ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার আনবিক বোমায় হতবাক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জাপান সম্প্রতি জেগে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে বদ্ধপরিকর হয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সামরিক প্রযুক্তি নির্মাণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাইছে। চীন ভীতি, যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান অবস্থান-এ দুটি বাস্তবতা মেনে নিয়ে জাপান নিজেকে প্রস্তুত করছে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। এ উদ্দেশ্যের সাথে চিরাচরিত ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি যোগ হয়ে জাপান সামরিক প্রযুক্তি শিল্প পুনরুদ্ধার এবং আধুনিকায়ন করার কাজে নেমে গেছে ।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই সানাই চাকাসি ঘোষণা করেছিলেন যে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন জাপানকে তিনি সামরিক স্বয়ংম্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবেন। লক্ষণ এমনই দেখা যাচ্ছে। মূলত, বিপদে আমেরিকা কি প্রতিশ্রুতি মত কাছে দাঁড়াবে- এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন প্রস্তুতি। কুশলী প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সাথে জাপানের ক্ষমতাসীন দলকে পাশে টেনে এনেছেন। ট্রাম্পকে ও বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে নেহাতই ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক কারণেই এ প্রস্তুতি। তবে, বাস্তবতা ভিন্ন।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইদানীংকালে মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সিকিউরিটি প্রদানের অঙ্গীকারে বিপত্তি, অনীহা অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত করেছে । ইরানের সাথে যুদ্ধ, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসা, পুতিন প্রীতি ইত্যােকার উদাহরণ মিত্রদের বিচলিত করছে সন্দেহাতীতভাবে। ন্যাটো ছেড়ে আসার হুমকিও বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলত রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে আগ্রাসী মনোভাব জাপানকে ভীত সন্ত্রস্ত করেছে। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের অসহিষ্ণুতায় জাপান দারুণ নাখোশ। হুমকি দিয়েছে, তাইওয়ান আক্রান্ত হলে জাপান বসে থাকবে না। সব মিলিয়ে জাপান নিজেকে যেকোন যুদ্ধাবস্থায় প্রস্তুত রাখতে চায়। তাই, জাপানের ক্ষমতাসীন দল দেশটির সামরিক শিল্প কারখানাগুলো ত্বরিত গতিতে শক্তিশালী করে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনশীল করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
দীর্ঘদিন যাবত নির্লিপ্ত, নিশ্চুপ জাপান চলতি বছরে সামরিক খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষত সাবমেরিন এবং ফাইটার জেট নির্মাণে হাত দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান তোশিবা এবং মিৎসুবিসি ইলেক্ট্রনিক্স পুরোদমে কর্মচারী নিয়োগ করছে। একই সাথে বিদেশের, বিশেষত ফিলিপাইন, পোল্যান্ড এবং এশিয়ান বেশ কিছু দেশের সাথে বিক্রয় চুক্তিও করছে । দেশের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে লাভবান হওয়ার এ দ্বিবিধ উদ্দেশ্য নিয়ে এ উদ্যোগ পরিশ্রমী জাপানী শ্রমশক্তি সফলতার মুখ দেখবে নিঃসন্দেহে। বিভিন্ন জোটের দেশগুলোতে জাপানের সমরাস্ত্রের চাহিদা থাকবে বলেও মনে হয়।
উল্লেখ্ করা যেতে পারে যে বিশ্বের যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য চ্যাল্ন্জের মুখে পড়তে পারে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের যুদ্ধাস্ত্রের ৯০ শতাংশ, অষ্ট্রেলিয়ার ৮৫ শতাংশ এবং সৌদি আরবের ৭১ শতাংশের যোগান দিয়ে আসছিলো। জাপান যুদ্ধ সরঞ্জামাদি অধুনিকীকরণ, যুগোপযোগীকরণ এবং উন্নততর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে ।
(দেখুন, John Geddie, Tim Kelly, Rettled by Trump, US allies eye JapanÕs biggest arms opening since WE2. Reuters, Asia Pacific April 15, 2026.)
Posted ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh