ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বেশ উপভোগ্য ছিল বিতর্কটি। এবিসি নিউজের সৌজন্যে ফিলাডেলফিয়ার ন্যাশন্যাল কন্সটিটিউশন সেন্টারে আয়োজিত প্রার্থী কমালা হ্যারিস বনাম ট্রাম্প বিতর্কটি গত কয়েক সপ্তাহের সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সমাপ্ত হল। চুলচেরা বিশ্লেষণ ডিবেট শেষ হওয়ার পর পরেই শুরু হয়। চলবে নির্বাচনের দিন অব্দি এবং তার পরবর্তীতেও দীর্ঘদিনব্যাপী। হিলারী ক্লিনটন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন- এ দু’জনের কেউই ট্রাম্পের সাথে বিতর্কে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। জো বাইডেন তো কমালাকে মঞ্চ দিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বুদ্ধিমানের মতো সরে দাঁড়ালেন। হিলারি ক্লিনটন বোধকরি নির্বাচনে হেরে গিয়ে বাঁচলেন। কমালা হ্যারিসের ভাগ্যে কি আছে তা একমাত্র আল্লাহ মালুম। তবে তিনি চরম নির্লজ্জ, গোঁয়ার গোবিন্দ ট্রাম্পকে এক হাত দেখিয়ে দিয়েছেন। বেশ কিছু নিরিখে মনে হয় আল্লাহ চাহেত তিনি জিতে যেতেও পারেন।
বিতর্ক পর্যালোচনায় সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় ট্রাম্প কমালার হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন বেশ ভালভাবেই। তার দলের লোকজন অবশ্য চিরাচরিত কায়দায় বলছেন যে, সমন্বয়ক দুজন কমালা হ্যারিসকে বেকায়দা থেকে ইস্যু বদলিয়ে উদ্ধার করতে কসুর করেননি মোটেও। কথাটির সত্যটা নিয়ে অনেকের মত আমারও সন্দেহ আছে । অনেকে লক্ষ্য করে মর্মাহত হয়েছেন যে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসার জবাব দিতে অনেক বেশী সময় দেয়া হয়েছে, এমনকি তিনি কথার উপর কথা বললেও তার বেলায় মাইক বন্ধ করা হয়নি।
বিতর্কের শুরু থেকেই ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রার্থী কমালা হ্যারিসের যৌক্তিক আক্রমণের প্রতিউত্তরে গাঁ বাঁচানো (defensive) কৌশল বেছে নেন। মডারেটরদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প তথ্য-উপাত্ত না দিয়ে তিনি একরোখা জবাব দিতে চেষ্টা করে কমালার হাসির শিকার হন । বাড় বাড় বলতে থাকেন যে তিনিই স্মরণকালের শ্রেষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ ধরণের বালখিল্যতার পরিণতিতে প্রাক্তণ প্রেসিডেন্ট শুধু জনপ্রিয়তাই হারাবেন না, এতদিন যারা দোদুল্যমান ছিলেন, নিরপেক্ষ ছিলেন তাদের ভোট ও হারাবেন। কমালা হ্যারিস তো নাম ধরেই বেশ ক’জন বিখ্যাত রিপাবলিকান নেতার উল্লেখ করেছেন যারা সম্প্রতি তাকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। বিতর্ক চলাকালীন সময়ে টিভি’র পর্দায় ভেসে ওঠে যে জনপ্রিয় গায়িকা টেইলর সুইফট (Taylor swift) কমালাকে সমর্থন (endorse) করেছেন। ট্রাম্প ও তাঁর দল এ ব্যাপারে পূর্বে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে রটিয়েছিল যে টেইলর সুইফট ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছে।
ট্র্যাম্পের মিথ্যে বলা আরও কিছু বক্তব্য কমালা হ্যারিস বিতর্কের সুযোগ নিয়ে জনসমক্ষে তুলে ধরতে পেরেছেন। অবশ্য ট্রাম্পের দাম্ভিকতা, মিথ্যে বলার অভ্যেস, অন্যদের হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টা বিতকের সময় তার চরিত্র প্রকাশ পেতে সহায়ক হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সীমান্ত দিয়ে আশা অবৈধ মাইগ্রেন্টদের ক্রিমিনাল আখ্যায়িত করার ব্যাপারটি। তারা সবাই কি জেল ফেরত? হেইশিয়ানরা কুকুর, বেড়াল খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে মর্মে মিথ্যাচারেও বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান, তারিখ, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি নিয়ে মিথ্যাচারে ট্রাম্প যেসব কাহিনী বলেছেন কমাল হ্যারিস তা তুলে ধরেন। সমন্বয়ক কমালা হ্যারিসের গাত্রবর্ণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেয়া ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে বললে ট্রাম্প কোন একটি লেখায় পড়েছেন বলে এড়িয়ে যান। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি সংঘটিত ঘটনার সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা ট্রাম্প অস্বীকার করেন। উল্টো তদানীন্তন স্পিকারের কর্তব্যে অবহেলাকে তিনি ভাংচুর, প্রাণহানি এসবের জন্য দায়ী করেন। ২০২০ নির্বাচনে হেরেছেন এ সত্য এখনো অস্বীকার করেন।
কমালা হ্যারিস উগ্র বামপন্থি লিবারেল চিন্তা চেতনা লালন পালন করেন বলে অপবাদ দেন। দক্ষিণ সীমান্ত প্রশ্নে ট্র্যাম্প কমালা হ্যরিস্কে দোষারোপ করেন। সত্য হল বাইডেন সরকারের এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বারবার হাউজ পাশ করতে ব্যর্থ হয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে লয়মায় সমস্যাটির সমাধান করতে পারবে বলে আশ্বাস দেন। যেমনটি তিনি ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, ইসরায়েল হামাস সংঘাত, ইরান, আফগানিস্তান প্রসঙ্গে ও বলেন।
ট্রাম্প বারবার বাইডেনকে নিয়ে আক্রমণাত্মক কথার অবতারণা করলে কমালা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, আপনি আমার সাথে নির্বাচন করছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে নয়। বিতর্কের সময়ে অন্তত দু’বার এ কথাটি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন। বাইডেন অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি, ইমিগ্রেশএবং , পররাষ্ট্র বিষয়ক সমস্যা সমাধানে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এ কথা বারবার বলার এক জুতসই সুযোগে কমালা হ্যারিস বলেন যে,তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে তিনি জো বাইডেন নন, ট্রাম্প তো অবশ্যই না। দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, আমি দেশের জন্য নতুন এক নেতৃত্ব নিয়ে আসছি এবং সেই সাথে সম্পূর্ণ নতুন, প্রাণবন্ত সজীব নেতৃবর্গের একটি উদ্দীপ্ত টিম। সম্পূর্ণ বাহাস শুনে মনে হয়েছে প্রাক্তণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়েছেন।
Posted ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh