ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন সম্পর্কে টানাপোড়েন অবস্থা দীর্ঘদিনের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম টার্মে যে অবনতি হয়েছিল তা দ্বিতীয় টার্মে অনুসৃত বানিজ্য এবং ট্যারিফ আরোপ দৃশ্যমান ভাবে চীনের সাথে সম্পর্ককে জটিলতর করেছে। বিদেশ সম্পর্ক বিষয়াদি, যেমন চীন-তাইওয়ান স্পর্শকাতর সম্পর্ক, ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ, চীনের সাথে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার, কম্বোডিয়া সম্পর্ক ইত্যেকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ঘোলাটে করে রেখেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীন অন্তত একটি ইস্যুতে কথা বলছে একই সুরে।
আর তা হলো পাকিস্তান প্রশ্নে।ভারতের চিরশত্রু পারমাণবিক শক্তিধর একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্প্রতি তার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। চীন পাকিস্তানের যে ঐতিহাসিক মিত্রতার সম্পর্ক তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এ বন্ধুত্ব ভারতের জন্য সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ ত্রি-শক্তির সম্মিলন ভারতের জন্য নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে। পাকিস্তানের সাথে ভারতের তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধ হয়েছে। চীন দুবার ভারতকে সীমান্ত যুদ্ধে নাকানি চুবানি খাইয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ডিফেন্স এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ চুক্তি দেশ দুটোকেই অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এ নিয়ে চীন খোশমেজাজে কারণ প্রতিপক্ষ ভারতের এতে কোনঠাসা অবস্থা। খনিজ প্রকল্পটি থেকে চীন লাভবান হবে কারন বেলুচিস্তানের যে বন্দর আমেরিকা ব্যবহার করবে তার মালিকানা চীনের। সিল্ক রোড হয়ে পরিবহন বাণিজ্যে ও চীন বেশ লাভবান হবে। যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে বেলুচিস্তানের অশান্ত অঞ্চল এবং দৃশ্যত আফগান সীমান্ত নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ করা পাকিস্তানের জন্য সহজ হবে।
অর্থনৈতিক ফায়দার ব্যাপার তো আছেই। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আস্থায় নিচ্ছে এ সত্য ভারতের সহ্য করা কঠি। তার উপর সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলো নিয়ে বাংলাদেশের নিত্য হুমকিমূলক কথাবার্তা, চীনের সাথে সীমান্ত বিরোধ সব মিলিয়ে মোদির ভারত ভাল নেই।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের কয়েকদফা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এবং ট্রাম্পের প্রসারিত হাতে তাঁকে সম্বর্ধনা জানানো, হোয়াইট হাউসে একান্তে বৈঠক ভারত ভালো চোখে দেখেনি। গাজায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পাহারা দেয়ার উদ্যোগের আলোচনায় ভারতের গাত্রদাহ অনুমান করা যায়। বলাই বাহুল্য, ভারত আমেরিকা চীন সম্পর্কে পাকিস্তান প্রশ্নে উষ্ণতা মোটেও ভাল চোখে দেখছে না। চীন বাংলাদেশ মাখামাখি, নদী শাসন এবং পরিবহন নিয়ে আলোচনা ভারতের গাত্রদাহের উদ্রেক করেছে। চীনের মায়ানমারের সাথে, বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্কের উদয়ন ভারতের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে, সুনয়নে দেখছেনা মোটেও।
Posted ১২:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh