ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ নির্বাচন সমাগত প্রায় । আর বাকী মাত্র দু’মাস । এমন ক্রান্তিলগ্নে অনেক কিছুই ঘটছে । নির্বাচনী কৌশলে নিত্য নতুন পরিবর্তন, পরিবর্ধন হচ্ছে । প্রচারণা জোরদার হচ্ছে , কমালা হ্যারিসের টীমে তার যুদ্ধংদেহি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একসময়ে যুদ্ধের মাঠে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণকারী ওয়ালজ্ যুক্ত হওয়ায় ট্রাম্প টিমকে জবরদস্তভাবে মোকাবেলা করা যাচ্ছে । ছেড়ে কথা বলার লোক নন এ গভর্ণর । তার সামনে ট্রাম্পে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অনেকে ম্রিয়মান মনে করেন ।
প্রচারণায় গ্রামে গন্জে তেমন সুবিধে করতে পারছেন না । ট্রাম্পের উল্টোপাল্টা, ইতরামী বাক্যবাণের সমর্থনে যেমন চাতুর্য্য দেখাতে পারছেন না, তেমনি ভিন্ন তালে আক্রমণাত্মক কথাবার্তায় তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন । কমালা হ্যারিসের গর্ভজাত সন্তান না থাকার কারণে তাকে ‘ক্যাট লেডি’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প টিমকে বিপাকে ফেলেছেন ।
এ কারণে দলের অনেক মহিলা ভোটার হুমকি দিয়েছেন যে তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না । এমনিতেই রিপ্রডাক্টটিভ স্বাধীনতা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রতি মহিলারা ক্ষিপ্ত, কমালা হ্যারিসকে ক্যাট লেডি বলায় সমস্যা গুরুতর রূপ পরিগ্রহ করছে । ট্রাম্পকে সংশ্লিষ্ট সাইড ইস্যুতে ছাড দেয়ার ঘোষণা দিতে হয়েছে । তবু ও পাড় পাওয়া মুশকিল । বন্ধ্যাত্বকরণ এবং গর্ভপাত নিয়ে ট্রাম্পের বেকায়দা অবস্হা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে । কমালা হারিস-ওয়ালজ্ পক্ষে মহিলা ভোটারদের অধিক সংখ্যায় সংযুক্তি হচ্ছে দিনকে দিন ।
নির্বাচনী প্রচারণা সক্ষমতার বয়স একটি বড়ো নিয়ামক, ফ্যাক্টর ও বটে । আমার বয়স এখন প্রায় আটাত্তর । ট্রাম্পের ও তাই । তিনি যুবা পুরুষ নন । ৫৭ বছরের কমালা হ্যারিসের উদ্যম, উদ্যোগ, প্রাণ চান্চল্য বা এনার্জি লেভেল তার থাকার প্রশ্নই আসে না । নিজস্ব প্লেনে ক্যাম্পেইনের কাজ করছেন । কমালা-ওয়ালজ্ এর মতোন বাসে করে স্হান স্হানে থেমে নিরলস প্রচারণা কাজ ট্রাম্প করছেন না । শরীরে কুলোবে না নিশ্চিত । আইনের গ্যাডাকলে ট্রাম্প অনেক দিন আদালতে হাজিরা দেয়ার কারণে নির্বাচনী প্রচারণা কাজ পূর্ণদ্যমে করতে পারেন নি ।
ফান্ড সংগ্রহে ও তিনি কমালার ৫৪০ মিলিয়ন ডলারের ধারেকাছে ও যেতে পারেননি । দলের অভিজ্ঞজনের পরামর্শ মত পলিসি ইস্যু নিয়ে বক্তব্যে স্হির না থেকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ, অহেতুক বিষোদগার , গালমন্দ ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন । বেআইনী ইমিগ্রেশন, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, দক্ষিণ সীমান্ত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা রেখে চরিত্র হনন, জন্ম কথা, গোত্র, বর্ণ এসব নিয়ে অকথ্য ও কদর্য্য কথাবার্তা বলেন অকারণে, অকাতরে । কমালার নাম নিয়ে ও ব্যঙ্গ তার নিত্য অভ্যেস । ভোটাররা এসব পছন্দ করে না । ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা ‘ম্যাগা’ হলে অন্য কথা !
কমালা হ্যারিস অত্যধিক মাত্রায় উদার পন্হী । বর্তমান সময়ে বিশ্ব রাজনীতি উগ্র জাতীয়তাবাদ, আধিপত্যবাদ এবং সম্প্রসারণবাদের দিকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুঁকছে । মৌলবাদ তো আছেই । রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান , ইরান, ভারত, চীন, ইসরায়েল সহ অনেক দেশ ও জাতিগোষ্ঠি ছাড়া ও ইউরোপে উগ্র জাতীয়তা নগ্নভাবে আসছে এমন আলামত সম্প্রতি জার্মানীতে দেখা গেছে । সেখানকার একটি প্রদেশে নির্বাচনে নাৎসি মতবাদে বিশ্বাসী একটি উগ্র হিটলারের আদর্শের অনুসারী একটি চরম উগ্রপন্হী রক্ষণশীল দল জেতার পর্যায়ে ।
এমতাবস্হায় ট্রাম্প মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আদর্শ ও শ্লোগান ধারণ করে উগ্র জাতীয়তাবাদের দিকে এগুতে চায় নিসন্দেহে । কমালা হ্যারিসের নেতৃত্বে ডেমাক্রেট দল নির্বাচনী মাঠে এখন পর্যন্ত বেশ ভাল অবস্হানে আছে । ২৭০ ডেলিগেট ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জল তবে ব্লু ওয়াল স্টেটগুলোতে, যেমন ফেনসালভেনিয়া, মিসিগান এবং উইসকনসিন এ জেতা খুবই জরুরী । বিভিন্ন হিসেবে কমালা হ্যারিস অগ্রগামী বলা হচ্ছে কিন্তু জরিপে প্রার্থী দু জনের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান খুবই সীমিত, প্রায় সমান সমান ।। কমালা-ওয়ালজ্ টিমকে সতর্কতার সাথে এগুতে হবে ।
রিপ্রডাক্টিভ ফ্রিডম ইস্যুতে শক্ত অবস্হান নিতে হবে কারণ মহিলা ভোটারদের পক্ষে টানার এটি এক মোক্ষম কৌশল । আর্থিক ব্যবস্হাপনা ও কৌশল নিয়ে মুন্সীয়ানার সাথে বাস্তবসম্মত কথাবার্তা বলা প্রয়জোন । সন্দেহাতীত ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য নিন্মগামী করার সুকৌশল ছাড়া নিন্মবিত্তের, গ্রামে গন্জের মানুষজনের , এমনকি শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোট পাওয়া ও কঠিন হবে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের বিতর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ । মাইক্রোফোন নিয়ে যে বিতর্ক তার গভীরে গেলে ট্রাম্পের দূর্বল দিক গুলো উদ্ভাসিত হয় দিবালোকের মত । মাইক্রোফোন খোলা রাখলে ট্রাম্পের উগ্র আচরণ, কুৎসিত অংগি ভংগি সহজেই মানুষের চোখে পড়বে । চোখে চোখ রেখে শক্তভাবে কথা বলা, ট্রাম্পের ইগ্যুতে আঘাত করা, মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলা এবং আরো মামলা ঝুলে আছে ইত্যকার ঘটনাগুলো কায়দা করে ডিবেটের সময়ে সময়ে তুলে ধরা, ৬ জানুয়ারীর ন্যাক্কার জনক ঘটনা এমনতরো নিগেটিভ বিষয় অবশ্যই ট্রাম্পকে রাগান্বিত করবে এবং খেই হারিয়ে কথা বলতে প্রলুব্দ করবে ।
কমালা হ্যারিস আইন নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছেন প্রচুর, প্রসিকিউটর হিসেবে অভিজ্ঞতা আছে, কালিফোর্নিয়ার মত বড়ো, ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ, মতের মানুষের সাথে এটর্নি জেনারেল এবং তদুপরি সিনেটর হিসেবে কাজ করার বহুবিদ অভিজ্ঞতা এ সময়ে প্রতুল ভাবে কাজে লাগার কথা । তার বাচনভংগি এবং বিষয়বস্তুর উপস্হাপন চমৎকার । বিতর্কে দীর্ঘদেহী , আশি ছুঁই ছুঁই ট্রাম্পকে বিপাকে ফেলা এবং তার বিরুদ্ধে জেতা তেমন কঠিন হওয়ার কথা নয় । সোজা সাপ্টা, প্রত্যয় নিয়ে কথা বললে ট্রাম্পের ঘাবডে যাওয়ারই কথা । অপেক্ষায় আছে দেশে বিদেশে অগনিত মানুষ ১০ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য কমাল-ট্রাম্প বাহাস দেখার জন্য, ফলাফল শোনার জন্য ।
Posted ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh