ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫
নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার বিগত সংখ্যায় ‘পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ কি অত্যাসন্ন’? শিরোনামে নিবন্ধটি প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন মোড় নিয়েছে। ঠিক সর্বাত্মক যুদ্ধ বলতে আমরা যা বুঝি তা নাহলেও আলামত ভাল ঠেকছে না। ভারত গত কাল কাশ্মীরের মুজাফরাবাদ সহ পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ছয়টি স্থানে আক্রমণ করেছে।
মসজিদ ও বাদ যায়নি। পাকিস্তান বলেছে হামলায় মোট ২৬ জন নিহত হয়েছে। দাবী করছে দেশটি সেনাবাহিনী ৫টি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে। এ স্কেলের সংঘর্ষ সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করতে পারে। অতীতে ভারত-পাকিস্তান সামরিক লড়াই এরকম সংঘর্ষ থেকেই যুদ্ধে পর্যবসিত হয়েছিল । ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এ দুটি দেশের সেনাসদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের পরিণতি শুভ হয় না, বিশেষত তা যখোন কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু ভিত্তক হয়। সামান্য ধর্মীয় উন্মাদনার প্রশয় পেলে তা গোলাছোড়াাছুড়ি পর্যায়ে চলে যেতে দেরী হয় না।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং চলমান সংঘর্ষের মূলে ধর্মীয় উন্মাদনা কাজ করছে। কাশ্মীরে মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠি টার্গেট হিন্দু নিরূপণ নিশ্চিত করতে ঊলঙ্গ করে প্রমাণ নিয়ে তবেই হত্যা করছে। ২৬ টি প্রাণ নিধন করা হয়েছে এ প্রক্রিয়ায়। ধর্মান্ধ মোদী সরকার এ বিচ্ছিন্ন জঙ্গী ঘটনাকে ধর্মীয় খোলসে ভীতিজনক রাজনৈতিক রূপ দিতে দেরী করেনি । গতকাল (০৫/০০৫/২০২৫) তারিখে পাকিস্তান আক্রমন করেছে। ফলে দুটি নিউক্লিয়ার যুদ্ধাশ্র সজ্জিত শক্তির মধ্যে যুদ্ধের পরিস্হিতি বিপজ্জনক পর্য্যায়ে এসে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে।
কিছুকিছু রাষ্ট্র এ তৎপরতার উপশমের চেষ্টা করছে। চীন, রাশিয়ার উদ্যোগ ভারত, পাকিস্তান আমলে না নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। চীনকে ভারত পাকিস্তানের বিশ্বস্ত বন্ধু বলে মনে করে। পাকিস্তান রাশিয়ার দৌত্যগিরি সন্দেহে চোখে দেখার সঙ্গত কারণ আছে । আমেরিকার অবস্হান ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থা। ভারতের মোদি এবং যুক্তরাষ্টের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিত্রতা সম্পর্ক বানিজ্য, চীন ইস্যুতে জমতে শুরু করেছে।
ভারত গোস্বা করতে পারে এমন কিছু ট্রাম্প করবেন না এমন ধারণাই সঙ্গত মনে হয়। নরোম সুরে তিনি দু’পক্ষকেই সংযত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তিতে মূলত ধর্ম ইস্যু ব্যবহার করা হয়েছে। কাশ্মীর প্রশ্নে কাশ্মিরী ব্রাক্ষ্মণ ভূ-রাজনীতি বিষয়টি কৌশলের সাথে খতিয়ে দেখেছে। ব্রিটিশ ভারতের শাসকগণ নেহেরুকে সন্তুষ্ট করতে সচেষ্ট ছিলেন অনেক বেশী মাত্রায়। কাশ্মীর বিভক্ত করার ফর্মুলা ভারতের পক্ষেই কাজ করেছে অধিক ফলপ্রসুভাবে। জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ ক্ষমতা পেতে আগ্রহী ছিলেন; কমিউনিটি, ভূ-ভাগের আয়তন, ভূ-রাজনীতিতে সুবিধা-অসুবিধা বিষয়গুলো সুক্ষ্মভাবে দেখা হয়নি ।
বর্তমান সংঘাত ছোটখাটো যুদ্ধের রূপ নিতে পারে তবে পাকিস্তান তেমন আগুয়ান হবে বলে মনে হয় না । এমনিতে অর্থনৈতিক ভাবে ভালো অবস্হানে নেই তারপর অতীতে ভারতের সাথে যুদ্ধের তেমন সুখকর স্মৃতি নেই তাই কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলেই দেশটির জনসাধারণ উল্লাস বোধ করবে এমন ধারণা করা অযৌক্তক হবে বলে মনে হয় না । ভারতের সেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ২৬ জনকে হত্যা করতে সমর্থ হয়েছে এজন্য ভারতীয় জনসাধারণ গৌরবদীপ্ত হবে, মোদি সমর্থকদের বাহবা বিজেপির প্রতি বহুগুণ বেডে যাবে এমন অর্জন নিয়ে ভারতবাসী সন্তুষ্ট থাকুক এমন আশাবাদ রইলো । প্রাণহানি পরিহার সম্মানজনক ভাবে হলেই সংঘর্ষ সাফল্যের মুখ দেখবে এমন মনোভাব হোক সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের।
Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh