আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
এখন যেহেতু পৃথিবী ছোট হয়ে এসেছে, ছোট বললেও সঠিক হবে না, পৃথিবী অতি ক্ষুদ্র হয়ে এসেছে, মানুষ, প্রাণী ও বৃক্ষের সংকরায়ণও পৃথিবীর ছোট হওয়ার সাথে দ্রুত তাল মেলাচ্ছে। যে বাংলাদেশ সত্তরের দশকেও প্রায় বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ ছিল, সেই দেশটির তরুণ সন্তানেরা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সদস্যদের মতো কোনো দেশ দখলে শৌর্যের পরিচয় দিতে না পারলেও তারা যে বীর্যবান, সেই পরিচয় দিয়ে নানা দেশের নারীদের হৃদয় (এবং শরীর) জয় করতে সক্ষমতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে না। সম্ভবত একমাত্র সৌদি আরব ছাড়া বিশ্বের হেন দেশ নেই, যে দেশের কোনো না কোনো নারীর হৃদয়ের অধীশ্বর কোনো না কোনো বঙ্গসন্তান হননি।
ককেশিয়ান, মঙ্গোলয়েড, নিগ্রোয়েড, অস্ট্রোলয়েড ও আমেরিন্ডিয়ান — এসব নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর রমণীরা অনেক বাংলাদেশী তরুণ ভাইবন্ধুর ঘর আলোকিত করছে।
বৃক্ষ, বিশেষ করে খাদ্যশস্য ও ফলদ বৃক্ষের মিশ্রণ এত বেশি হচ্ছে যে, বাংলাদেশে দেশীয় ফলদ বৃক্ষ আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর দেখবেই না। না দেখুক, ওসব দেখার বা খাওয়ার বা ওইসব ফুল নিয়ে গর্বে বুক ফোলানোর মতো কোনো ফল ছিল না। এখন বাংলাদেশে যেসব প্রজাতির আম উৎপাদিত হচ্ছে, তাতে আমরা যারা বহুলাংশে টক আম, টক জাম্বুরা, তেতুল, করমচা, ডেফল ইত্যাকার ফল খেয়ে বড় হয়েছি এবং টক ফল খেয়েই “মিষ্টি যেন গুড়” বলে ছাগলের তিন নম্বর ছানার মতো লাফিয়েছি, তাদের হা-হুতাশ করা ছাড়া উপায় নেই। বিহারি কবি শম্ভু শিখরের মতো “চিনি কো জমা করকে ফির সে গন্যা বানা দুঁ,” (চিনি জমিয়ে আবার ইক্ষু বানিয়ে দেব) বলে লাভ নেই।
এখন মনে হচ্ছে, কি সব জঘন্য ফল খেতে হয়েছে আমাদের। এ প্রসঙ্গে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানির খেদোক্তি মনে পড়ে। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তার ভাষণে বলেন, “শুধু যে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরাই আমাদের প্রতি অবিচার করছে, তা নয়; আল্লাহও আমাদের ওপর অবিচার করেছেন। আল্লাহ ওদেরকে দিয়েছেন আঙুর, বেদানা, সেব (আপেল), নাশপাতি; আর আমাদের দিয়েছেন কাডল, জাম্বুরা, কামরাঙা। মাওলানা ভাসানি বেঁচে থাকলে খুশি হতেন যে এখন বাংলাদেশে সব চমৎকার দর্শন, সুস্বাদু ফল উৎপাদিত হচ্ছে। কোনো কোনো কট্টর দেশ ছাড়া বিশ্ব থেকে খাঁটি বংশধারার তত্ত্ব দৃশ্যত বিলীন হয়ে গেছে। প্রেমের সম্পর্ক পৃথিবীর জাতিগুলোকে সংমিশ্রিত করে ফেলছে। আমাদের বদ্বীপে কত দেশের মানুষ জাহাজযোগে এসে নোঙর করেছে এবং তাদের বংশকে বঙ্গদেশে কায়েম করে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর
‘গীতাঞ্জলি’তে বলেছেন:
“কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে কত মানুষের ধারা,
দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে সমুদ্রে হল হারা।
হেথায় আর্য, হেথা অনার্য হেথায় দ্রাবিড়, চীন –
শক-হুন-দল পাঠান মোগল, এক দেহে হল লীন।”
তবুও ভারতীয় উপমহাদেশে বংশগরিমার মানুষের অভাব ছিল না। ইসলামে যদিও অহঙ্কারের সঙ্গে দাবি করা হয় যে, “ইসলামে আশরাফ আতরাফের কোনো ভেদাভেদ নেই,” কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
মহীশূরের শাসক হায়দার আলী যখন মহীশূরের শক্তিশালী শাসকে পরিণত হন, তখন তিনি হায়দরাবাদের তার সময়ের নিজামের কাছে প্রস্তাব পাঠান পুত্র টিপু সুলতানের সঙ্গে তার পরিবারের কোনো কন্যার বিবাহ সম্পর্ক স্থাপনের। কিন্তু নিজাম এই মর্মে হায়দার আলীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যে, কদিন আগেও হায়দার আলী ছিলেন একজন সৈনিক, এখন তিনি সবেমাত্র জমিদার হয়েছেন এবং তাঁর ধমনীতে রাজরক্ত নেই। পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর ছোট বোন কৃষ্ণা নেহরু জৈন পরিবারের রাজা হাথীসিংকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে পরিবারে বেশ ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছিল।
জওহরলাল নেহরু বোন কৃষ্ণার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, হাথীসিংকে পছন্দ করার কারণ কি? কৃষ্ণার উত্তর ছিল যে, তিনি হাথীসিং এর হাতের সুন্দর আঙুল দেখে মুদ্ধ হয়েছেন। অতএব, ‘প্রেমের মরা জলে ডোবেনি,” কৃষ্ণা নেহরু হাথীসিংকে বিয়ে করে সুখে জীবন কাটিয়েছেন এবং নিজের নাম ব্যবহার করতেন ‘কৃষ্ণা নেহরু হাথীসিং’। এখানেই নেহরু পরিবারের ভিন্ন বংশধারার লোকজনের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা শেষ হয়ে যায়নি। লন্ডনে পড়াশোনা করার সময় জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনীর প্রেম ঘটলো পার্সি বংশের তরুণ ফিরোজ গ্যান্ধে (ঋবৎড়ুব এধহফযু) সঙ্গে। ইন্দিরাই একবার কারাগারে পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ফিরোজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি এই অসম বিয়েতে বেঁকে বসেন।
মহাত্মা গান্ধীকে ধরেন ইন্দিরাকে এ বিয়ে থেকে বিরত রাখতে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তিনি ফিরোজকে বিয়ে করেন এবং তার নাম ‘গ্যান্ধে’ থেকে গান্ধী’তে রূপান্তরিত হয়, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী হয়ে যান ইন্দিরা গান্ধী। তার দুই সন্তান রাজীব ও সঞ্জয়ও ‘গান্ধী’ এবং তাদের পুত্রেরাও ‘গান্ধী’। এ নামের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর কোনো সম্পর্ক নেই। রাজীব গান্ধী বিয়ে করেন ইটালীয় সোনিয়াকে এবং সঞ্জয় গান্ধী বিয়ে করেন শিখ বংশোদ্ভুত মানেকাকে। নেহরুর বংশধারা পুরোই এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল।
ভারতে আন্ত:বিবাহ এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হলেও ব্যতিক্রমও আছে। হিন্দু বর্ণপ্রথার কঠোর বিধানের কারণে উচ্চবর্ণের কেউ নিম্নবর্ণে বিয়ে করবে না, তা প্রায় স্বত:সিদ্ধ। এ নিয়ে হাঙ্গামাও হয় প্রচুর। তবে ককেশীয় অর্থ্যাৎ শ্বেতাঙ্গ প্রধান দেশগুলোর কোনো নারীকে উচ্চবর্ণের কেউ বিয়ে করলে শ্বেতাঙ্গিনীর বর্ণ যাচাই করা হয় কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে এমন বিয়ে হরহামেশাই হচ্ছে।
দিল্লিতে আমার হিমাচলের ব্রাক্ষ্মণ সহপাঠি অশোক শর্মার প্রেম হয়েছিল তার চেয়ে অধ:স্তন বর্ণের এক মেয়ের সঙ্গে। অশোক মেয়েটিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত মাকে জানালে তার মা বেঁকে বসেন, ওই মেয়েকে ঘরে তুললে তিনি দেহত্যাগ করার জন্য আহার্য গ্রহণ বন্ধ করবেন। কিন্তু অশোক প্রেমে পাগল। সে পাল্টা ঘোষণা করে মেয়েটিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির্ ক্ষা করতে সে মাতৃ আজ্ঞা লংঘনে প্রস্তুত। বিয়ে করে সে তার কাক্সিক্ষত মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র বসবাস করবে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবেরা মধ্যস্থতায় অবতীর্ণ হয়। প্রচুর দেনদরবারে শেষ পর্যন্ত মা সম্মত হন যে, অশোক তার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করবে, কিন্তু তিনি পুত্রবধুঁকে রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেবেন না।
পরিবারে এমন সংকরায়ন মানতে কষ্ট পেয়েছেন আমার পরিচিত ও ঘনিষ্ট এক পিতা। তিনি ঢাকায় ইউএস এইড এ চাকুরি করতেন। এক সময়ে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট হন। পুত্রেরা বড় হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকুরি করে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি এক কন্যা লাভ করেন। তার সাথে আমার নিয়মিত সাক্ষাত ঘটে। একদিন জানালেন, তার বড় ছেলে বিয়ে করেছে। আমি বললাম, দাওয়াত তো দিলেন না। দু:খভরা কণ্ঠে বলেন, কীভাবে দাওয়াত দেই, ছেলে তার এক সহপাঠি ভারতের গোয়ার বাসিন্দা খ্রিস্টান মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমি বলি, আপনার সমস্যা কোথায়? পছন্দ হয়েছে, বিয়ে করেছে।’
তিনি বলেন, আমার সমস্যা নেই, তবু কেমন লাগে।’ বললাম, ওদের সুখে থাকতে দিন।” ছয় মাস পর তিনি আবার জানান, তার ছোট ছেলেও বিয়ে করেছে। এবারের পুত্রবধু কর্ণাটকের এক হিন্দু মেয়ে। আমি আগের মতই বলি, “আপনার সমস্যা কোথায়?” তিনি আগের মতোই বলেন, “তবুও কেমন লাগে।” এর কয়েক মাস পর রমজান মাস আসে। তার সাথে সাক্ষাতে তিনি জানান তার ছোট ছেলের স্ত্রী রোজা রাখছে, নামাজ পড়ছে। তবুও তার কষ্ট ছেলে দুটোর একটাও একজন বাংলাদেশী মেয়ে বিয়ে করলো না। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার কন্যাকে প্রতিবছর বাংলাদেশে নিয়ে যাবেন। বাংলাদেশে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবেশ, খাল বিল নদীর সাথে পরিচিত করাবেন।
সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানাবেন, যাতে বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করলে একজন বাংলাদেশীকে বিয়ে করে।
আরও দুটি ঘনিষ্ট পরিবারকে জানি, যে দুই পরিবারের দুটি কন্যা পড়াশোনা সূত্রে প্রেমে পড়া দুই আফ্রিকান-আমেরিকান অর্থ্যাৎ কৃষ্ণাঙ্গকে বিয়ে করেছিল। এক কন্যা এক কৃষ্ণাঙ্গ পুত্রের জননী হয়েছে এবং কৃষ্ণাঙ্গ জনক স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছে। এ কন্যার পিতা এক আমেরিকান শিক্ষাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। কন্যা যেহেতু ছাত্রী, তার পিতা ও মাতা ভিন্ন স্টেটে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ নাতিকে লালন পালন করেন। আরেক পরিবারের কন্যাটি কৃষ্ণাঙ্গ স্বামীর শয্যায় বেশিদিন কাটাতে পারেনি। মারামারি ও মামলা-মোবদ্দমার পর ডিভোর্সে পরিণতি লাভ করার পর তওবা করে এক বাংলাদেশী যুবককে বিয়ে করে শান্তিতে দিনাতিপাত করছে।
খাঁটি জাতিত্বের চরম উদ্যোগ নিয়েছিলেন এডলফ হিটলার। তিনি ও তার নাৎসিরা বিশ্বাস করতো যে পৃথিবীকে সকল মানুষের মধ্যে যাদের সবচেয়ে ‘খাঁটি রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, তারা ‘আর্য’। হিটলারের আদর্শ আর্যের ধারণা ছিল সাদা ত্বক, সোনালি চুল ও নীল চোখের মানুষ। তারা যে অনিবার্যভাবে আর্যজাতির হবে তা নয়, কিন্তু অবশ্যই ভেজালমুক্ত ‘খাঁটি’ হতে হবে। তার দৃষ্টিতে অনার্যরা খাঁটি তো নয়ই, বরং অশুভ, সকল মন্দের উৎস। তিনি আর ও বিশ্বাস করতেন যে, আর্য শ্রেষ্ঠত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে ইহুদিদের দ্বারা। অতএব, একটি উচ্চতর ‘বংশ’ গড়ে তুলতে হবে, যার শীর্ষে থাকবে আর্যরা এবং নিচের দিকে ইহুদি, জিপসি (মূলত অ্যাংলো-অ্যারিয়ান জনগোষ্ঠী বা ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভুত), অধিকাংশ স্লাভ, পোল, সার্ব,, ইউকেনীয়, রুশ ও বেলারুশের বাসিন্দা, অধিকাংশ অ-ইউরোপীয় এবং কৃষ্ণাঙ্গরা। নাৎসিদের কাছে অনার্যরা ‘সাবহিউম্যান’ যার বাংলা হতে পারে ‘মনুষ্য পদবাচ্য নয়’। তারা এই ‘নিচু’ জাতির লোকগুলোকে জার্মান জাতির খাঁটিত্ব ও শক্তির হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছিল। তারা মনে করতো বিশ্ব জনগোষ্ঠীতে আর্যরা ‘মাস্টার রেস’ বা সেরা জাতি।
প্রজনন, অপহরণ ইত্যাদি কৌশলের মাধ্যমে নাৎসিরা নবজাত জার্মানকৃত শিশুদের দ্বারা ‘সুপার রেস’ গড়ে তোলার লক্ষ্য স্থির করেছিল এবং এজন্য ১৯৩৫ সালে তারা গড়ে তুলেছিল ‘ফাউন্টেন অফ লাইফ’ নামে বসতি। সেখানে মা ও বাবাকে বংশগত খাঁটিত্বের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হতো এবং এজন্য যে কঠোর নিয়ম ও শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, তাতে মাত্র ৪০ শতাংশ নারী খাঁটিত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন । পাশাপাশি চলছিল অখাঁটি নারীদের যারা গর্ভধারণ করছিলেন, তাদের গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছিল বছরে আট লাখের বেশি সংখ্যকের। ‘ফাউন্টেন অফ লাইফে’ বাছাই করা নারীদের সন্তান জন্মদানের ওপর সম্মানে ভূষিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সর্বনিম্ন সম্মান: অন্তত চারটি সন্তানের জন্ম দিলে তিনি লাভ করবেন ‘ব্রোঞ্জ ক্রস,’ পাঁচ থেকে সাতজনের জন্ম দিলে ‘সিলভার ক্রস,’ এবং আট বা ততোধিক সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে ‘গোল্ড ক্রস’।
শুধু তাই নয়, হিটলারের দোসর হিমলারের নির্দেশে প্রধান পোলান্ড, যুগোস্লাভিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, চেকোশ্লোভাকিয়া, রুমানিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও নরওয়ে থেকে আর্য-দর্শন হাজার হাজার শিশুকে অপহরণ করে জার্মানিতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হযেছিল।
যেসব দেশে খাঁটি রক্তের আর্য থাকতে পারে হিমলার সেইসব দেশ, বিশেষ করে ইরান, তুরস্ক, তিব্বত ও সিকিমে এসএস টিম পাঠিয়েছিলেন আর্য সন্ধানে, যাতে আর্য পুরুষদের সেসব দেশ থেকে তুলে এনে তাদের দ্বারা জার্মান আর্য সন্তান উৎপাদন করা যায়। এজন্য ১৯৩১ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত জার্মান গুপ্তচরের তিন দফা তিব্বতে চালায়। তারা ৩৭৬ জন তিব্বতির মাথার খুলি পরীক্ষা করা ছাড়াও ২,০০০ নৃতাত্ত্বিক নমুনা সংগ্রহ করে। কিছু লোককে বাছাইও করে জার্মানিতে আনার জন্য। কিন্তু ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হলে গুপ্তচরদের ফিরিয়ে আনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে হিটলারের ‘সুপার হিউম্যান’ সৃষ্টির উদ্যোগেরও অবসান ঘটে। রামায়ণের যুগে ধরণী একবার দ্বিধা হযেছিল, এখন আর সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। যা ঘটার ঘটুক!
Posted ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh