ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০২৪ নির্বাচনে অভিবাসন একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাক্তণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শাসনামলে অভিবাসন ইস্যুনিয়ে প্রচুর হাঁকডাক হম্বিতম্বি করেন। প্রেসিডেন্ট হলে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে আলাদা কে আটক করবেন এবং ত্বরায় বহিষ্কার করবেন। অবশ্য মাঝে মাঝে এ প্রত্যয়, প্রতিজ্ঞায় পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। পাঠকদের নিশ্চয় মনে আছে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি মেক্সিকোকে তাদের অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে বলেছিলেন; এই বলে হুমকি দিয়েছিলেন যে, অরক্ষিত সীমান্ত তিনি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিবেন এবং এ কাজ করতে যা খরচ হবে তা মেক্সিকোকে বহন করতে হবে। বাস্তবে কানাকড়িও মেক্সিকো দেয়নি।
মেক্সিকোর তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট অ্যানরিক পেনা নীয়েতু (Enrique Pena Nieto) মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন যে তার দেশ কানাকড়ি খরচ ও শেয়ার করবে না। প্রচুর তামাশার পড় ২০১৮ সালে ট্রাম্প এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৩৭৬৭ বলে ট্রাম্প ওয়াল নির্মাণ এর কাজ শুরু করেন। এ দেয়াল আসলে ৪৫৫ মাইল বেরিয়ারের সাথে অরক্ষিত স্থানে ৪৯ মাইল যোগ করেন। এছাড়া, একটি প্রাইভেট কোম্পানি টেক্সাসের এল পাসোঁ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর ৫ মাইল দেওয়াল নির্মাণ করে। প্রাকৃতিক কারণে ৩০০০ বার ধ্বসে গেলে স্টিভ ভেনন সহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়। বাইডেন ক্ষমতায় এসে এ সংক্রান্ত সব গুলো প্রজেক্ট বন্ধ করে দেন। অনেকের ব্যক্তিগত জমি ফিরিয়ে দেয়া হয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসের ২৮ তারিখে বাইডেন প্রশাসন ঘোষণা দেন যে, অ্যারিজোনার ইউমা সন্নিকটে যে চারটি অরক্ষিত গ্যাপ দিয়ে অবৈধ অভিবাসী, চোরাকারবারীসহ অপরাধী চক্রের লোকজন অপ্রতিরোধ্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে সেগুলো এমনভাবে সিল করা হবে, যাতে কোন রকম অনুপ্রবেশ ঘটনা সম্ভব না হয়।
পূর্ব কথা হল, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ক্ষমতায় আসার অব্যবহিত পরে যে আনুমানিক ১১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন পরবর্তীতে এ প্রতিজ্ঞা থেকে পিছিয়ে যান। তার প্রশাসন অপরাধী হিসেবে সনাক্ত ২ থেকে ৩ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে দিপ[অরত করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, ট্র্যাম্পের পূর্বে বারাক ওবামা অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারে ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগামী ছিলেন। ওবামাকে অনেকে ‘Deporter-In-Chief’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন টার শাসনামলের প্রথম দুই বছরে কোভিড সময়ের স্বাস্থ্য বিধি নিষেধ কাজে লাগিয়ে অগুনতি অবৈধ অভিবাসীকে মেক্সিকো ফেরত পাঠান।
তবে,দক্ষিণ সীমান্ত প্রায় অরক্ষিত থাকায় হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। সমালোচনার মুখে এবং বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন বহিষ্কার ব্যবস্থা জোরদার করেন। এত বেশী মানুষকে বহিষ্কার করা হয় যে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের প্রথম পাঁচ মাস্যা ট্রাম্পের সময়ের বহিষ্কারের গড় সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ সাল থেকে হিসেব করলে তিন রাষ্ট্রপতির এক্ষেত্রে অর্জন নিন্মরূপঃ ওবামার ১ম টার্ম- ২.৯ মিলিয়ন; ওবামার ২য় টার্ম- ১.৯ মিলিয়ন; ট্রাম্পের সময়ে (২০১৭ থেকে ২০২০) ১.৫ মিলিয়ন। বাইডেন ২০২১ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সময়ে ১.১ জন অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছেন। আশা করা যায় তার টার্ম শেষ হলে তিনি ট্রাম্পের অর্জনকে ছাড়িয়ে যাবেন।
Posted ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh