বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

আস্ফালনই সার-লেবানন কাহিনি

ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ :   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

আস্ফালনই সার-লেবানন কাহিনি

‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’ ঐতিহাসিক ভাবে এ প্রবাদ বাক্যটি যেন লেবাননের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রযোজ্য সর্বাংশে। ১৯২০ সাল থেকে ১৯৪৩ অবধি লেবানন মূলত ফ্রান্সের কলোনি হিসেবে শাসিত হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম ২৬ শরিক বৃটেনের সম্মতি ছিলো। লেবাননের জন্য ২৩ বছরের এ সময়টা ছিলো আকাক্ষিত আনন্দের, এক কথায় সুসময়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এ ভূখণ্ড বারবার লুন্ঠন, অত্যচার, অনাচার এসবের শিকার হয়েছে । শাসক বদলেছে ঘনঘন। ক্রুসেডের পটভূমি এবং চলাকালীন সময়ে ছোট-বড় খ্রিস্টান শক্তি এ জনপদ পদানত করেছে বারবার। এতই দুর্বল রাষ্ট্র ছিলো যে রাজন্য মারা যাওয়ার পর বৈরুতের রাণীকে সাইফ্রাসের লোভী কামুক স্বভাবের রাজার হাত থেকে বাঁচাতে সুদূর মিশর থেকে সুলতান বাইবারকে সৈন্য পাঠাতে হয়েছিল। মৃত্যুপথ যাত্রী রাজা হ্যমুর মিশরের সুলতানকে এমনই অনুরোধ করেছিলেন।

ইতিহাস তুলে ধরার এতসব প্রয়াস এ রূঢ় বাস্তব পরিষ্কার ভাবে বিধৃত করার জন্য যে লেবানন শৌর্য্যবীর্যের মানদণ্ডে খুবই নীচু কাতারের দেশ ছিল। হতে পারে সহজেই সম্পদ মিলে এমন

ভূ-খন্ডে বীর তৈরি প্রক্রিয়ায় শাসকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। অবস্থা এখনো তথৈবচ। ইসরাইল, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনী, ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু, শিয়া-সুন্নী-মেরোনাইট খৃষ্টান এ ত্রিপক্ষীয় দ্বন্দ্ব এবং লড়াই লেগে থাকা দেশটিতে দীর্ঘদিন যাবত শান্তি-শৃঙ্খলার ছিটেফোটাও নেই। অর্থনৈতিক অগ্রগতি থমকে গেছে, শিল্প-বানিজ্য স্থবির অবস্থায় নীত, বন্দর কার্যত অচলাবস্থায়, শান-শওকতে পরিপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র হামরা ষ্ট্রীট প্রাণহীন। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির ফলশ্রুতিতে অনেক লেবানিজ ব্যবসায়ী শ্রেণীর লোকজন দেশত্যাগ করেছে। বেক্কা ভ্যালি,
আক্কা সমতলের কৃষিপণ্য, ফল-মূলের উৎপাদন আশানুরূপ নয়। অবস্থা পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো সমর্থ আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

লেবানিজ সরকার বরাবরে মতোন বাগাড়ম্বরের পথ অবলম্বন করছে। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে করেই হোক দক্ষিণ লেবাননে শান্তির সুবাতাস বইবে দেবেন । সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে টায়ারে অবস্থিত বৃহৎ সেনা ছাউনিতে সেনাসদস্যদের সমাবেশে ঘোষণা দেন, সেনাবাহিনী শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করে সীমান্ত এলাকা রক্ষা করবে। দক্ষিণ লেবানন সুরক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি ভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীর।
ঐতিহাসিক এবং সামরিক সক্ষমতা দৃষ্টিকোণ থেকে দখলে প্রসিডেন্ট আউনের এহেন বক্তব্য নেহাতই বালখিল্য ঠেকে। লিটানী নদীর এপার-ওপার লেবানন এবং ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ করা যৌক্তিক। ইসরাইল তা করছে, এমনকি প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণ লেবানন, এমনকি বৈরুতে অভিযান চালিয়ে ও নিয়ন্ত্রণ করছে। লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেনা। হিজবুল্লাহ বাহিনীকে প্রায় নেতা শূন্য করেছে ইসরাইল। লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহ বাহিনীর সদস্যদের খোদ বৈরুতেই দমিয়ে রাখতে অপারগ ; সাউদার্ন লেবাননে তো প্রশ্নই আসে না!

বিভাজিত সরকার ব্যবস্হায় লেবাননের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ সীমান্ত এবং ভূখণ্ড সুরক্ষার ঘোষণা তাই শুধুমাত্রই আস্ফালন, বিশ্বাস করার মতো কিছুই নেই।

নভেম্বর ২৬, ২০২৬, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক ।

Posted ৩:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9320 বার পঠিত)

স্মরণে যাতনা

(1861 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1583 বার পঠিত)

আত্মঅহমিকা

(1367 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.