আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : | বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহপাঠি ও নিবিড় বন্ধু মো: আবদুল মতিন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সিনিয়র আইনজীবী। সদা হাসিখুশি, নিরহঙ্কার আবদুল মতিন একজন কিশোর বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেশন জটের কারণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সাত বছর কাটালেও মতিন কখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ করা নিয়ে অহঙ্কার করেছেন, এমন শুনিনি। আমরা দুজনই বৃহত্তর ময়মনসিংহের বাসিন্দা এবং দুজনের বাড়িই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একেবারে সীমান্ত সংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও আমার জানা ছিল না যে মতিন একজন মুক্তিযোদ্ধা।

আমি প্রথম জানতে পারি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর একটি টেলিভিশনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল মতিনের একটি স্মৃতিচারণমূলক সাক্ষাৎকার দেখে। মনোযোগ দিয়ে আমি তার কথাগুলো শুনি এবং মুক্তিযুদ্ধে একজন কিশোর যোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে তার অংশগ্রহণ, দুশমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বীরবেশে তার দেশে ফিরে আসা এবং শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করার কাহিনি শুনে মুগ্ধ হই।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়ে আমি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সহপাঠিদের এক মিলনমেলায় গিয়ে জানতে পারি যে বাইপাস সার্জারির জন্য তিনি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে তার সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।
আমি দেশ থেকে ফিরে আসার পর নিউইয়র্কের পাশের স্টেট নিউ জার্সিতে বসবাসকারী আমার সহপাঠি বোন মাকসুদা খান লিরা জানান যে, মতিন তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং তার কাছে আমার জন্য বইটির একটি কপি পাঠিয়েছে।
বইটির হাতের পাওয়ার পর আমি একটি রিভিউ লেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি এবং মতিনকে ফোন করে আমার ইচ্ছার কথা জানালে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। কিন্তু তাতেও যথেষ্ট বিলম্ব ঘটেছে।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে আবদুল মতিনের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ পাঠ করেছি। তিনি তার পারিবারিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ পূর্ব শিক্ষাজীবন সম্পর্কে অত্যন্ত সরল বর্ণনা দিয়েছেন। কোথাও তিনি নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেননি। অতিরঞ্জিত কোনো কথা বলেননি। তার বর্ণনার সারল্যে এবং সামনে বসে আলাপচারিতার ঢং এ যুদ্ধের মতো বিভীষিকাময় এবং ক্ষণে ক্ষণে মৃত্যুর হাতছানি উপেক্ষা করে দেশের মাটির জন্য অস্ত্রহাতে দুশমনের ওপর হামলা ঘটনাগুলো বর্ণনা পাঠককেও যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত করে। পঞ্চান্ন্ বছর আগে সংঘটিত যুদ্ধকে মনে হয়, এই তো সেদিনের ঘটনা।
বইটির একটি অংশের লেখক আবদুল মতিনের ছোটভাই কৃতি শিক্ষাবিদ ড. এমরান হুসাইন। বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটির প্রশংসা করে মুখবন্ধ রচনা করেছেন দেশের ২১ জন বরেন্য আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সামরিক অফিসারগণ। যাদের অন্যতম: ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ. ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. তালুকদার মুনিরুজ্জামান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ড. গওহর রিজভি, ড. একে আবদুল মোমেন, প্রফেসর এসএমএ ফায়েজ প্রমুখ।
বন্ধু আবদুল মতিন বিপননের উদ্দেশ্যে তার ‘একজন কিশোর বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তার মুক্তিযুদ্ধ রচনা করেননি। মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি জনগণকে জানানোই তার উদ্দেশ্য। ২০২৪ সালে ‘ইশরাক পাবলিকেশন্স’ প্রকাশিত তার এ গ্রন্থর বহুল পাঠ আশা করি।
Posted ১০:১১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh