ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৪
চলে যাচ্ছেন তারা একে একে, এলাকাটিকে অনুকরণযোগ্য সৎ মানুষের শূন্যতার মধ্যে ফেলে। জুলাই ২০২৪ এ চলে গেলেন প্রিয় বাল্যবন্ধু ড. কামরুল আহসান। মৃত্তিকা বিজ্ঞানী বন্ধুটি দেশের বিশিষ্ট চা গবেষক ছিলেন। দেশের তথা এশিয়ার অন্যতম চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্রীমঙ্গল চা-গবেষণা ইনষ্টিটিউটের (বিটিআরআই) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। নিজস্ব যোগ্যতা, প্রতিভা ও প্রচেষ্টায় একজন কর্মবীর, পরিবার হিতৈষি সজ্জন মানুষ হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার মত মানুষটি ৭৮ বছর বয়সে স্ট্রোক করে প্রায় চলৎশক্তি হারিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এ সময়টি দেশে কোটা আন্দোলন চলছিল, যে অজুহাতে সরকারী দমন নীতির অংশ হিসেবে ই-ফোন, ই-মেইল সহ বিভিন্ন সহজ যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ ছিল। তার স্ত্রী, সন্তানদের সমবেদনা জানাতে পারিনি সময়মতো, বন্ধুর মৃত্যু সংবাদ ও পেয়েছি অনেক দেরীতে। আমাদের এলাকার একজন নিপাট ভালোমানুষ, কর্মবীর, সকলের মঙ্গল কামনায় উদগ্রীব ও তৎপর থাকা সুপ্রিয় কামরুল চলে গেলেন, এ বিয়োগ আমার জন্য খুবই কষ্টকর। বাড়ী গেলেই অসুস্থ অবস্থায়ও চলে আসতেন লাঠি ভর করে বা টমটমে করে। এ ভালোবাসা, সৌজন্য নিছক প্রদর্শনের জন্য ছিলনা, প্রাণভর মায়া-মমতা, সৌহার্দ-সঞ্জাত ছিল নিসন্দেহে।
একজন পরিবার, সম্প্রদায় ও সমাজ দরদী মানুষ ড. কামরুল অসংখ্য মানুষের মন ছুঁয়ে গেছেন। পরিবারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যদের তিনি সুদক্ষভাবে পরিচালনা করে শিক্ষা লাভে সহায়তা করেছেন। তার শ্রীমঙ্গলের বাসা অনেকেরই আশ্রয়স্থল ছিল, যেখানে থেকে পড়াশোনা করে বেশ ক’জন জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বন্ধু কামরুল একটি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ছিলেন। আলো বিকিরণ তার আদর্শ ও নেশা ছিলো। সার্থক, পরিপূর্ণ জীবন যাপন করে বন্ধুটি পরপারে চলে যেতে পেরেছেন অগনিত মানুষের দোয়া, ভালোবাসা নিয়ে ।
ড. কামরুল দেহত্যাগ করার পূর্বে এলাকার আরও ক’জন সুসন্তান রেখে গেছেন। রজব আলী, রহম আলী এবং জিয়া উদ্দিন – এ ত্রয়ী মানুষ গড়ার কারিগর ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এ পেশায় এলাকার অনেকেই ছিলেন, আছেন ও। স্কুলে সময়মত পৌঁছার যে নিয়মানুবর্তিতা তা কোনদিন পরিত্যাগ করে স্কুলে উপস্থিত থাকার সময়ে পারিবারিক কাজে সময় ক্ষেপণ করেছেন এমন অনুযোগ কারো কাছ থেকে তাদের সম্বন্ধে শুনিনি। পেশায় নিরন্তরভাবে সৎ, কর্মঠ, শিক্ষাদানে সর্বদা মনোযোগী ও একনিষ্ঠ ছিলেন এ তিনজন সু-মানুষ। তাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। শ্লাঘার সাথে, যারপরনাই শ্রদ্ধার সাথে এ তিনজন শিক্ষকের কথা বলেন ।
আমি যে এলাকার কথা বলছি এটি একটি শিক্ষিতজন অধ্যুষিত জনপদ। পাঁচ ছয়জন পিএইচডি ধারী যেমন আছেন, ডাক্তার, উকিল, সামরিক, আধা সামরিক বাহিনী, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবী ও আছেন। সুজন মানুষের কাতারে উদাহরণ সৃষ্টিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন আমার বন্ধু ড. কামরুল এবং আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ প্রিয় মানুষ আলোচিত তিনজন শিক্ষক। তারা নিজেদের পেশার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন এমনটি দেখিনি, শুনিনি। তাই তো তারা আমার প্রিয়, এলাকার মানুষজনের কাছে সমাদৃত। তারা ভবিষ্যতে ও বেঁচে থাকবেন। আপনারা সবাই আল্লাহ তায়লার রহমত ভোগ করুন পরপারে এ কামনা করি। দোয়া নিরন্তর গুণীজন।
Posted ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh