ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রশংসনীয় ভাবে গাজায় চলমান হত্যাকান্ড বন্ধ করার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ২০ পয়েন্টের এ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করলে তা গৃহীত হয়। এটিকে একটি সফল উদ্যোগ অনেক মহল মনে করলেও সমালোচনাও হচ্ছে প্রচুর।
প্রায় একই সময়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধাবস্হা সামাল দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২৮ পয়েন্টের এ প্ল্যানটি অবমুক্ত করা হলে এটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। দুটি পরিকল্পনার মধে্য সাযুজ্য থাকলেও বৈপরীত্যও লক্ষণীয়। উদ্দেশ্য বিবেচনায় পরিকল্পনা দুটোই মানবিক আদর্শে অর্থাৎ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- সংঘাত, সংঘর্ষে ইতি টেনে শান্তির সুবাতাস আনয়ন করা। তবে, একটু গভীরে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে প্রস্তাব দুটো পক্ষপাতহীন নয়। ইসরাইল এবং রাশিয়ার স্বার্থরক্ষা এবং দেখার পক্ষে পাল্লা ভারী।
ইউক্রেন সম্পর্কিত পরিকল্পনায় রাশিয়াকে তার দখলকৃত ভূমি প্রদান করে সন্ধিগ্রন্থি বন্ধন সম্ভব এমনটিই বলা হয়েছে। আক্রমণকারী হয়েও রাশিয়া এ চুক্তিতে লাভবান হবে । তাতেও রাশিয়া প্রীত নয়। শর্ত দিয়েছে ন্যাটো জোটে ইউক্রেন যোগ দিতে পারবে না; সেনাসংখ্যা কমাতে হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে দেয়া যাবে না।
ভূমিদখল যা করেছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন রুশ ভাষাভাষী শিল্পাঞ্চল রাশিয়ার পদানত থাকতে হবে। এদিকে প্রসিডেন্ট ট্রাম্প সোজাসাপটা বলেছেন যে রাশেদা সুবিধাজনক অবস্থানে; ইউক্রেনকে যুদ্ধের বদলে তার সীমাবদ্ধতা মেনে নেয়াই শ্রেয়তর। গাজার ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের নিধন ও নিপীড়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তেমন কোন কথাবার্তা নেই। হামাস ইসরাইলিদের নিধন শুরু করেছিল সত্য কিন্তু প্রতিশোধ, প্রতিরোধের নামে ৫৫ হাজারের বেশী ফিলিস্তিনি হত্যা, বেশীর ভাগ হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা, খাদ্যশস্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এমনতরো ব্যবস্থাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসরাইল হামাসকে উৎখাত করায় বদ্ধপরিকর। যুক্তরাষ্ট্র ২০ পয়েন্ট প্ল্যানে গাজাবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কিছু বলেনি বরং প্রচ্ছন্ন ইংগিত দেয়া হয়েছে যে ইসরাইল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এদের নিয়তি নির্ধারণ করবে। ফিলিস্তিনিদের জাতিগত বা রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি কোন গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি । ইউ এন রিজলিউশনে অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরাইল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চাইলে প্যালষ্টাইন অথরিটি গাজা পুনর্গঠনে যুক্ত থাকতে পারবে।
ইউক্রেন পরিকল্পনা নিয়ে বাগবিতণ্ডা প্রচুর। রাশিয়ান খসড়া অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে এমন ধারণা শুরুতে করা হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দেয়। ইউরোপিয়ান বেশিরভাগ রাষ্ট্রের এবং কতিপয় রিপাবলিকান সিনেটর ইউক্রেনকে সরাসরি সংপৃক্ত না করে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু কিছু প্রস্তাবে ইউক্রেনকে সংযুক্ত করে। রাশিয়া এহেন প্রস্তাবগুলো কতটুকু সমর্থন করেছে তা পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে মনে হয়না। সংঘবদ্ধ ইউরোপীয় শক্তিগুলো সুসংহত হতে পারলে পুতিন কিছুটা রাশ টানতে পারে। অন্যথায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বে আঘাত আসবে নিশ্চিত।
Posted ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh