ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০২৪
প্রায় তিরিশ বছর হলো বিদেশে আছি। দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে বিগত ষোলটি বছর মাতৃভূমি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম। ২০২৪ জুলাই মাসে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যে বিক্ষোভ, যাকে অনেকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করেন তা নিয়ে অতুলনীয় একটি ঘটনার ছোট্ট লেখা। অতুলনীয় এজন্য যে একে অভ্যুদয় বা বিপ্লব যাই বলি না কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটনাটি একট নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। গোষ্ঠিভিত্তিক শাসন শোষণের অবসানে একটি নতুন সমাজ আসছে এমন আশাবাদ আমার মত অনেকের। ছাত্রদের উদ্দাম-উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে যে উত্থান, তাতে খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ব্যাপি স্বৈরশাসন আর আধিপত্যবাদ। একাধিপত্য, পরিবারতন্ত্র এবং আমলা-ব্যবসায়ী পরিতুষ্ট দেশটি মুক্তি পেল দ্বিতীয় বারের মতো। এতে দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বস্তি বোধ করছে।
তবে, এ নতুন মেরুকরণের শুভ সূচনা কি অবিসংবাসিতভাবে ছাত্র-জনতার রাজপথে থেকে অর্জন নাকি অন্য কোন শক্তি এতে যুক্ত ছিল এ প্রশ্ন অনেকের। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, নেপথ্যে কাজ করেছে অনেকটা নীরবে সামরিক বাহিনী সুকৌশলে, দৃঢ প্রতিজ্ঞ হয়ে স্থির লক্ষ্য অর্জনে। দেশের বাইরের কোন শক্তির সরাসরি জড়িত থাকার কথা জানা যায়নি তবে ত্বরায় ক্লিনটন দম্পতির সুহৃদ নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের পদার্পন এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ঘটনা আমেরিকার প্রচ্ছন্ন সংস্পৃক্ততার কথা আকারে ইংগিতের কথা বলে।
এমনটি হলে বলতে হবে তিনটি শক্তির সম্মিলিত উদ্যোগ, সম্মতি এবং সক্রিয় সহযোগিতায় ও কার্যকারণে হাসিনা সরকারের এত অল্প সময়ে পতন হলো। সেনাবাহিনীর অঘোষিত ক্যু কাজ করেছে দারুণভাবে, সপ্রশংস গতিতে। ড. ইউনুস দায়িত্ব নেয়ার পেছনে দেশপ্রেম তো নিশ্চয়ই আছে আমেরিকা এবং তার মিত্রদের উদার সমর্থন ও আছে বলে ধারণা করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশটিকে বলতে কসুর করেননি যে হস্তক্ষেপের পরিণতি সাত বোনের উপর দিয়ে যাবে। অতএব সাধু সাবধান। পরাক্রান্ত এবং বলিষ্ট প্রকাশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি কেমন হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বৈরশাসন উৎখাতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছে কিন্তু বাংলাদেশের মতো সফলকাম হয়নি। ইরান, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচের বেশ কিছু দেশ, রাজনৈতিক গোষ্ঠি বা দল, নিকটের দেশ বার্মা সহ আরও অনেক দেশে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছে, প্রাণ দিয়েছে কিন্তু শুধুমাত্র বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সংহতির অভাবে সফলকাম হতে পারেনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করলো। এ বিজয়কে ধরে রাখতে পারলেই হয়। পশ্চিমা দুনিয়া, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয়পাত্র ড. ইউনুস অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠ মানুষ।
সাংগঠনিক কাজে অসম্ভব কুশলী, পারঙ্গম, বুদ্ধিমান মানুষ দ্বিতীয়টি বাংলাদেশে আছে বলে মনে হয় না। শুধুমাত্র স্বজনপ্রীতি, মোসাহেব এবং কঠোরভাবে আঞ্চলিকতার বাইরে থেকে তার দক্ষতা, দেশপ্রেম, দেশে-বিদেশ ইতিবাচক পরিচিতি কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ার সুমহান কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলে বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা তথা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হবেন। দৃপ্ত প্রত্যয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
Posted ১:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh