ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫
জোর গুজব এবং গুন্জন বিশ্ব সংস্হাটির পরবর্তী মহাসচিব হবেন একজন অত্যন্ত সফল মহিলা প্রশাসক। কে হবেন তা নিশ্চিত জানা না গেলেও অন্তত দুটি নাম এ মুহূর্তে মনে আসছে। এর একজন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি পদটি পেতে আগ্রহী এবং সময়মতো প্রার্থী হতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
লড়ার জন্য মানসিকভাবে তিনি প্রস্তুত ; অভিজ্ঞতার ও কমতি নেই। জেরো মিডিয়ার প্রতিনিধি সাথে প্যারিসে অনুষ্ঠিত পিস কনফারেন্সে সাইড লাইনে এক ইন্টারভিউতে জাতিসঙ্ঘের হিউম্যান রাইটস সংস্হার প্রাক্তন হাইকমিশনার মিশেলি ব্যাচেলৎ বলেন, বর্তমান সময়ে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পুরুষ নেতৃত্ব সংস্থাটির মূল দায়িত্ব পালনে, উদ্দেশ্য হাসিলে শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সহিংসতা, হানাহানি, নির্যাতন এবং হত্যা যজ্ঞ অব্যাহত গতিতে চলছে তা পুরুষ শাসিত জাতিসংঘ সামাল দিতে পারছে না। অকারণে অহম প্রদর্শন, জেদ, পুরুষালী দম্ভ এবং আমিত্ব মানসিকতা চলমান নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। পুরুষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা, বিনয়, মানবিকতা, ছাড় দেয়া এসব মূল্যবোধ অনুসঙ্গ হিসেবেও আসেনা।
মিশেলি খোলামেলা ভাষায় বলেন, “Sometimes when I see wars, I feel there’s too much testosterone over there. Leaders put in front issues that are not the most important thing, it’s more about who wins.” (দেখুন, Why the UN needs women in leadership, GZEROMEDIA, October 29, 2025)।
সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং আপোষ করার মানসিকতা না থাকলে সন্ধি বা নিষ্পত্তি সুদূরপরাহত হবে জানা কথা।
বর্তমান সময়ে জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী চলমান বিরোধগুলো মীমাংসায় ব্যর্থ হয়েছে বা অন্তত্য গৌণ ভূমিকা রাখছে। মধ্যস্হতা করতে যে নৈর্ব্যক্তিক আচরণ, মানবিক সম্পর্ক স্হাপন, অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পারস্পরিক সম্মানবোধ, অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে আলোচনা, নেগোসিয়েশন এবং সম্মানীয় লেনদেন তা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে।
নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডার্ন (ঔধপরহফধ অৎফবৎহ) কঠির এবং অস্হির সময়ে ধীরস্থির ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন তা তাকে নারী নেতা হিসেবে সমাদৃত করেছে। মার্চ ১৫, ২০২৫ তারিখে নিউজিলান্ডের ক্রিষ্ট চার্চে দুটো মসজিদে একজন অষ্ট্রেলিয়ান বন্দুকধারীর ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যা করে। সেসময় সবেমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেবার পার্টি নয় বছরের ব্যবধানে শুধুমাত্র জেসিন্দার রাজনৈতিক কুশলতায় এবং জনপ্রিয়তায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে দুটো পার্টির সাথে কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় আসে। ১৯৬১ সালে জন্ম নেয়া জেসিন্দা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের তিনদিনের মাথায় মুসল্লি নিধন ঘটনা ঘটে। খবরটি যখন তিনি পান তখন জেসিন্দা প্লিমাউথের সন্নিকটে একটি স্কুল পরিদর্শন থেকে ফিরছিলেন। তার সাথে ছিলেন স্থানীয় মেয়র।
পুলিশ মিনিস্টারের ফোন পেয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে লোকাল পুলিশ অফিসে যান। তার বিশ্বস্ত অর্থ মন্ত্রী গ্রান্ট রবার্টসনের সাথে আলোচনা করে ঘটনার একঘন্টার ও কম সময়ের মধ্যে তিনি বার্তা পাঠ করেন।
নিউজিল্যালন্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে মমতা মাখানো হৃদয়ের কোমল অনুভূতি এবং ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে যে শপথ নিয়েছিলেন তা এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল যে মুসলমানেরা শান্তমনে তা গ্রহণ করে এবং কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন থেকে বিরত থাকে। এ ঘটনার পরম্পরায় আগ্নেয়স্র সীমিতকরণ এবং ব্যব্যবহারে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় যা পরবর্তীতে তার সহযোগী নেতা এন্জেলা মার্কেল, ইম্যানুয়েল মেক্রন সহ মাইক্রোসফটের ব্যাড স্মিথ, ফেসবুকের জুকারবার্গ, ইউটিউবের সুসান, টুইটারের জ্যাকঁ ডোরসে, টেক কোম্পানির প্রধানদের প্রচেষ্টায় ক্রিসচার্চ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
নিবন্ধটিতে যে দুই জন করিৎকর্মা, মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ নারী নেত্রীদের কথা সংক্ষেপে বিধৃত হয়েছে তাদের একজন যদি জাতিসংঘে মহাসচিব বা অন্য কোন দায়িত্বে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তবে তা হবে যোগ্য ব্যক্তির স্বীকৃতি এবং যোগ্য নেতার যোগ্য আসনে নিযুক্ত হওয়ার অনন্য উদাহরণ।
Posted ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh