ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ধর্মীয় স্হান ঘোষণা করে রমরমা ব্যবসার কাজে ব্যবহার নতুন কিছু নয়। উপমহাদেশ হরহামেশা চলে আসছে। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র লালসালু এ বিষয়ে সামাজিক মানবিক দিক থেকে আলোকপাত করেছেন হৃদয়গ্রাহী বর্ণনায়। এ জাতীয় ঘটনা আজকালও ঘটে। বছরখানেক আগে বাংলাদেশে রঘুনন্দন পাহাড়ে (রতনপুর গ্রামের পূর্ব দিকে) জনৈক পীরের সন্তান গর্ত খুঁড়ে চিল্লায় বসে এমন ফন্দি করেছিল কিন্তু ত্বরিত প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। উদ্দেশ্যে সফলকাম হওয়ার পূর্বেই পাততাড়ি গুটাতে হয়। ফেসবুক এক্ষেত্রে ধ্বনন্তরির মত কাজ করে। তবে, রাষ্ট্র যখন আর্থিক লাভের সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্যে এমনটি করে তখন তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায়। এমনটিই ঘটছে প্রাচীন সভ্যতার পাদপীঠ বলে খ্যাত মিশরে।
নীল নদ আজো প্রবহমান। ঐশ্বর্যশালী, শক্তিমদমত্ত শাসকরা নেই বহুযুগ যাবত। আনোয়ার সাদাত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও আকন্ঠ ঋণে জর্জরিত দেশ রেখে গেছেন। এককালে সমৃদ্ধশালী দেশ এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু সংখ্যক মিত্র দেশের আর্থিক এবং সামরিক সাহায্যে চলে। অহং যা ছিল, ১৯৬৭ সালে ইসরাইল তা ধুলিস্যাত করে দিয়েছে সিনাই মরুভূমি এবং উপত্যকার সিংহভাগ দখল করে নিয়ে। দেশটি আজ চরম অর্থাভাবে খুঁডিয়ে খুঁডিয়ে চলছে। এহেন পরিস্হিতিতে কোভিড-১৯ হানা দিলে পর্যটন শিল্পে যে বিপর্যয় তা কাটিয়ে ওঠতে আজতকও সমর্থ হয়নি। তাছাড়া, গাজা উপত্যকায় সৃষ্ট দূর্যোগ ও অবস্থার অবনতিতে কাজ করে আসছে।
পর্যটন শিল্পকে উপজীব্য করে মিশরের অর্থনীতি মুলত আবর্তিত হয়। খাতটিতে ধস নামায় দিশেহারা হয়ে মিশরীয় সরকার এমন এক বিশাল প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে যা আব্রাহামিক তিন ধর্মের পবিত্র স্হান ‘জাব্বাল মুসা’ নিয়ে বিতর্কের, দারুণ ভুল বুঝাবুঝির সূত্রপাত করেছে। সেখানে বসবাসকারী বেদুইন গোত্রের প্রায় ৪০০০ মানুষজনকে বৃন্তচ্যুত করেছে।
অর্থনৈতিক সুবিধা লাভে এখানে মেগা পর্যটন কেন্দ্র তথা জাঁকজমকপূর্ণ নগরী গড়ে তুলতে এই যে বিশাল পরিকল্পনা যা ২৯২১ সালে শুরু করা হয়েছিল (নির্মাণ অগ্রগতি অর্থাভাবে খুবই শ্লথভাবে চলছ) তা ইহুদি, খ্রিষ্টান, মুসলিম এ তিন ধর্মের লোকজনের কাছে ঘৃণিত এবং অত্যন্ত নিন্দিত। এ পর্বতে যে স্থানটিতে আল্লাহ ঝোপঝাড়কে অগ্নিকুন্ডে পরিণত করে হযরত মুসাকে (রাজিআল্লাহু আনহু) সাক্ষাত দেন এবং ‘টেন কমান্ডমেন্ট) নাজেল করেন । বিবিসির এক সাম্প্রতিক ভাষ্য মতে, “Known locally as Jabal Musa, Mount Sinai is where Moses is said to been given the Ten Commandments. Many also believe that this is the place where, according to the Bible and the Quran, God spoke to the prophet from the burning bush।
এ কারণে পবিত্র এ স্থানটিক্ কেন্দ্র করে বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র এবং নগরী স্থাপন উল্লেখিত তিন ধর্মাবলম্বী এবং পাহারাদানকারী বেদুইন সম্প্রদায় মেনে নিতে পারবে বলে মনে হয়না। প্রকল্পটি কষ্টেসৃষ্টে শেষ করতে পারলেও পর্যটক তেমনভাবে আকৃষ্ট করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। তাছাড়া, ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ প্রোগ্রামের অন্তর্ভূক্ত এ নির্দিষ্ট স্থানটিতে বিশাল পর্যটন কেন্দ্র স্হাপন করে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন পর্যটক আনয়ন ধর্মীয়, সামাজিক এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেও কাম্য নয় – এমন ধারণা অনেক মহলে।
Posted ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh