আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে বৃটেন এবং ফ্রান্সের যৌথ সম্মতিতে ফ্রান্স ১৯২০ সালে লেবানন শাসনের ম্যান্ডেট লাভ করে । ফলশ্রুতিতে ১৯২০ থেকে ১৯৪৩ সময়ে মূলত কলোনী হিসেবে ফ্রান্স দেশটি শাসন করে । এ ব্যবস্থায় পূর্বেকার মাউন্ট লেবানন, এবং আউটার ভাগ যা ভূমধ্যসাগর উপকুলীয় এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তার সাথে বেক্কা এবং আক্কার ভ্যালি বা সমতল উর্বর কৃষিভূমি যুক্ত করা হয় । ভূমধ্যসাগরীয় ফলমূল, মৎস্য সম্পদ, বানিজ্য সুবিধা, তদুপরি সুজলা সুফল ভ্যালি দুটো লেবাননকে সুখী, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত হয় । প্র্যাচীর ঘেরা মনোরম বৈরুত নগরী সৌন্দর্য , বৈভব, স্ন্দুর অবয়বের অনিন্দ স্ন্দুর নারীর জন্য বারবার বহিরাগত শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে । ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় ক্রুসেড সময়ে খ্রিষ্টান সেনাপতি ও যুবরাজগণ বারবার দেশটিতে হানা দিয়েছে, লুটতরাজ, নারীহরণ এসব কুকর্ম করেছে । বিধবা রাণী ইসাবেলাকে পাহারা দিতে মিশর থেকে সুলতান বাইবর বৈরুতে সৈন্য পাঠান । স্বামী হ্যামু মৃত্যু আসন্ন জেনে তাকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে সাইপ্রাসের লোভী রাজা হোগ ইসাবেলাকে অপহরণ না করতে পারে এবং বৈরুত দখল করতে না পারে । মামেলুক সুলতান তার অনুরোধ রেখেছিলেন । এ জাতীয় ঘটনা পরবর্তীতে লেবাননের রাজনীতিতে প্রভার ফেলে। মেরনাইট ক্রীষ্টানদের আজন্ম স্বপ্ন লেবাননে তাদের ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করবে এ স্বপ্ন নস্যাৎ হয় । সাংস্কৃতিক আধিপত্যে বিশ্বাসী ফরাসি কলোনিয়ান শাসকগোষ্ঠি ফরাসি ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে । ফরাসি ভাষা অফিসিয়াল ভাষার স্হান দখল করে নেয় । ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যেকার কলহ বিবাদ নিরসনে মেরন্যাইট খ্রিষ্টান, সুন্নী মুসলমান এবং শিয়া সম্প্রদায়কে একটি ফর্মুলার মাধ্যমে নির্বাচন এবং সরকার গঠনে অংশীদার করা হয় । অদ্যাবলী, গৃহযুদ্ধ, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ, সিরিীয় ফ্যাকশন, ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু সবাই ফরাসি কলোনিয়ান শাসকদের প্রবর্তিত রাজনৈতিক বিভাজিত সরকার ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে ।
আমেরিকার প্রভাব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যমান । ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সময়ে যে গৃহযুদ্ধ তার প্রেক্ষাপটে তা বৃদ্ধি পায় । লেবাননের দূর্বল সেনাবাহিনী আমেরিকা এবং ইসরায়েলের কুটনৈতিক এবং সামরিক সাহায্য ছাড়া প্যালেষ্টাইনের উদ্বাস্তুদের জমিয়ে রাখতে শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে । ইরানের প্রত্যক্ষ সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ বাহিনীকে দক্ষিন লেবানন বলতে গেলে ছাড দিয়ে দিয়েছিল । সম্প্রতি সময়ে ইসরায়েল বৈরুত নগরী এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ বাহিনীর নেতাদের বাছাই করে মেরে ফেলেছে । আমেরিকা সিরিয়ার মদদপুষ্ট ইসলামী জঙ্গিদের কোণঠাসা করেছে । আমেরিকার বন্ধুত্ব এবং অভিভাবকগুলো আচরণ, এমনকি হন্বিতম্বি, মেরোনাইট খ্রিস্টান, সুন্নী মুসলমান এবং ড্রুজ ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো স্বাগত জানালেও শিয়া মুসলমান সম্প্রদায় কখনো তা মেনে নেয়নি। ইরানের মদদপুষ্ট শিয়া সম্প্রদায় লেবাননের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন অজুহাতে নাক গলিয়েছে। এখনো তাই হচ্ছে।
সত্তর দশকে জর্দানের বাদশাহ প্যালেষ্টাইনি উদ্বাস্ত্ ুশিবিরগুলোতে তার পাকিস্তানি প্যালেস গার্ড লেলিয়ে আক্রমণ করলে প্যালেষ্টাইনীদের একটি বিরাট সংখ্যা সেখান থেকে এসে দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুত নগরীতে আস্হানা গডে । দূর্বল প্রতিরক্ষা বাহিনী এ স্রোত ঠেকাতে ব্যর্থ হয় । সরকার ব্যবস্থা সম্প্রদায় সমন্বয়ে গঠিত বিধায় এদের প্রশ্নে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠি সমঝোতায় না গিয়ে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় । ফলশ্রুতিতে গৃহযুদ্ধ বাঁধে । সিরিয়া, ইরান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সংশ্লিষ্টতা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিভাত হতে থাকে, বিশেষত আমেরিকার দুতাবাস আক্রান্ত হলে । সিভিল ওয়ার সময় এবং এর অব্যবহিত পূর্বে ইসরাইল বৈরুতে বিমান হামলা চালাতে থাকলে বৈরুতের অর্থনৈতিক অবস্হা দ্রুত সমস্যা সংকুল হয়ে পডে । দক্ষিণ লেবানন কার্যত হিজবুল্লাহ বাহিনী কুক্ষিগত করে ইসরাইলে রকেট, বোমা নিক্ষেপ ইত্যোকার ধ্বংসাত্বক কার্যাদি করতে থাকে । ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্হানে গেলে সিরিয়ার হাফেজ আল আসাদের পতন ত্বরানিত হয় । হিজবুল্লাহ বাহিনী নাকানিচুবানি খেলেও দমে যায়নি । হিজবুল্লাহ নেতা নঈম কাসেমী হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল আকর্মণ বন্ধ না করলে বৈরুতে কোন প্রাণের স্পন্দন শোনা যাবেনা; দেশ হিসেবে লেবানন হবে জনবিচ্ছিন্ন, ঘোর তমসা আবৃত। গৃহযুদ্ধে দেশটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আস্ফালন করে বলেছেন, কোন শক্তিই হিজবুল্লাহ এবং তার সমর্থকদের লেবাননে উপস্হিতি এবং বিচরন বন্ধ করতে পারবেনা ।
Posted ৯:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh