ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
যুক্তরাষ্ট্রে এ সময়ে ২০২৪ নির্বাচন প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মূল দু’জন প্রার্থীই বিভিন্ন ধরনের চমক আনতে চেষ্টা করছেন। কমালা হ্যরিসের পক্ষ থেকে এ প্রচেষ্টা অনেক বেশী। বারাক ওবামা মহা উৎসাহে নির্বাচন ক্যাম্পেইনে নেমে গেছেন। কৃষ্ণাঙ্গদের, বিশেষত এ বর্ণের পুরুষদের কমালা হ্যারিসকে ভোট দিতে প্রলুব্ধ করছেন, সঙ্গত কারণে ধমকা-ধমকি ও করছেন। প্রথমবারের মত নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট যিনি সম্মানের সাথে সফল ভাবে দু টার্ম সম্পন্ন করেছেন তাঁর এ অধিকার আছে। আরেকজন জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন। তিনিও কমালা হ্যারিসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা মাঠে।
প্রাক্তন এ প্রেসিডেন্ট দুজনের জনসাধারণকে সম্মোহন করার শক্তি ও কৌশল সুবিদিত, পরীক্ষিত এবং প্রবল। হ্যারিসের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে রিপাবলিকান দলের অনেকেও তার সমর্থনে সরাসরি মাঠে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সময়ে হাউজ রিপাবলিকান কনফারেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন লিজ চেনি। তিনি হ্যারিসকে অ্যান্ডোর্স করেই ক্ষ্যান্ত হননি, তাঁর সাথে বিভিন্ন নির্বাচনী জনসমাবেশে বক্তৃতাও করছেন।
দলের প্রথম কাতারের নেতা লিজ চেনি। আরও অন্তত ৪০ জন যারা হাউসে আছেন বা ছিলেন তারাও কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করছেন। সিনেটে আছেন এমন কয়েকজন ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন। অনেকে নিকি হ্যালেকে অ্যান্ডোর্স করেছিলেন। ট্র্যাম্পের সাথে অতীতে কাজ করেছেন এমন কিছু ব্যক্তিবর্গ তাকে ভোট দেবেন না। কমালা হ্যারিসকে দেবেন এমন ঘোষণা ও কেউ কেউ দিয়েছেন বলে জানা যায় বিভিন্ন সূত্র থেকে।
উপরে বিধৃত তথ্যগুলো কমালা হ্যারিসের সপক্ষে তবে ট্র্যাম্প একক শক্তিতেও অনেক শক্তিমান। সাধারণত, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী যাদের কলেজ পর্যায়ে ডিগ্রী বা
শিক্ষাদীক্ষা নেই তারা এবং শ্রমজীবী বা ওয়ার্কিং ক্লাস শ্বেতাঙ্গ তারা ট্র্যাম্পের মূল শক্তি। এ বিশাল গ্রুপটি তে ধ্বস নেমেছে এমন কোন প্রমাণ নেই বরং ম্যাগা (MAGA-Make America Great Again) শ্লোগান ও কর্মতৎপরতা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে বলে মনে হয়। নেভাডা, পেন্সাল্ভানিয়া সহ কয়েকটি দোদুল্যমান রাজ্যে বেশ কিছু সংখ্যক ইহুদি ভোট ট্র্যাম্প পেয়ে যেতে পারেন।
৭ অক্টোবরের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল গাজায় যে ধ্বংস লীলা চালিয়েছে তার প্রতিবাদে সমাবেশ, শ্লোগান এসবের প্রতিক্রিয়া ইহুদি জনগোষ্ঠীর উপর পরেছে এমনটি ধারনা করা খুবই সঙ্গত। ইসরায়েলকে বেশুমার যুদ্ধ সরঞ্জামাদি , অর্থ এবং মানসিক সমর্থন দেয়ায় বাইডেন-কমালা হ্যারিস মিসিগান সহ আরও অনেক স্থানে আরব মুসলিম ভোটাদের কাছে আগের মত জনপ্রিয় নন। সংখ্যায় ারা প্রায় ৩ মিলিয়ন। এ জনগোষ্ঠীর প্রচুর ভোট গ্রীন পার্টির প্রার্থী পাবেন বলে ধারনা করা হয়। পক্ষান্তরে, কমালা হ্যারিসের জন্য নিগেটিভ এ সমস্ত ভোট পরোক্ষভাবে লাভবান করবে ট্রাম্পকে।
হ্যারিস পক্ষ স্বীকার করে যে ল্যাটিনো ভোটারদের সমর্থন ডেমোক্রেট দলের পক্ষে পূর্বেকার মত নেই। তারপর ও হ্যারিসের পক্ষে ৬৩% লাতিনো ভোট দেবে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম উল্লেখ্য করেছে। এ হার ২০২০ নির্বাচনে বাইডেনের পাওয়া হারের চেয়ে সামান্য কম। তবে, আরব মুসলিম, ছেড়ে যাওয়া ইহুদি এবং বেঁড়ে যাবে এমন সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ভোট অফসেট করতে কমালা হ্যারিস সমর্থ হবেন কি ? এ প্রশ্ন ও সন্দেহ অনেকের। কমালা হ্যারিসের জন্য আশার কথা, কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন প্রশ্নে মূল দু প্রার্থীর পার্থক্য অনেক বেশী। বাইডেনের চেয়ে কিছুটা কম হলেও হ্যারিস এখন পর্যন্ত ৮৭% ভোটারদের সমর্থন পাবেন বলে ধারনা কড়া হয়। ট্র্যাম্পের বেলায় এ হার মাত্র ১২% যা ২০২০ নির্বাচন থেকে ৩% বেশী।
কমালা হ্যারিসের সমস্যা হবে এ দেশে বসবাসরত দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী লাতিনোদের নিয়ে। ২০০০ নির্বাচনের তুলনায় ডেমোক্রেটদের প্রতি এদের সমর্থন ১৪ পারচেন্টেজ পয়েন্টে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য যে ২০২০ নির্বাচনে এ হার ডেমোক্রেটদের জন্য ছিল ৩৬% সুবিধাজনক পয়েন্টে। হ্যারিসের পক্ষে নির্বাচনের ১৮ দিন পূর্বেও লাতিনোদের সমর্থন ট্র্যাম্পের চেয়ে বেশী তবে তা ২০২০ বা ২০১৬ নির্বাচনের চেয়ে বেশ কম। ওবামা এবং ক্লিনটন এ দু জনই লাতিনোদের কাছে সমাদৃত। আশা করা যায়, তারা এ জনগোষ্ঠীর প্রচুর সংখ্যক ভোট কমালা হ্যারিসের জন্য টানতে পারবেন। মহিলাদের প্রায় নিরঙ্কুশ ভোট এবং লিঙ্গ ভিত্তিক আরও কয়েকটি দলের ভোট, বেশীর ভাগ ইউনিয়ন কর্মীদের ভোট, বেশ কিছু সংখ্যক রিপাবলিকান ভোট সব মিলিয়ে কমালা হ্যারিসের জেতার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল বলেই মনে হয়।
Posted ১২:২৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh