড়িয়ে দেয়া হবে হুমকিকে আমলে এনে অনেক দেশই কিউবাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি । মেক্সিকো এবং স্পেন কিছুটা নমনীয় হলেও এখনো চুপচাপই আছে । তবে, পুতিন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কিউবাতে তেলভর্তি জাহাজ পাঠিয়েছে । হাভানাতে এখন রাতে আলো জ্বলবে অতি সীমিতভাবে । মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বলে যে দম্ভোক্তি তিনি যেকোনো সময়ে কিউবা দখল করে নিতে পারেন, দেশটিকে স্বাধীন করতে পারেন, যা খুশী তা করতে পারেন- এহেন খায়েশে রাশিয়ার পুতিন ছাঁই দিয়েছেন ।
Posted ১২:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh