ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত
(সংশোধিত )
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০২৪ নির্বাচনে অভিবাসন একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । প্রাক্তণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে প্রচুর হাঁকডাক, হম্বিতম্বি করেছিলেন। ২০২৪ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হলে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে আলাদা আটক করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবিলম্বে ডিপোর্ট করবেন। অবশ্য মাঝে মাঝে এ প্রত্যয়, প্রতিজ্ঞায় পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। পাঠকদের নিশ্চয় মনে আছে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি মেক্সিকোকে তাদের অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে বলেছিলেন; এই বলে হুমকি দিয়েছিলেন যে অরক্ষিত সীমান্ত তিনি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিবেন এবং এ কাজ করতে যা খরচ হবে তা মেক্সিকোকে বহন করতে হবে। বাস্তবে মেক্সিকো কানাকড়িও দেয়নি। মেক্সিকোর তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট অ্যানরিক পেনা নীয়েতু (ঊহৎরয়ঁব চবহধ ঘরবঃড়) মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন যে তার দেশ বেড়া নির্মাণের ব্যয়ের কানাকড়ি বহন করবে না। প্রচুর তামাশার পর ২০১৮ সালে ট্রাম্প এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৩৭৬৭ বলে ‘ট্রাম্প ওয়াল’বা ‘দি ওয়াল’ এর কাজ শুরু করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৪৫৫ মাইল নির্মিত বেরিয়ার আগে থেকেই ছিল। ট্র্যাম্প এর সাথে অরক্ষিত স্থানে ৪৯ মাইল যোগ করেন। এছাড়া, একটি প্রাইভেট কোম্পানি টেক্সাসের এল পাসোঁ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর ৫ মাইল দেয়াল নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ নিম্ন মানের এবং বালি মাটিতে করা হয়েছিল। যে কারণে দেয়ালটি ৩০০০ বার ধসে গেলে স্টীভে ভননসহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়। বাইডেন ক্ষমতায় এসে এ সংক্রান্ত সবগুলো প্রজেক্ট বন্ধ করে দেন । অনেকের ব্যক্তিগত জমি ফিরিয়ে দেয়া হয় ।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ১০.৭ মিলিয়ন যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩.৩% । অন্য এক হিসেবে এ সংখ্যা ১১,০৪৭,০০০ জন । বেশীর ভাগ অবৈধ অভিবাসীর জন্মস্থান নিন্মের চিত্রে দেখা যেতে পারে :
দেশ সংখ্যা অবৈধ জনসংখ্যার অংশ
মেক্সিকো ৫,৩১৩,০০০ ৪৮%
এল সালভেডর ৭৪১,০০০ ৭%
গুয়াতেমালা ৭২৪,০০০ ৭%
ভারত ৫৫৩,০০০ ৫%
হন্ডুরাস ৪৯০,০০০ ৪%
মহাদেশ হিসেবে চিত্র এমন:
মেক্সিকো এবং সেন্ট্রাল আমেরিকা ৭,৩৮১, ০০০ বা ৬৭%
ক্যারাবিয়ান ৩২৭, ০০০ বা ৩%
সাউথ আমেরিকা ৯০৭, ০০০ বা ৮%
ইউরোপ, কানাডা, ওশেনিয়া ৪৪০, ০০০ বা ৪%
এশিয়া ১,৬৯৭,০০০ বা ১৫%
আফ্রিকা ২৯৫,০০০ বা ৩%
২০২২ সালের জুলাই মাসের ২৮ তারিখে বাইডেন প্রশাসন ঘোষণা দেন যে অ্যারিজোনার ইউমা সন্নিকটে যে চারটি অরক্ষিত গ্যাপ দিয়ে অবৈধ অভিবাসী, চোরাকারবারীসহ অপরাধী চক্রের লোকজন অপ্রতিরোধ্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে সেগুলো সিল করা হবে এমনভাবে যাতে কোন রকম অনুপ্রবেশ ঘটনা সম্ভব না হয় ।
পূর্ব কথা: ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ক্ষমতায় আসার অব্যবহিত পরে যে আনুমানিক ১১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন পরবর্তীতে এ প্রতিজ্ঞা থেকে তিনি পিছিয়ে যান। তার প্রশাসন অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এমন ২ থেকে ৩ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য যে ট্রাম্পের পূর্বে বারাক ওবামা অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারে ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগামী ছিলেন। ওবামাকে অনেকে “উবঢ়ড়ৎঃবৎ-রহ-ঈযরবভ” বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার শাসনামলের প্রথম দুই বছরে কোভিড সময়ের স্বাস্থ্য বিধি-নিষেধ কাজে লাগিয়ে অগুনতি অবৈধ অভিবাসীকে মেক্সিকো ফেরত পাঠান। তবে,দক্ষিণ সীমান্ত প্রায় অরক্ষিত থাকায় হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। সমালোচনার মুখে এবং বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন বহিষ্কার ব্যবস্থা জোরদার করেন। এত বেশী মানুষকে বহিষ্কার করা হয় যে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ট্র্যাম্পের সময়ের বহিষ্কারের গড় সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ সাল থেকে হিসেব করলে তিন প্রেসিডেন্টের এক্ষেত্রে অর্জন নিম্নরূপঃ
ওবামার ১ম টার্ম- ২.৯ মিলিয়ন;
ওবামার ২য় টার্ম- ১.৯ মিলিয়ন;
ট্র্যাম্প (২০১৭ থেকে ২০২০) ১.৫ মিলিয়ন ।
বাইডেন ২০২১ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মেয়াদে ১.১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। ধারণা করা যায় যে, তার টার্ম শেষ হতে হতে তিনি ট্রাম্পের অর্জনকে অতিক্রম করে যাবেন।
ম্যানহাসেট হিলস, লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক
Posted ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh