ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
পার্ল হারবারে জাপানের বিমান হামলা এবং প্রত্যুত্তরে হিরোশিমা নাগাসাকিতে আমেরিকার আনবিক বোমা বিস্ফোরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি আনয়ণে এককভাবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ঐতিহাসিক এ সত্য মেনে নিতেই হয়। বর্তমান সময়ে যখন পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে তখন জাপানের দিকে তাকালে সম্ভ্রমের সাথে ভীতির উদয় হয়। সম্ভ্রম এজন্য যে জাপান যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রত্যক্ষভাবে শামিল হয়েছে।
আনবিক প্রযুক্তির সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞের নিষ্ঠুর স্বাক্ষ্য ধারণ করেছে প্রত্যক্ষ ভাবে। আশি বছরের ও বেশী সময় সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মত ফুঁসে ফুঁসে শ্রান্ত ক্লান্ত হয়েও বিস্ফোরণোন্মুখ হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্ব দেশটিকে বাধ্য করেছে রণসজ্জায় সজ্জিত হতে। চীন আর তাইওয়ান সম্পর্কের অতি নাজুক অবস্থা এবং সম্প্রতি চীনের যুদ্ধংদেহী আচরণ জাপানকে ভীতসন্ত্রস্হ করে তুলেছে তুমুলভাবে।
চীন-জাপান সম্পর্ক এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। চীন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে জাপানের সমরাস্ত্র তৈরীর সরকারী এবং সিভিলিয়ান কারখানাগুলোর জরুরি ভিত্তিক যোগসাজশের উপর। চীন প্রপগান্ডা এবং কূটনৈতিক লড়াই জোরেসোরে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০১৬ জুন মাসে আমেরিকার পাবলিক ব্রডকাস্টিং সিস্টেম (পিবিএস) এ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে জাপান আনবিক শক্তি হওয়ার সকল প্রস্তুতি সুসম্পন্ন করে ফেলেছে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্টকে খোলামেলা ভাষায় এ মূল্যায়ন অবহিত করেছেন। সম্প্রতি চীন Nuclear Ambitions of Japans Right Wing Forces: A Serious Threat to World Peace “শীর্ষক ত্রিশ পৃষ্ঠার রিপোর্টে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে চীনের অফিসিয়াল মূল্যায়ন উপস্থাপন করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে জাপান সংগোপনে উন্নত মানের প্লুুটোনিয়াম তৈরি করে আণবিক প্রযুক্তির জগতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে।
প্রয়োজনে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে আনবিক শক্তি ব্যবহার করে জাপান নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হতে সক্ষম। প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সামর্থ একযোগে কাজ করে জাপানকে নিশ্চিত ভাবে পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। জাপানে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা ও চীনকে শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করার স্বপক্ষে। চীন জাপানের সামরিক প্রস্তুতিকে মিলিটারিজম বলে প্রচার করছে।
চীন জাপানের এ ধরনের সাফল্যের সম্ভাবনায় ভীত সন্ত্রস্ত। তাই আমেরিকার মতো বৈরী শক্তির যোগসাজশে হলেও জাপানকে পারমাণবিক শক্তি হতে বাধা দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে। চীন এ ব্যাপারে কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে বদ্ধপরিকর।
তবে তাইওয়ানের ব্যাপারে দেশটিকে স্বীকৃতি দেয়নি (এ দলে আমেরিকাও অন্তর্ভুক্ত) এমনসব দেশও চীনের আগ্রাসন নীতির বিরোধিতা করে আসছে। জাপান, সাউথ কোরিয়া, ফিলিপাইনস, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের বিরোধিতা করবে বলে মনে হয়। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরান, কম্বোডিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো চীনকে সমর্থন করবে। অনুমিত এ সমীকরণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে। ইয়ামেনের হোতি গোষ্ঠী, এবং আরো কিছু আঞ্চলিক শক্তি চীনের সাথে থাকার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
জাপান প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্স বাজেট যে ভাবে বৃদ্ধি করেছে (জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ) তাও চীনের জন্য ভীতিকর। APAC সামিটের সাইড লাইনে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রেসিডেন্টের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অন্তরঙ্গ বৈঠক চীন সুনজরে দেখছে না। দক্ষিণ কেরিয়ার সাথে চীন দহরম মহরম করে যাচ্ছে বিগত কয়েক সপ্তাহ যাবত। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও জাপানকে আনবিক প্রযুক্তি, মহাকাশে রকেট প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছে। চীনের এইসব কূটনৈতিক তৎপরতা জাপানভীতি এবং সমীহের যুগপৎ দিক নির্দেশ করে সন্দেহাতীতভাবে। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সম্পৃক্ততা চীন কোনোভাবেই চায়না যে এটিই হলো প্রকৃত সত্য।
১৯ জানুয়ারি, রতনপুর, নোয়াপাডা, মাধবপুর, বাংলাদেশ।
Posted ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh