আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন বিখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট (ব্রিটিশ) ও ওরিয়ানা ফালাচি (ইটালিয়ান) যথাক্রমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। দুটি সাক্ষাৎকারই আমি বহু আগে পাঠ করেছি। আগ্রহবশত আবারও নতুন করে পাঠ করলাম।
দুই দেশের দু’জন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘আমি ও আমার’ এবং ‘আমরা ও আমাদের’ শব্দ ব্যবহারে পার্থক্য আমাকে নতুন করে বিস্মিত করেছে। ডেভিড ফ্রস্টের নেয়া শেখ মুজিবের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের ইংরেজি ট্রান্সক্রিপশন অনুযায়ী শব্দ সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এবং ওরিয়ানা ফালাচির নেয়ার ইন্দিরা গান্ধীর সাক্ষাৎকারের ইংরেজি ট্রান্সক্রিপশন অনুযায়ী শব্দ সংখ্যা প্রায় সাড়ে নয় হাজার। শেখ মুজিব তার সাক্ষাৎকারে সাড়ে তিনশ’ বারের বেশি ‘আমার জনগণ’, ‘আমার বাংলাদেশ’, ‘আমার দল’, ‘আমার নেতা’, ‘আমার কর্মী’, ‘আমার শ্রমিক’, ‘আমার ছাত্র’, ‘আমার পুলিশ’, ‘আমার সেনাবাহিনী’, ‘আমার শিল্প’, ‘আমার গুদাম’, ‘আমার জাতীয় পতাকা’, ‘আমার জাতীয় সঙ্গীত’, ‘আমি বই পড়েছি’, ‘আমি কারাগারে গেছি, ‘আমি যা করেছি’, ‘আমি জনগণকে বলেছি’, ‘আমি তা হতে দিতে পারি না,’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। ‘আমরা’ ও ‘আমাদের’ শব্দ দুটির ব্যবহার হয়নি বললেই চলে।
ইন্দিরা গান্ধী তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ১৬৪ বারের বারের মতো ‘আমি ও আমার’ ব্যবহার করেছেন তাকে করা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রশ্নের উত্তরে; যেমন, ‘আমি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করেছি,’ ‘আমার ছেলে,’ ‘আমার বাবা’, ‘আমার মা’ ‘আমার বিয়ে’, ‘আমার স্বামী,’ ইত্যাদি। কিন্তু দেশ, সরকার, দল, সেনাবাহিনী ইত্যাদি প্রসঙ্গে বরাবর বলেছেন, ‘আমাদের দেশ,’ ‘আমাদের সরকার’, ‘আমাদের সেনাবাহিনী’, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত’ ইত্যাদি।
শেখ মুজিবের ‘আমি ও আমার’ শব্দ দুটির বহুল ও সদম্ভ প্রয়োগ করেছেন তার কন্যা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের শব্দ প্রয়োগসহ অন্যান্য অপকর্মের পরিণতি দু:খজনক ছিল। বাংলাদেশ কোনো রাজবংশ বা জমিদার কর্তৃক শাসিত সাম্রাজ্য ছিল না। দেশের জনগণ কারও প্রজা ছিল না। দেশকে কেউ ব্যক্তি বা পারিবারিক সম্পত্তি এবং জনগণকে প্রজা বিবেচনা করলে তার পরিণতি কখনও শুভ হয় না।
Posted ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh