ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বুক ফুলিয়ে অনেক বাঙালি বলে থাকেন যে পহেলা বৈশাখ বাঙালির বিশুদ্ধ সংস্কৃতি। উপলব্ধির প্রতি সম্মান রেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে কথাটি ঠিক নয়। শষ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই পহেলা বৈশাখ উৎসব। সর্বজনীনতা যা আছে এতেই।
উৎযাপনে আনুষ্ঠানিকতা, সাংস্কৃতিক, লোকজ মূল্যবোধে ভিন্নতা পরিমন্ডলে প্রচুর। বাঙালি সমাজে পহেলা বৈশাখই কে বা কি উদ্দেশ্যে নিবেদিত হলো এ নিয়েও তুমুল বিতর্ক লক্ষ্য করা যায়। বৈজ্ঞানিক ইতিহাস পরিশুদ্ধিকরণের প্রয়োজনে হলে কথা নেই, তবে তিক্ততা সৃষ্টি হতে পারে এমন বিতর্ক পরিহার করাই সমীচীন। পহেলা বৈশাখের ‘হালখাতা’র মতো প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ নাকি এখন অর্থহীন তাই শিকেয় উঠেছে। মিষ্টি মুখ প্রথা তেমনভাবে মানা হয়না মনে হলে ছোটবেলায় নোয়াপাড়ার দোকানগুলোতে গিয়ে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দের মনে হয়ে এ প্রজন্মের কিশোর তরুণদের জন্য আফসোস হয়।
শষ্য সংস্কৃতিতে প্রোথিত নববর্ষ বা বাঙালির পহেলা বৎসর বছরের পহেলা দিবসে পালনে যে সর্বজনীনতা তা ভারতের উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার সবখানেই জনপ্রিয় এবং জাঁকজমকের সাথে পালন করা হয়।
ভারতে শিখ সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠী বৈশাখী ও বসন্ত উৎসব অভাবনীয় জাঁকজমকে একসঙ্গে পালন করে। প্রতিবেশী নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, বার্মা, এমনকি ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় ও একই দিনে নববর্ষ পালন করা হয় । সন্দেহ নেই, শস্য সংস্কৃতিতে দারুণ মিল থাকার কারণেই এমনটি হয়ে আসছে।
বাদশাহ আকবর তার উপদেষ্টা রাজ জ্যােতিষি আমির হাবিবুল্লাহ সিরাজির সহায়তায় ফসলি সন পঞ্জিকা তৈরী করান এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। ফসলি সন এবং খাজনা তোলা যাতে সহজ হয় এজন্যই বৈশাখী নববর্ষ। রাজা শশাঙ্ক এর বহু পূর্বে তা বঙ্গদেশে শাসন শুরুর সনটি অবিস্মরণীয় করে রাখার মানসে বঙ্গাব্দ নির্দিষ্ট করেছিলেন পহেলা বৈশাখ ইয়ার্ডষ্টিক ধরে।
খুবই যৌক্তিক। বাঙালি শস্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে পহেলা বৈশাখ ঘিরে যে নানান আয়োজন তার উদ্ভব এবং বিকাশ উৎসবের আঙ্গিকে, আমেজে তা বাঙালির অন্তরের উৎসব। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ মেলা, বান্নি , শাকান্ন আহার, এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ডে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে থাকে।
ইদানীং কালে রাজনীতির ঘোরপ্যাচে ইলিশ-পান্তা ভাত বটতলায় বা গৃহে, ক্লাবে তথা এখানে সেখানে পালিত হয়ে পহেলা বৈশাখ নব্য রূপ পরিগ্রহ করার প্রচেষ্টা কৃষিজ বা গ্রামীন সংস্কৃতির বাইরে ছিটকে পড়ে জন্ম দিচ্ছে নবতর কৌতুক সদৃশ আবেগ এবং আয়েশী আবেশের।
Posted ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh