ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
শঙ্কার সাথে জাতিসংঘ জানিয়েছে সংস্থাটি ২০২৬ সালে বিশ্বে যে ৩১৮ মিলিয়ন মানুষের দূর্ভিক্ষ অবস্থায় নিপতিত হওয়ার আশংকা করছে তা প্রতিহত বা মোকাবেলা করার মতো তহবিল সংগ্রহ করতে পারেনি। জোড়াতালি দিয়ে প্রচুর উপর্যুপরি অনুরোধে খুবই আশংকাজনক অবস্থায় আছে এমন ১১০ মিলিয়ন মানুষকে আসন্ন দুর্ভিক্ষ থেকে কোনরকমে বাঁচিয়ে রাখতে পারার সক্ষমতা অর্জনের জন্যে ১৩ বিলিয়ন ডলার জোগাড়ের চেষ্টা করছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (WFP)। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সনাক্ত করা এমন সংখ্যক মানুষ বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এ তহবিলের মাত্র অর্ধেক পরিমাণ অর্থ প্রাপ্তির আশ্বাস এ পর্যন্ত পেয়েছে ।
বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান দাতা দেশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈদেশিক সাহায্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা সংস্থাগুলো এ আর্থিক কাট বা বিয়োজন থেকে রেহাই পায়নি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশসমূহও এ ক্ষেত্রে এখন আগের মতো উদার নয় । বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তাতে খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও যুদ্ধ প্রায় তিন বছর ব্যাপী চলছে। মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে তো জ্বলছেই। আফ্রিকায় রণাঙ্গনের ঘাটতি নেই। গোত্রে গোত্রে, দেশে দেশে ঘাত প্রতিঘাতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এমন অবস্থা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনাকে স্বতসিদ্ধভাহে বাড়িয়ে দেয়। বানিজ্য যুদ্ধ, অর্থ উপার্জনের অসম প্রতিযোগিতা এবং লড়াই, রাষ্ট্রের, গোষ্ঠির মদদে, স্বার্থে লুটপাট, অত্যাচার, অনাচার, দুর্নীতি দুর্ভিক্ষ অবস্থাকে প্রভাবিত করছে নিয়তই। মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের কথা কলোনিয়ান সময়ে বেশী সংঘটিত হতো। বর্তমান সময়ে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্নতর হলেও মুনাফার লালসা কমেনি বরং উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের শাসনামলে নির্দয়ভাবে বৈদেশিক সাহায্য কমিয়েছে; আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে (USAID) অকার্যকর করে দিয়েছে যে কারণে মানবিক সহায়তার ব্যাপ্তি এরং স্কেল প্রায় শুন্যের কোটায়। এশিয়া, আফ্রিকা এবং বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর দারিদ্র্য দূরীকরণের কর্মসূচিগুলো এখন প্রায় স্থবির। খাদ্য সাহায্য, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ইত্যাকার মানবিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসুচি এখন পূর্বেকার মতো নেই। অগণিত মানুষ দারিদ্র্য, অসহায় অবস্থায় মৃত্যুর মুখোমুখি ; মরছেও নিত্যই।
এক হিসেব মতে ২০২৬ সালে যে ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে বলে সনাক্ত করা হয়েছে তা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে বিরূপ আবহাওয়া এবং এর সাথে যুক্ত হওয়া বিরাজমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক মন্দা, সীমাহীন সম্পদ লুন্ঠন ও দুর্নীতি দুর্ভিক্ষ সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনগুলো দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনার কথা বলছে অনবরত। WFP’র নির্বাহী পরিচালক Cindz McCain বলেন যে গাজা এবং সুদানের কিছু কিছু এলাকায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছে তা একবিংশ শতাব্দীতে কোন যুক্তিতেই হওয়ার কথা নয়। এমন অবস্থায় বিশ্বের নেতাদের সাড়া অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক। তারা নির্লিপ্ত যখন মানবতার সেবায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সহায়তা কর্মীদের আক্রমণ করা হচ্ছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলো, ২০২৬ সালের সাম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার প্রস্তুতি পর্বেই অনুমিত হচ্ছে প্রায় ৪১ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারে খাদ্যাভাবে কিন্তু দাতাদের এগিয়ে আসছেন না এখনো। এমন সংখ্যক মানুষের ন্যুনতম খাদ্য চাহিদা মেটাতে আনুমানিক ২৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন পড়বে যা বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের বা দেশের পক্ষে দেয়া খুবই মামুলি ব্যাপার । কিন্তু কেউই এখনো এগিয়ে আসেনি। তবে কি দুর্ভিক্ষ আসলেই মনুষ্যসৃষ্ট অঘটন!
Posted ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh