ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪
শান্তি বিশ্ব থেকে দ্রুত উবে যাচ্ছে। গত সপ্তাহের সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকা একই থিম নিয়ে লেখায় বলেছিলাম মূলত ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত প্রায় বছর যাবত যুদ্ধ নিয়ে। আমেরিকা এবং এর মিত্র দেশগুলির ইউক্রেনকে যখন উদার হস্তে সাহায্য সহায়তা করে এবং তা বজায় রাখে, বিশেষত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মত গলা বারুদ ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করে তখন শক্তিশালী রাশিয়া বেশ বেকায়দায় পরে। আমেরিকান কংগ্রেস দেশটিকে সাহায্য দেয়ার বিষয়টি সবসময় জরুরী এবং সহানুভূতি, সহযোগিতাও সহমর্মিতার চোখে দেখে না। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কট্টর অনুসারীরা ঘরে বাইরে রাশির প্রতি তোষণ নীতি পোষণ করে। ২০১৬ প্রেসিডেন্ট নির্বাসনের মত রাশিয়ার পরোক্ষ এবং কূটনৈতিক সাপোর্ট আশা করে ২০২৪ নির্বাচনেও। ট্রাম্প এবং পুতিন রাখ-ঢাক না করেই পরস্পরের প্রতি আস্থা এবং সমর্থন ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ডেমোক্রেটিক দল এটিকে তাদের জন্য সুফল নিয়ে এসবে এমন ধারনা করেন।
২০২৪ নির্বাচন বলতে গেলে খুবই সন্নিকটে। আগামী কাল, ২৭ জুন ২০২৪ তারিখে প্রতিদন্ধি দুজনের মধ্যে প্রথম সরাসরি বাহাস বা ডিবেট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বের অগণিত মানুষ অধীর আগ্রহে, উৎকণ্ঠায় এ প্রতিদন্ধিতার জন্য অপেক্ষা করছে। নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমান বিশ্বের চলমান রাজনীতি, আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত, বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিযোগিতা, অক্ষশক্তি সমূহের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রতিযোগিতা, সমুদ্রে আধিপত্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ, এমনটি মহাশূন্যে কে বা কারা আধিপত্য বিস্তারে এগিয়ে থাকবে এসবই প্রভাবিত করবে আমেরিকার ২০২০ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
আমেরিকার ভবিষ্যৎ তো বটেই, সম্ভবত পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে অনেকাংশে নির্ধারণ করবে এ ইলেকশন। মধ্যপ্রাচ্যে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ, হিজবুল্লাহ তথা ইরানের ভূমিকা, লেবাননের ভবিষ্যৎ এসব আরো ঘোলাটে হবে, ইসরায়েল মরিয়া হয়ে অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ সরঞ্জাম নির্মাণ ও ব্যবসায় পুরোমাত্রায় নেমে পরবে এবং চীন ও ভারতের মধ্যেকার অবিশ্বাস ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি এবং কূটকৌশলের আঞ্চলিক রাজনীতি পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের স্তিতিশীলতা ও শান্তি পর্যুদস্ত করবে। তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চীনের হুমকি এবং প্রসূত শঙ্কা চরম অশান্তির রূপ পরিগ্রহ করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমালোচকরা তাঁর বয়স এবং মানসিক তৎপরতা নিয়ে হরহামেশা কথা বলছেন। মুদ্রাস্ফীতি, ইমিগ্রেশন, খুন জখম অর্থাৎ আইন শৃঙ্খলা পরিস্তিতি নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের নিন্দায় মুখর। অন্যদিকে, জোর করে ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল, স্টরমি ড্যানিয়েলের হ্যাস মানি মামলায় ৩৪টি অভিযোগে অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত এই একটি কারণেই দ্রুত সমর্থন হারাচ্ছেন, বিশেষত নির্দলীয় এবং মহিলা ভোটারদের। বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমের মতে সামান্য পয়েন্টে এগিয়ে থাকা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বর্তমান সময়ে প্রার্থী জো বাইডেনের থেকে প্রায় ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন। অনেকে মজা করে বলছেন, বয়সের ভারে ম্রিয়মাণ বাইডেন এ কদিন ধরে অনুশীলন করছেন যাতে ডিবেটের ৯০ মিনিট এক নাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হন; অন্যদিকে ট্র্যাম্প তাঁর রাগ ও বদমেজাজ কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন সে ব্যাপারে এ কদিন যাবত উপদেষ্টারা অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
Posted ১২:৪২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh