ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
(দ্বিতীয় অংশ) : হোয়াইট হউজ, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ- প্রধান এই তিনটি অঙ্গ ২০২৪ নির্বাচনে কব্জা করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যবস্থার সর্বসেরা অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টেও তার নিয়োজিত বিচারকগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সমাসীন। এতে করে জো বাইডেন আমলে প্রণীত এবং গৃহীত মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসকরণ অ্যাক্টের সাথে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি দারুণ সমস্যায় নিপতিত হয়েছে।
উল্লেখ্য করা প্রয়োজন যে এই অ্যাক্টটির আওতাধীন প্যাকেজে জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহৎ অংকের ডলার ট্যাক্স ক্রেডিট হিসেবে অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা দিয়ে নবায়ন করা যায় এমন জ্বালানি বা এনার্জি, ইলেকট্রিক যানবাহন, গৃহ নির্মাণ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার, বায়ো-ফুয়েল ইত্যাকার প্রযুক্তিসমূহের বিধান রাখা হয়েছিল যাতে এসবের ব্যবহারে বিশ্বে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হ্রাস করা সম্ভব হবে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসছেন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষেত্রে জো বাইডেনের অর্জন, নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আশা-আকাঙ্খার উন্মেষ লক্ষ্য করা হয়েছিল তা ধুলিস্যাত হওয়ার পথে।
প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে ধারণা তা বিজ্ঞান ভিত্তিক নয় বলেই অনেকে মনে করেন। বর্তমান বিশ্বের বেশীর ভাগ বিজ্ঞানী গ্রিনহাউজ গ্যাসের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে ধারণাকে বিজ্ঞানসম্মত মনে করলে ট্রাম্প ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে কিস্টোন এক্সেল পাইপলাইন সংস্থাপনের দায়িত্বে নিয়োজিত শিল্প প্রতিষ্ঠান টিসি এনার্জি করোনা ভাইরাস সৃষ্ট আতঙ্ক এবং বিধিনিষেধ কাজে লাগিয়ে অসামান্য দ্রুততার সাথে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
এতে আমেরিকার অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পপতিদের তেল উত্তোলন, পরিশোধন, সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ এনে দিয়েছিল। ২০২৪ নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের বড় অংকের চাঁদা এরাই দিয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয় লাভ করায় জলবায়ু পরিবর্তন বিরোধী গোষ্ঠী ফসিল জ্বালানি ব্যবহার অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে আরও সম্পদশালী হবে কিন্তু পরিবেশ, প্রতিবেশকে করবে অসহনীয় মাত্রায় দূষণীয়। কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিস্তার ভূ-পৃষ্ঠে, সমুদ্রে, আবহাওয়ামণ্ডলে অর্থাৎ জলে স্থলে সবখানে পরিব্যাপ্ত হলে বিশ্ব বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি দারুণ চ্যালেঞ্জিং। সকল মহলের, বিশ্বের সকল দেশের ঐকান্তিক ইচ্ছা, প্রচেষ্টা, ধনী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের অর্থায়ন ব্যতীত দুরূহ কাজ করা সম্ভব নয়। এনজিও, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ এসবের অবশ্যই প্রয়োজন তবে বৈশ্বিক ভাবে এ সমস্যাকে মোকাবেলা করার গত্যন্তর নেই। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল এবং নীলনকশা বাস্তবায়নে সবসেয়ে বড় সমস্যা অর্থের জোগান। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার সরকার যে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশকে নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবেলা করতে নেমেছিলেন তা প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে মোটেও আশা করা যায়না।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার অনীহা, অবিশ্বাস এবং প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যক্ত অভিপ্রায় আন্দোলন এবং কর্মোদ্যমকে দারুণভাবে ব্যাহত করবে। জলবায়ু দূষণের জন্য মূলত দায়ী রাষ্ট্রগুলো শিল্প প্রসারে, বৈভব বাড়াতে আরও তৎপর হবে কারণ জ্বালানি হিসেবে তৈল এবং কয়লার ব্যবহারে বাধা দেওয়ার কোন সম্মিলিত শক্ত ফ্রন্ট বা শক্তি থাকবে না। ট্রাম্পের শাসনকালে সৌদি আরব, রাশিয়া, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, এমনকি ব্রাজিল অর্থ জোগানে মোটামুটি নিস্ক্রীয় থাকবে।
থমকে যাবে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের আশা এবং সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সকল ধ্বংসযজ্ঞ আরও বিস্তৃত হবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত বেশ কিছু উপকূলীয় দেশসমূহে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী সেই শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো দূষণের দায়দায়িত্ব বহন করবেনা এমন সত্যই প্রতিভাত হচ্ছে বর্তমান সময়ে। মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা সম্প্রতি জলবায়ু বিষয়কে প্রতিষ্ঠানটির মিশনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ছোট ছোট প্রজেক্টে বরাদ্দ দিয়ে কালক্রমে বড় অগ্রগতি অর্জন সম্ভব এমন আশাবাদ তিনি ব্যক্ত করেছেন। তার এ ধারনা সমন্বিত রূপে কৃষি, শিক্ষাসহ ব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। প্রাইভেট সেক্টরের সাথে ও কাজ করতে হবে বলে অজয় বাঙ্গা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্ব ব্যাংক জলবায়ু পরিবর্তনে ৪৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। এ বছরে জলবায়ু খাতে ব্যাংকের বরাদ্দ ৪৫% বাড়ানো হবে বলে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। (চলবে)
২১ নভেম্বর ২০২০ , নিউ ইয়র্ক ।
Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh