ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
ভারত সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম বাঙালিদের পুশ-ইন করে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে । বৃহৎ শক্তিশালী প্রতিবেশীর সাথে লড়ার মত শক্তি, সে সৈন্য সংখ্যায় হউক, আধুনিক সমরাস্ত্রে হউক বা বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সামর্থ্যে হউক, কোন ক্ষেত্রেই নেই । সরকারের ভিত শক্ত বলার জো নেই তেমন । সেনা বাহিনী ও সরকার প্রধান দুজনের মধ্যে মিল মহব্বত কতটা বিদ্যমান তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। শেখ হাসিনা ভারতে পলায়ন করেছেন, মোদী সরকারের আশ্রয়ে আছেন বিষয়টি ভারতের সাথে সম্পরকে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে সন্দেহাতীত ভাবে। সব মিলিয়ে প্রতিবেশী দেশটির সাথে সম্পর্ক খুবই নাজুক। নোবেল জয়ী ড. ইউনুস জনসাধারনের রায়ে ক্ষমতায় আসেননি বরং হাসিনা সরকারকে হঠানোর আন্দলনে রাজপথে ছাত্র জনতার উত্তাল মিছিল কেন্দ্র করে যে নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তাই ছিল আশু কারণ। তবে, বিদেশ শক্তির কুশীলবদের বুদ্ধি পরামর্শ ছাড়া ভারতকে হস্তক্ষেপে বিরত রেখে হাসিনাকে উৎখাত করা সম্ভব ছিল না।
ভারতে কট্টরপন্থি ধর্মান্ধ হিন্দুভা বিজেপি মোদী সরকার অখণ্ড ইন্ডিয়া প্রতিস্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে আছে বিজেপি ক্ষমতাসিন হওয়ার পর থেকেই। মৌলানা ভাসানী আসামে বাঙালি খেদাও আন্দোলনের প্রতিবাদে আসামের কংগ্রেস সরকারের অমানবিক আচরনের প্রতিবাদ করে নিরাস হয়ে কংগ্রেস পার্টি ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৫১ সালে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বহিরাগতদের আসাম থেকে বিতারন উদ্দেশে জোরালো কর্মসূচী হাতে নেয়। ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন হালনাগাদ করার জোর দাবী তোলা হয়। অচিরেই বহিরাগত শব্দটি পরিবর্তন করে বিদেশি শব্দটি ব্যবহার করার দাবী ওঠে। সাথে সাথে পরিকলপনা মাফিক বাঙালি হত্যা কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে যায়। ১৯১০ সালএর লাইন প্রথা ও বাঙালি খেদাও আন্দোলন থেকে বহু গুণ নৃশংস রূপ ধারণ করে নিপীড়ন ও পূশ ইন-শিন ঘটনাবলী। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সময়ে হত্যাকাণ্ড চরম আকার ধারণ করে । ছাত্রদের টি সাথে কুখ্যাত অল আসাম গণ সংগ্রাম পরিষদ ও অল আসাম ভলান্টিয়ারস সংগঠন যোগ দিলে অবস্থা চরম আকার ধারণ করে । উল্লেখ্য যে শেষোক্ত সংগঠনটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের নির্দেশ মোতাবেক পরিকলপনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নয়ন করে থাকে। আসামে বাঙালি মুসলমানদের বিতাড়নে বিজেপি অংশ গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সুসংহত।
সম্প্রতি আহমেদাবাদ থেকেও ঘেরাও করে বহিরাগত সন্দেহে বাঙ্গালিদের আটক করা হহেছে। আসামে॥ থেকে ৩০৩জন বাঙালি মুসলমানকে বিনা বিচারে রাতের অন্ধকারে বিদেশী সন্দেহে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে । রয়টারের ( জুন ১০, ২০২৫) মতে মানুষগুলো আসামে দীর্ঘ দিন যাবত আসামে বসবাস করে আসছে তেমন বাঙালি। আসামে ওদের বসত বাড়ি আইনানুগ ভাবে ক্রয় করা জমাজমি সবই আছে। ৩০,০০০ বাঙলা ভাষায় কথা বলে মুসলমানদের বিদেশী হিসেবে আখ্যায়িত করা অন্যায় হয়েছে বলে অনেক মহল মনে করে। সুস্পস্ট ভাবে বলা যায় যে বিজেপি আসামে বাঙালি মুসলমানদের বহিস্কার কর্মসুচিতে আরএসএসকে যূক্ত করেছে। কংগ্রেস ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধী প্রধান মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে যে আসাম চুক্তি হয়েছিল তাতে সহবস্থানের কথা নমনীয় ভাবে হলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদী অ টার ডানহাত বলে খ্যাত অমিত শাহ্ বিজেপির মুল সংগঠন রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের আদর্শ, উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে আরেক পর্ব শুরু করেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা নির্লজ্জএর মত বলেছেন বিদেশীদের বহিস্কারের সুপ্রীম কোর্টের আদেশ মেনে ৩০৩ বাংলা ভাষী মুসলমানকে পুশ-ইন করা হয়েছে। শীঘ্রই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে যাবে।
Posted ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh